প্রিন্স মন্ডল অলিফ, বাগেরহাট জেলা প্রতিনিধি ৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ , ১১:১৪:১৬ প্রিন্ট সংস্করণ
বাগেরহাটের কচুয়া উপজেলার চান্দেরকোলা গ্রামে একই পরিবারের তিন সদস্য হত্যার ঘটনায় মূল পরিকল্পনাকারীসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। পরকীয়া সম্পর্ককে কেন্দ্র করে সৃষ্ট পারিবারিক বিরোধের জেরে এ হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে বলে তদন্তে জানতে পেরেছে পুলিশ।
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, গত ২ আগস্ট দিবাগত রাত থেকে ৪ আগস্টের মধ্যে কোনো একসময় চান্দেরকোলা গ্রামে ওই পরিবারের তিন সদস্যকে হত্যা করা হয়। ৪ আগস্ট সকালে স্থানীয়দের কাছ থেকে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহগুলো উদ্ধার করে। পরে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ বাগেরহাট সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়।
এ ঘটনায় নিহতদের পরিবারের পক্ষ থেকে কচুয়া থানায় হত্যা মামলা করা হয়। মামলার তদন্তে জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) ও কচুয়া থানা পুলিশের সমন্বয়ে একটি দল গঠন করা হয়। তদন্তের পাশাপাশি প্রযুক্তিগত তথ্য বিশ্লেষণ করে হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের শনাক্ত করা হয় বলে জানিয়েছে পুলিশ।
এরপর গত ৫ সেপ্টেম্বর রাতে অভিযান চালিয়ে জাহিদুল ইসলাম, আসাদুল শেখসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
পুলিশ জানায়, নিহত আহাদের পরিবারের এক নারীর সঙ্গে জাহিদুল ইসলামের দীর্ঘদিনের সম্পর্ক ছিল বলে তদন্তে তথ্য পাওয়া গেছে। বিষয়টি নিয়ে নিহত মনিরা বেগমের সঙ্গে জাহিদুলের বিরোধ তৈরি হয়। ওই বিরোধের ধারাবাহিকতায় হত্যাকাণ্ডের পরিকল্পনা করা হয় বলে পুলিশের তদন্তে উঠে এসেছে।
পুলিশ আরও জানায়, হত্যার পর আলামত নষ্ট করে ঘটনাটি ভিন্ন দিকে নেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছিল। গ্রেপ্তার আসামি আসাদুল শেখের ঘর থেকে একটি মোবাইল ফোনসহ কিছু আলামত উদ্ধার করা হয়েছে।
বাগেরহাটের পুলিশ সুপার হাসান মোহাম্মদ নাছের রিকাবদারের স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।
পুলিশের দাবি, গ্রেপ্তারদের জিজ্ঞাসাবাদে হত্যাকাণ্ড সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেছে। উদ্ধার করা আলামত ও অন্যান্য তথ্য যাচাই করে মামলার তদন্ত এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।
একই পরিবারের তিন সদস্যকে হত্যার ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। নিহতদের স্বজনরা এ ঘটনায় জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
পুলিশ জানিয়েছে, হত্যাকাণ্ডে কার কী ভূমিকা ছিল, তা তদন্তের মাধ্যমে আরও নিশ্চিত করা হচ্ছে। গ্রেপ্তারদের আদালতে হাজির করে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।





















