সারাদেশ

হবিগঞ্জে নির্বাচনী কার্ড থেকে বঞ্চিত প্রায় ২০০ সাংবাদিক, প্রশ্নের মুখে রিটার্নিং কর্মকর্তা

  মাধবপুর (হবিগঞ্জ) প্রতিনিধি: ১১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ , ১১:৪২:৩০ প্রিন্ট সংস্করণ

: হবিগঞ্জের জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা আবু হাসনাত মোহাম্মদ আরেফীন(বামে) ও অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মো. মঈনুল হক(ডানে)।

হবিগঞ্জ জেলায় ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন পর্যবেক্ষণের জন্য আবেদন করেও প্রায় ২০০ সাংবাদিক নির্বাচনী কার্ড পাননি বলে অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক আবু হাসনাত মোহাম্মদ আরেফীনের ভূমিকা নিয়ে সাংবাদিক মহলে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে।

জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, হবিগঞ্জের নয়টি উপজেলা ও সদর মিলিয়ে ৫০০-এর বেশি সাংবাদিক নির্বাচন পর্যবেক্ষণের অনুমতির জন্য আবেদন করেন। এর মধ্যে ২৬৯ জনকে অনুমতিপত্র দেওয়া হয়েছে। বাদ পড়েছেন ২৩১ জন সাংবাদিক। অভিযোগ রয়েছে, তাদের মধ্যে প্রায় ২০০ জনের আবেদন কোনো সুস্পষ্ট কারণ ছাড়াই বাতিল করা হয়েছে।

বাতিল হওয়া তালিকায় জাতীয় ও আঞ্চলিক বিভিন্ন গণমাধ্যমের প্রতিনিধিরা রয়েছেন বলে দাবি করেছেন সংশ্লিষ্টরা। ক্ষুব্ধ সাংবাদিকরা জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে গিয়ে রিটার্নিং কর্মকর্তা ও অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো. মঈনুল হকের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার অনুরোধ জানান। তবে তাদের অভিযোগ, সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বিষয়টি গুরুত্ব দেননি এবং দাপ্তরিক ব্যাখ্যায় সীমাবদ্ধ থেকেছেন।

সাংবাদিকদের একটি অংশের দাবি, পেশাদার গণমাধ্যমকর্মীরা বাদ পড়লেও কিছু অনলাইনভিত্তিক ও স্বল্পপরিচিত প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা কার্ড পেয়েছেন। তারা নির্বাচন কমিশনের নির্ধারিত কাগজপত্র জমা দেওয়ার পরও অনুমতিপত্র না পাওয়ায় হতাশা প্রকাশ করেন। কেউ কেউ প্রক্রিয়াটিকে অস্বচ্ছ বলেও মন্তব্য করেছেন।

দৈনিক দেশ রূপান্তরের মাধবপুর প্রতিনিধি জালাল উদ্দিন লস্কর বলেন, “কোনো সুস্পষ্ট কারণ ছাড়াই আমাদের আবেদন বাতিল করা হয়েছে।” অপরদিকে দৈনিক অগ্রযাত্রা প্রতিদিন-এর প্রতিনিধি ফোরকান উদ্দিন রোমান অভিযোগ করেন, সাংবাদিকদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ করা হয়েছে।

অভিযোগের বিষয়ে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো. মঈনুল হক কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক আবু হাসনাত মোহাম্মদ আরেফীন বলেন, “আবেদন অসম্পূর্ণ থাকায় কিছু আবেদন বাতিল করা হয়েছে। কারও অভিযোগ থাকলে লিখিতভাবে জানাতে পারেন।”

উল্লেখ্য, এর আগেও ওই রিটার্নিং কর্মকর্তার বিরুদ্ধে কয়েকজন সংসদ সদস্য প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিলের সিদ্ধান্ত নিয়ে বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছিল। পরে আপিলের মাধ্যমে নির্বাচন কমিশন সংশ্লিষ্ট প্রার্থীদের মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা করে।

আরও খবর

Sponsered content