সারাদেশ

মান্দায় খাল পুনঃখননে অনিয়মের সংবাদকে ‘ভিত্তিহীন’ বললেন ইউপি চেয়ারম্যান

  নওগাঁ প্রতিনিধি ৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ , ১০:৪৭:৩৫ প্রিন্ট সংস্করণ

নওগাঁর মান্দায় ‘খাল পুনঃখননে নানা অনিয়ম’ শিরোনামে বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদের প্রতিবাদ জানিয়েছেন কুসুম্বা ইউনিয়ন পরিষদের তিনবারের চেয়ারম্যান নওফেল আলী মন্ডল। তাঁর দাবি, সরকারি নির্দেশনা ও নিয়মনীতি মেনেই খাল পুনঃখননের কাজ করা হয়েছে। একটি কুচক্রী মহল সরকার, স্থানীয় সংসদ সদস্য ও চেয়ারম্যানদের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করতে গণমাধ্যমকর্মীদের ভুল তথ্য দিয়ে ভিত্তিহীন ও বানোয়াট সংবাদ প্রকাশ করিয়েছে।

চেয়ারম্যান নওফেল আলী মন্ডল বলেন, “মান্দায় সরকারি নির্দেশনা মেনে খাল পুনঃখনন করা হলেও একটি কুচক্রী মহল সরকার, স্থানীয় সংসদ সদস্য এবং চেয়ারম্যানদের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার জন্য গণমাধ্যমকর্মীদের ভুল তথ্য দিয়ে ভিত্তিহীন, মিথ্যা ও বানোয়াট সংবাদ পরিবেশন করেছে। আমরা এর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই।”

জানা যায়, প্রধানমন্ত্রীর নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের লক্ষ্যে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের ইজিপিপি কর্মসূচির আওতায় ২০২৫-২৬ অর্থবছরে মান্দা উপজেলার ভারশোঁ ও কুসুম্বা ইউনিয়নে বিল উথরাইল ব্রিজ থেকে বাদলঘাটা ব্রিজ পর্যন্ত ৩ দশমিক ৬ কিলোমিটার খাল পুনঃখননের জন্য বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে ভারশোঁ অংশে ৫৪ লাখ ৬২ হাজার টাকা এবং কুসুম্বা ইউনিয়ন অংশে ৫৪ লাখ ১১ হাজার টাকা বরাদ্দ রয়েছে।

প্রকল্পের সভাপতি ইউপি সদস্য মমতাজ বেগম বলেন, “সরকারি নির্দেশনা মেনে সিডিউল অনুযায়ী ১২৫ জন শ্রমিক ও এস্কেভেটর দিয়ে কাজ করা হয়েছে। কোনো ধরনের অনিয়ম করা হয়নি।”

তিনি বলেন, “দুইটি ইউনিয়নের অন্তত ৪ হাজার হেক্টর কৃষিজমি পানির নিচে তলিয়ে থাকত। এতে বছরে মাত্র একটি ফসল হতো। খাল পুনঃখননের কারণে জলাবদ্ধতা দূর হয়েছে। ফলে এসব জমিতে এখন তিনটি করে ফসল উৎপাদন হচ্ছে। কৃষকেরা সহজে পানি সেচ দিতে পারবেন এবং দেশীয় প্রজাতির মাছের বংশবৃদ্ধিও ঘটবে।”

মিথ্যা অভিযোগের বিষয়ে মমতাজ বেগম বলেন, “নাসির ও হোসেন নামের দুই ব্যক্তিকে আমি চিনি না, তারা আমার প্রকল্পের শ্রমিকও নন। অথচ তারা মিথ্যাভাবে চেয়ারম্যানের নামে বদনাম করেছেন, যা সম্পূর্ণ মিথ্যা ও বানোয়াট। বিষয়টি তদন্ত করে ওই দুজনের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানাচ্ছি।”

এদিকে সরেজমিনে প্রকল্প এলাকায় গিয়ে শ্রমিক আসিয়া, মাজেদা, আতাউর রহমান, আব্দুর রাজ্জাক, ইব্রাহিম, রুবেল ও গিয়াসের সঙ্গে কথা হয়। তাঁরা জানান, তাঁরা টানা ৪৩ দিন প্রকল্পে কাজ করেছেন। এ সময় প্রত্যেকে পারিশ্রমিক হিসেবে ২১ হাজার ৫০০ টাকা করে নিজ নিজ ব্যাংক হিসাবের মাধ্যমে পেয়েছেন।

চেয়ারম্যান নওফেল আলী মন্ডল বলেন, “দুই ইউনিয়নের দরিদ্র কৃষকদের জমির জলাবদ্ধতা দূরীকরণ, সেচব্যবস্থা নিশ্চিত করা এবং দেশীয় মাছের প্রজনন রক্ষায় স্থানীয় সংসদ সদস্য জননেতা ডা. ইকরামুল বারী টিপু খাল পুনঃখননের উদ্বোধন করেছেন। এছাড়াও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আখতার জাহান সাথী ও প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা আরিফুল ইসলামসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা খাল খনন কাজ পরিদর্শন করেছেন। সম্পূর্ণ সরকারি নিয়মনীতি মেনেই কাজ করা হয়েছে, যেখানে ১২৫ জন শ্রমিক ৪৩ দিন কাজ করে ব্যাংক হিসাবের মাধ্যমে মজুরির টাকা উত্তোলন করেছেন।”

আরও খবর

Sponsered content