প্রতিনিধি ৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ , ৬:৩৫:১৮ প্রিন্ট সংস্করণ
হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে যাত্রীসেবার মান বাড়াতে এবং ব্যাগেজ হস্তান্তরের সময় কমিয়ে আনতে কঠোর নির্দেশনা দিয়েছেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত। সেবায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে বিমানবন্দরে লাইভ মনিটরিং স্ক্রিন স্থাপনের পাশাপাশি গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিংয়ে নিয়োজিত কর্মীদের দায়িত্ব পালনে আরও তৎপর হওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।
আজ রোববার সকালে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর আকস্মিক পরিদর্শনে গিয়ে তিনি এসব নির্দেশনা দেন। পরিদর্শনকালে দুপুর ১টায় বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের জেদ্দা–চট্টগ্রাম–ঢাকা রুটের একটি ফ্লাইট বিমানবন্দরে অবতরণ করে। এ সময় মন্ত্রী সরাসরি উপস্থিত থেকে উড়োজাহাজের কার্গো হোল্ড খোলা, ব্যাগেজ হ্যান্ডলিং এবং বেল্ট দিয়ে যাত্রীদের কাছে নিরাপদে মালামাল পৌঁছানো পর্যন্ত পুরো প্রক্রিয়া সরেজমিনে তদারকি করেন।
উপস্থিত কর্মকর্তাদের উদ্দেশে বেসামরিক বিমান পরিবহনমন্ত্রী বলেন, বিমানবন্দরে পৌঁছানো যাত্রীদের ভোগান্তি কমাতে ব্যাগেজ ব্যবস্থাপনার সময় কমিয়ে আনা অত্যন্ত জরুরি। ব্যাগেজ দ্রুত হস্তান্তরের লক্ষ্যে তিনি উড়োজাহাজ অবতরণের পর প্যাসেঞ্জার গেট ও কার্গো হোল্ড খোলার সময়ের মধ্যে কার্যকর সমন্বয় (সিনক্রোনাইজেশন) বজায় রাখার নির্দেশ দেন।
এছাড়া কোনো ফ্লাইট অবতরণের আগেই গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিংয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মীদের উপস্থিতি নিশ্চিত করার ওপর জোর দেন তিনি। যাত্রীদের অপেক্ষার অবসান ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে ব্যাগেজ হ্যান্ডলিং কার্যক্রমের সর্বশেষ অবস্থা সরাসরি দেখাতে লাইভ মনিটরিং স্ক্রিন স্থাপনের নির্দেশ দেন মন্ত্রী।
যাত্রীসেবার পরিবেশ উন্নত করার ওপর গুরুত্ব দিয়ে মন্ত্রী বলেন, বিমানবন্দরে আগত যাত্রীদের স্বাচ্ছন্দ্য নিশ্চিত করতে ওয়াশরুমগুলোর পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা রক্ষা করা আবশ্যক। এ সময় তিনি বিমানবন্দরের বিভিন্ন ওয়াশরুম সরেজমিনে ঘুরে দেখেন এবং পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের কার্যক্রম খতিয়ে দেখেন।
পরিদর্শনকালে আরও উপস্থিত ছিলেন বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক কাইজার সোহেল আহমেদ, বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল মোস্তফা মাহমুদ সিদ্দিকসহ বিমান ও বেবিচকের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।
বিমানবন্দরে যাত্রী হয়রানি রোধে সরকারের ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির অংশ হিসেবে মন্ত্রীর এই তদারকি উদ্যোগকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা। এসব নির্দেশনা বাস্তবায়িত হলে দীর্ঘদিনের ব্যাগেজ বিড়ম্বনা অনেকাংশেই কমে আসবে বলে আশা করা হচ্ছে।















