প্রতিনিধি ৩০ আগস্ট ২০২৬ , ১১:০২:১৮ প্রিন্ট সংস্করণ
জিম্বাবুয়ের মধ্যাঞ্চলে গির্জার সদস্যদের বহনকারী একটি মিনিবাসের সঙ্গে পণ্যবাহী ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষে অন্তত ২৭ জন নিহত হয়েছেন। দেশটির পুলিশ শনিবার এ তথ্য জানিয়েছে।
পুলিশের মুখপাত্র পল নিয়াথি জানান, শুক্রবার স্থানীয় সময় সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে রাজধানী হারারে থেকে প্রায় ১৪০ কিলোমিটার দক্ষিণে চিভুর কাছে দুর্ঘটনাটি ঘটে। বার্তাসংস্থা আল-জাজিরার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানা যায়।
তিনি বলেন, একটি গাড়িকে ওভারটেক করার সময় পণ্যবাহী ট্রাকটি বিপরীত দিক থেকে আসা মিনিবাসটির সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। মিনিবাসটিতে জনপ্রিয় একটি আফ্রিকান খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের সদস্যরা ছিলেন। তারা একটি সম্মেলনে যোগ দিতে যাচ্ছিলেন।
রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম জেডবিসি নিউজ জানিয়েছে, প্রাদেশিক সরকারের এক মন্ত্রীর বরাত দিয়ে বলা হয়েছে, দুর্ঘটনায় ২৩ জন ঘটনাস্থলেই মারা যান। পরে আহতদের স্থানীয় হাসপাতালে নেওয়া হলে আরও কয়েকজনের মৃত্যু হয়। এতে মৃতের সংখ্যা বেড়ে অন্তত ২৭ জনে দাঁড়ায়।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জেডবিসি প্রকাশিত ভিডিওতে দুর্ঘটনাকবলিত মিনিবাসটিকে সম্পূর্ণ বিধ্বস্ত ও আগুনে পুড়ে প্রায় কঙ্কালে পরিণত অবস্থায় দেখা যায়। রাস্তার বিপরীত পাশে ট্রাকটিও দাঁড়িয়ে ছিল।
দুর্ঘটনাস্থলটি ছিল অপেক্ষাকৃত সমতল ও প্রত্যন্ত এলাকায়। রাস্তার দুই পাশে ছিল নিচু গাছপালা এবং এর বাইরে বিস্তৃত খোলা এলাকা।
জিম্বাবুয়ের সড়কে একের পর এক প্রাণঘাতী দুর্ঘটনার সর্বশেষ ঘটনা এটি। দীর্ঘদিনের অবহেলা ও পর্যাপ্ত অর্থায়নের অভাবে দেশটির অনেক সড়কে বড় বড় গর্ত তৈরি হয়েছে, যা সড়ক দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়াচ্ছে।
দৈনন্দিন যাতায়াতের জন্য জিম্বাবুয়ের বিপুলসংখ্যক মানুষ বেসরকারিভাবে পরিচালিত মিনিবাস ট্যাক্সির ওপর নির্ভর করেন। স্থানীয়ভাবে এসব যান ‘কোম্বি’ নামে পরিচিত। তবে অতিরিক্ত যাত্রী বহনের অভিযোগে এসব মিনিবাস প্রায়ই সমালোচিত হয়।
এর আগে এপ্রিল মাসে দেশটির দক্ষিণাঞ্চলের একটি মহাসড়কে মিনিবাসে আগুন লেগে অন্তত ১৮ জন নিহত হন। একই মাসের শুরুর দিকে জিম্বাবুয়ে ও দক্ষিণ আফ্রিকার সংযোগকারী আরেকটি মহাসড়কে পণ্যবাহী ট্রাকের সঙ্গে একটি গাড়ির সংঘর্ষে এক নারী ও তার পাঁচ সন্তান নিহত হন।
পরপর এসব দুর্ঘটনা দেশটির সড়ক নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং গণপরিবহনের মান নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে।





















