সারাদেশ

কুড়িগ্রামে চোখের ক্যান্সারে আক্রান্ত শিশু রাব্বী, চিকিৎসায় দরকার ৮ লাখ টাকা

  কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি: ৭ মার্চ ২০২৬ , ৫:৫৮:৩৭ প্রিন্ট সংস্করণ

কুড়িগ্রামে চোখের ক্যান্সারে আক্রান্ত সাড়ে চার বছরের শিশু রেদওয়ান ইসলাম রাব্বীর চিকিৎসার জন্য জরুরি ভিত্তিতে প্রায় ৮ লাখ টাকা প্রয়োজন। কিন্তু দরিদ্র পরিবারটির পক্ষে এত অর্থ জোগাড় করা সম্ভব না হওয়ায় দিশেহারা হয়ে পড়েছেন তার মা-বাবা। অসহায় মায়ের আহাজারি আর কান্নায় ভারী হয়ে উঠেছে চারপাশের পরিবেশ।

জানা গেছে, জেলার উলিপুর উপজেলার হাতিয়া ইউনিয়নের অনন্তপুর ভাটিগ্রামের দিনমজুর আলম বাদশা ও তার স্ত্রী রুপালী বেগমের এক ছেলে ও এক মেয়ে। ছেলে রেদওয়ান ইসলাম রাব্বী (৪) ছোটবেলা থেকেই চোখের সমস্যায় ভুগছিল। ধীরে ধীরে তার চোখ দুটি অস্বাভাবিকভাবে বড় হতে থাকে। পরে বিভিন্ন চিকিৎসকের কাছে দেখিয়ে তাকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসকরা ক্যান্সারের সন্দেহ করেন।

পরবর্তীতে গ্রামবাসীর সহায়তায় প্রায় ৭০ হাজার টাকা সংগ্রহ করে তাকে ঢাকায় Bangabandhu Sheikh Mujib Medical University-এ ভর্তি করানো হয়। সেখানে পেডিয়াট্রিক হেমাটোলজি ও অনকোলজি বিভাগের অধ্যাপক ডা. আনোয়ারুল করিম-এর তত্ত্বাবধানে পরীক্ষার পর রাব্বীর চোখে ক্যান্সার ধরা পড়ে। চিকিৎসকরা জানান, তার চিকিৎসার জন্য অন্তত ৮ লাখ টাকা প্রয়োজন।

কিন্তু ভূমিহীন এই পরিবারটির কাছে চিকিৎসার এত অর্থ নেই। দুই সপ্তাহ ঢাকায় অবস্থানের পর অপারেশনের টাকা জোগাড় করতে না পেরে সন্তানকে নিয়ে খালি হাতে বাড়ি ফিরে আসেন আলম বাদশা ও রুপালী বেগম।

সরেজমিনে গিয়ে জানা যায়, ব্রহ্মপুত্র নদ ও আশপাশের খাল-বিলে মাছ ধরে কিংবা দিনমজুরের কাজ করে কোনোরকমে সংসার চালান আলম বাদশা। বাড়ির ৬ শতক ভিটা ছাড়া বিক্রি করার মতো আর কোনো সম্পদ নেই তাদের।

স্থানীয় বাসিন্দা মনছুর আলী, সাইবেনি, নুরুন্নাহার ও ফাতেমা বেগম বলেন, গ্রামের মানুষ সামর্থ্য অনুযায়ী চাঁদা তুলে ৭০ হাজার টাকা জোগাড় করে রাব্বীর চিকিৎসার জন্য সাহায্য করেছে। কিন্তু এখন যে বিপুল অর্থ প্রয়োজন, তা গ্রামের মানুষের পক্ষে দেওয়া সম্ভব নয়। তাই তারা দেশ-বিদেশের দানশীল ব্যক্তি ও সংগঠনের কাছে সাহায্যের আহ্বান জানিয়েছেন।

রাব্বীর দাদা ফয়জার আলী ও দাদী আছিয়া বেগম বলেন, “গরিব মানুষ আমরা। নাতিটাকে বাঁচানোর মতো কোনো টাকা-পয়সা আমাদের নেই।”

রাব্বীর মা রুপালী বেগম শোকে বারবার অজ্ঞান হয়ে পড়ছেন। বাবা আলম বাদশা অসহায় কণ্ঠে বলেন, “ছেলেকে বাঁচাতে ৮ থেকে ১০ লাখ টাকা দরকার। এত টাকা কোথায় পাবো জানি না। আল্লাহর রহমত আর দানশীল মানুষের সাহায্য ছাড়া আমার সন্তানকে বাঁচানো সম্ভব নয়।”

এ বিষয়ে উলিপুর উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা লুৎফর রহমান বলেন, বিষয়টি জানতে পেরেছি। তদন্ত সাপেক্ষে সরকারি বিধি অনুযায়ী দ্রুত আর্থিক সহায়তার ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

রাব্বীর চিকিৎসায় সহায়তা করতে যোগাযোগ করা যেতে পারে তার বাবা আলম বাদশার মোবাইল নম্বরে: ০১৯৩০৬২৯১৯০।

আরও খবর

Sponsered content