প্রতিনিধি ২৯ আগস্ট ২০২৬ , ১২:৫৫:১৫ প্রিন্ট সংস্করণ
নেপালে ভয়াবহ আকস্মিক বন্যার পর উদ্ধার ও অনুসন্ধান অভিযানে বিদেশি বাহিনীর সহযোগিতা নেওয়ার বিষয়ে অবস্থান পরিবর্তন করেছে দেশটির সরকার। প্রথমে বিভিন্ন দেশের সহায়তার প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করলেও প্রায় ১২ ঘণ্টার ব্যবধানে সেই সিদ্ধান্ত থেকে সরে এসেছে কাঠমান্ডু। এখন নেপালের নির্দিষ্ট কিছু এলাকায় বিদেশি উদ্ধারকারী দল ও বিশেষজ্ঞদের কাজ করার সুযোগ দেওয়া হবে। গত বুধবার (২৬ আগস্ট) নেপালের উত্তরাঞ্চলের সীমান্তবর্তী রাসুয়া এলাকায় ভয়াবহ বন্যা দেখা দেয়। একই দুর্যোগের প্রভাব পড়ে সীমান্তের ওপারে চীনের তিব্বত অঞ্চলের গিরং জেলাতেও। ভোতিকোশি নদী ও এর শাখা লেহন্দে নদীতে প্রাকৃতিকভাবে তৈরি হওয়া একটি ব্যারিয়ার হ্রদ ভেঙে যাওয়ার পর হঠাৎ বিপুল পরিমাণ পানি নিচের দিকে নেমে আসে।
প্রচণ্ড স্রোতের সঙ্গে কাদা, পাথর ও বিভিন্ন ধরনের ধ্বংসাবশেষ ভেসে আসায় অল্প সময়ের মধ্যেই দুই দেশের বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত ও ক্ষতিগ্রস্ত হয়। পানির পরিমাণ ছিল কয়েক লাখ ঘনমিটার।
নেপাল ও চীনের দেওয়া হিসাব অনুযায়ী, এই আকস্মিক বন্যার পর নেপালে এখনো প্রায় ১ হাজার ৯২৪ জন এবং তিব্বতে ৫৫৮ জনের সন্ধান পাওয়া যায়নি। তাদের অনেকে পানির স্রোতে ভেসে গেছেন, আবার কেউ কেউ কাদা, পাথর ও ধ্বংসাবশেষের নিচে চাপা পড়েছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
নিখোঁজদের মধ্যে শুধু স্থানীয় বাসিন্দারাই নন, বিভিন্ন দেশের নাগরিকও রয়েছেন। ভারত, যুক্তরাষ্ট্র, অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ড ও দক্ষিণ কোরিয়াসহ প্রায় ৩৫টি দেশের আনুমানিক ৮০০ নাগরিকের নিখোঁজ হওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে। বন্যার পর উদ্ধারকাজে নেপালের বাহিনীকে সহায়তার জন্য ভারত, দক্ষিণ কোরিয়া, অস্ট্রেলিয়াসহ কয়েকটি দেশ তাদের উদ্ধারকারী দল পাঠানোর আগ্রহ প্রকাশ করে। তবে শুরুতে কাঠমান্ডু সেই প্রস্তাবে সাড়া দেয়নি।
নেপাল সরকারের পক্ষ থেকে তখন বলা হয়েছিল, অনুসন্ধান ও উদ্ধার কার্যক্রম পরিচালনার জন্য দেশটির নিজস্ব উদ্ধারকারী সংস্থাগুলোর প্রয়োজনীয় দক্ষতা ও সক্ষমতা রয়েছে। তাই এই মুহূর্তে বিদেশি দলের সহযোগিতা প্রয়োজন হচ্ছে না।
শুক্রবার দুপুরে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে নেপালের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র লোক বাহাদুর ছেত্রীও একই অবস্থানের কথা জানান। তিনি বলেন, দুর্যোগের সময় বিভিন্ন দেশের পক্ষ থেকে সহায়তার প্রস্তাব আসা স্বাভাবিক। তবে নেপালের উদ্ধারকারী বাহিনী দক্ষতার সঙ্গে কাজ করছে এবং আপাতত বিদেশি উদ্ধারকারী দলের সহায়তা প্রয়োজন নেই। তবে মুখপাত্রের এই বক্তব্যের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই সরকারের অবস্থানে পরিবর্তনের ইঙ্গিত পাওয়া যায়। নেপালের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা কাঠমান্ডু পোস্টকে জানান, আগের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করেছে সরকার।
ওই কর্মকর্তা বলেন, বন্যায় বিভিন্ন দেশের নাগরিক নিখোঁজ হওয়ায় আন্তর্জাতিক মহল থেকে অনুসন্ধান ও উদ্ধারকারী দল এবং বিশেষজ্ঞদের নেপালে প্রবেশের অনুমতি দেওয়ার জন্য চাপ তৈরি হয়েছে। পরিস্থিতি বিবেচনায় এখন নির্দিষ্ট কিছু এলাকায় সীমিতসংখ্যক বিদেশি বিশেষজ্ঞ ও উদ্ধারকারীকে কাজ করার অনুমতি দেওয়া হচ্ছে। তবে পুরো নেপালে অবাধভাবে বিদেশি উদ্ধারকারী দলকে কাজ করার সুযোগ দেওয়া হচ্ছে না। নির্দিষ্ট ও প্রয়োজনীয় এলাকাগুলোতেই সীমিত পরিসরে তাদের কার্যক্রম পরিচালনার অনুমতি দেওয়া হবে বলে জানিয়েছে কাঠমান্ডু।





















