হুমায়ুন কবির, ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি ৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ , ১০:৪০:৪২ প্রিন্ট সংস্করণ
নিজের শেকড়ের টানে জন্মভূমি ঠাকুরগাঁওয়ে ফিরে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েছেন দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। রাষ্ট্রপতি হওয়ার পর প্রথমবারের মতো নিজ জেলায় এসে হাজারো মানুষের ভালোবাসায় সিক্ত হয়ে তিনি বলেন, “মোর নাম এই নামে হোক, আমি তোমাদেরই লোক।”
রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) বিকেলে ঠাকুরগাঁও সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয়ের বড় মাঠে আয়োজিত নাগরিক সংবর্ধনায় বক্তব্য দিতে গিয়ে রাষ্ট্রপতি বলেন, “ঠাকুরগাঁওয়ের এই মাটির সঙ্গে আমার জীবনের সবকিছু জড়িয়ে আছে। এই জেলার মানুষের ভালোবাসার ঋণ কোনোদিন শোধ করতে পারব না।” এ কথা বলতে গিয়ে তিনি আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন।

দীর্ঘ রাজনৈতিক আন্দোলন-সংগ্রামের কথা তুলে ধরে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, দেশে অনেক অত্যাচার-নির্যাতন হয়েছে। তবে তিনি আর রাজনীতিতে মারামারি, সংঘাত ও খুনোখুনি দেখতে চান না। দেশের রাজনীতিতে হানাহানি ও সংঘাতের পরিবর্তে শান্তি ও সমঝোতার পরিবেশ তৈরি করতে হবে।
রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতি পারস্পরিক সংঘাত পরিহার করে আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে মতপার্থক্য দূর করার আহ্বান জানিয়ে রাষ্ট্রপতি বলেন, দেশের স্বার্থে সবাইকে সহনশীল ও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। রাজনীতিতে সংঘাতের পরিবর্তে সমঝোতার সংস্কৃতি গড়ে তোলার ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি।
দেশের স্বাধীনতা, গণতন্ত্র ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় নিজের জীবন উৎসর্গ করার অঙ্গীকার করে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, প্রয়োজন হলে নিজের জীবনের বিনিময়েও দেশের স্বাধীনতা, গণতন্ত্র ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় সর্বোচ্চ চেষ্টা করবেন।
তরুণদের প্রসঙ্গে রাষ্ট্রপতি বলেন, মাদক ও নানা ধরনের অপরাধ থেকে তরুণ প্রজন্মকে দূরে রাখতে খেলাধুলা ও সুস্থ জীবনযাপনের সুযোগ বাড়াতে হবে। মাদকের বিরুদ্ধে পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রকে ঐক্যবদ্ধভাবে প্রতিরোধ গড়ে তোলার আহ্বান জানান তিনি।
ঠাকুরগাঁওয়ের ব্যবসায়ীদের বিনিয়োগ বাড়ানোর আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, জেলায় নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টির উদ্যোগ নিতে হবে। পাশাপাশি জেলার মানুষকে আত্মনির্ভরশীল হয়ে নিজেদের পায়ে দাঁড়ানোর জন্য উদ্যোগী হতে হবে।
রাষ্ট্রপতি হিসেবে নিজ জেলায় প্রথম সফরকে ঘিরে রোববার ঠাকুরগাঁওয়ে উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়। দুপুরে হেলিকপ্টারযোগে ঠাকুরগাঁও শহীদ মোহাম্মদ আলী স্টেডিয়ামে পৌঁছান মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। পরে সার্কিট হাউসে তিনি গার্ড অব অনার গ্রহণ করেন।
এরপর সেনুয়া পারিবারিক গোরস্থানে গিয়ে বাবা-মায়ের কবর জিয়ারত করেন রাষ্ট্রপতি। সেখান থেকে তিনি ঠাকুরগাঁও সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয়ের বড় মাঠে আয়োজিত নাগরিক সংবর্ধনায় যোগ দেন।
সংবর্ধনা কমিটির আহ্বায়ক ডা. আবু খাইরুল কবিরের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে দুর্যোগ ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু, প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ, হুইপ আখতারুজ্জামান, ঠাকুরগাঁও-২ আসনের সংসদ সদস্য ডা. আব্দুস সালাম, ঠাকুরগাঁও-৩ আসনের সংসদ সদস্য জাহিদুল ইসলাম, জেলা বিএনপির সভাপতি মির্জা ফয়সল আমীনসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন এসডিওর প্রতিষ্ঠাতা ডা. মুহাম্মদ শহীদ উজ জামান।





















