আইন-আদালত

পিডিবির সাবেক প্রধান প্রকৌশলীর স্ত্রী-ছেলের জামিন

  প্রতিনিধি ৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ , ৭:১২:৫৩ প্রিন্ট সংস্করণ

স্ত্রীকে কোনো অত্যাচার, নির্যাতন করবো না। সব সময় ভালো ব্যবহার করবো এমন অঙ্গিকারনামা দিয়ে যৌতুকের নির্যাতনের মামলায় বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড-পিডিবির সাবেক প্রধান প্রকৌশলী মো. হযরত আলীর ছেলে মুনতাসীর মামুন ওস্ত্রী নাজমা সুলতানা জামিন পেয়েছেন।

আজ রোববার ঢাকার অ্যাডিশনাল চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জশিতা ইসলাম উক্ত অঙ্গিকারনামা গ্রহণ করে তাদের জামিনের আদেশ দেন। সংশ্লিষ্ট আদালতের বেঞ্চ সহকারী আশুতোষ ভৌমিক বলেন, আদালত বাদীর সাথে আপোসের শর্তে আগামী ৪ অক্টোবর পর্যন্ত তাদের জামিন মঞ্জুর করেন।

গত ২৭ অগাস্ট আরাফাত ইরিন ঐশী ‘যৌতুকের জন্য মারধরের অভিযোগে’ আদালতে চারজনকে আসামি করে এই মামলা করেন। আদালত বাদীর জবানবন্দি গ্রহণ করে নাজমা সুলতানা ও মুনতাসীর মামুনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি এবং হযরত আলী ও মিজানুর রহমানের বিরুদ্ধে সমন জারি করেন। পরোয়ানার পর গত ২ সেপ্টেম্বর নাজমা সুলতানা ও মুনতাসীর মামুনকে রমনা থানা এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। এরপর গত ৩ সেপ্টেম্বর আদালত আসামিদের কারাগারে পাঠান।

শুনানিকালে দুই আসামিকে কারাগার থেকে আদালতে হাজির করা হয়। আসামিদের পক্ষে অ্যাডভোকেট রাজ্জাব হোসেন রাজু আপোসের শর্তে জামিন চেয়ে শুনানি করেন। এসময় বাদী আরাফাত ইরিন ঐশী আদালতে উপস্থিত হন। আসামিদের জামিনে আপত্তি না থাকলেও তিনি কিছু শর্ত দেন। সেই মোতাবেক আসামি মুনতাসীর মামুন আদালতে অঙ্গীকারনামা দেন। সেখানে উল্লেখ করেন,”আমি আমার স্ত্রীকে কোনো অত্যাচার, নির্যাতন করবো না। সব সময় ভালো ব্যবহার করবো। বাসার অন্য কেউ যেন অত্যাচার, নির্যাতন না করতে পারে সে বিষয়ে সতর্ক থাকবো। তার ইচ্ছা অনুযায়ী স্থানে বসবাস করবো। বাইরে ঘুরতে যাবো। তার শারীরিক-মানসিক প্রশান্তি হয় এমন কর্ম করবো। এরপর আদালত আপোসের শর্তে ইরিন ঐশী জিম্মায় তাদের জামিনের আদেশ দেন।

মামলায় অভিযোগ করা হয়, মুনতাসীর মামুন নতুন ব্যবসা শুরু করার কথা বলে শ্বশুরের কাছ থেকে ‘১ কোটি টাকা যৌতুক এনে দেওয়ার জন্য ইরিন ঐশীকে চাপ দিতে থাকেন’। ইরিন ঐশীর অভিযোগ, তিনি ক্যান্সারে আক্রান্ত জানার পরও আসামিরা তাকে ‘শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতন করতেন’। তার জীবন ও সংসারের কথা চিন্তা করে তার বাবা আত্মীয়দের কাছ থেকে ধার করে চার কিস্তিতে সর্বশেষ ২০২৫ সালের ১৮ অক্টোবর পর্যন্ত ‘১ কোটি টাকা যৌতুক দেন’। এরপরও আসামিদের অর্থের চাহিদা কমেনি বলে অভিযোগ করেন তিনি।

আরও খবর

Sponsered content