প্রতিনিধি ৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ , ৬:৩৪:৪৪ প্রিন্ট সংস্করণ
চলতি বছরের মার্চ পর্যন্ত দেশের মাথাপিছু ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ২৯ হাজার ২৩৯ টাকা। আজ রোববার জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশনে এ তথ্য জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল।
সংসদ সদস্য রেজা আহমেদের এক প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী জানান, জনগণের ওপর মাথাপিছু ঋণের বোঝা কমাতে সরকার রাজস্ব আদায় বৃদ্ধি, সরকারি অর্থায়নের সুষ্ঠু ও দক্ষ ব্যবস্থাপনা এবং ঋণ ব্যবস্থাপনাকে আরও শৃঙ্খলাবদ্ধ করার ওপর জোর দিচ্ছে।
মন্ত্রী বলেন, ‘এ লক্ষ্যে রাজস্ব আদায়ের পরিধি বাড়ানোর পাশাপাশি কর ও কর-বহির্ভূত রাজস্ব বৃদ্ধি এবং সরকারের নিজস্ব আয় বাড়িয়ে ঋণের প্রয়োজনীয়তা কমানোর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে সরকারি ব্যয়কে আরও সাশ্রয়ী ও কার্যকর করা এবং অপ্রয়োজনীয় ও কম অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত ব্যয় নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে সরকারের অর্থায়নের প্রয়োজনীয়তা কমানোর ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে।’
আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী জানান, সরকারি ঋণের সুদের হার ও পুনর্বিত্তায়নের ঝুঁকি কমাতে বাজারভিত্তিক ও শৃঙ্খলাবদ্ধ ঋণ সম্প্রসারণ এবং সরকারি সিকিউরিটিজ বাজারকে আরও কার্যকর ও প্রতিযোগিতামূলক করার নীতি অনুসরণ করা হচ্ছে।
এ উদ্দেশ্যে অভ্যন্তরীণ ঋণের বাজার সংস্কার ও বিনিয়োগকারীর ভিত্তি তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সঞ্চয়পত্রের মাধ্যমে অতিরিক্ত ঋণ গ্রহণ নিয়ন্ত্রণে নির্ধারিত সীমা অনুসরণ করা হচ্ছে। পাশাপাশি সঞ্চয়পত্রের সুদের বা মুনাফার হারকে বাজারের পরিস্থিতি ও প্রচলিত সুদের হারের সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।
অর্থমন্ত্রী বলেন, এসব উদ্যোগের ফলে অপেক্ষাকৃত উচ্চ ঋণের ওপর নির্ভরতা কমানো এবং সরকারের সামগ্রিক সুদ-ব্যয় নিয়ন্ত্রণে রাখার পাশাপাশি একটি আরও ভারসাম্যপূর্ণ ঋণ পোর্টফোলিও তৈরি করা সম্ভব হবে।
আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী জানান, এ ছাড়া অতিরিক্ত ও অপরিকল্পিত ঋণ গ্রহণ এড়াতে একটি ‘বার্ষিক ঋণ গ্রহণ পরিকল্পনা’ প্রণয়ন এবং তা অনুসরণের ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে।
এ ছাড়া অধিবেশনে বাগেরহাট-৪ আসনের সংসদ সদস্য মো. আব্দুল আলীমের প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী জানান, ৩০ জুন ২০২৬ ভিত্তিক হিসাবে রাষ্ট্র-মালিকানাধীন ছয়টি ব্যাংকের মোট খেলাপি ঋণের পরিমাণ ১ লাখ ৪৭ হাজার ৭৭৬ কোটি ৩৬ লাখ টাকা। ব্যাংকগুলোর মধ্যে সর্বোচ্চ খেলাপি ঋণ রয়েছে জনতা ব্যাংক পিএলসিতে।
অর্থমন্ত্রীর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, অগ্রণী ব্যাংক পিএলসির খেলাপি ঋণের পরিমাণ ২৯ হাজার ২৯ কোটি ৬৭ লাখ টাকা। বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক পিএলসির ৮৮৮ কোটি ৭৯ লাখ টাকা এবং বেসিক ব্যাংক পিএলসির ৮ হাজার ১৩১ কোটি ৯ লাখ টাকা।
এ ছাড়া জনতা ব্যাংক পিএলসির খেলাপি ঋণের পরিমাণ ৭৫ হাজার ৩৯৬ কোটি ৬৭ লাখ টাকা। রূপালী ব্যাংক পিএলসির খেলাপি ঋণ ১৯ হাজার ২৮১ কোটি ৭৪ লাখ টাকা এবং সোনালী ব্যাংক পিএলসির ১৫ হাজার ৪৮ কোটি ৩৯ লাখ টাকা।
অর্থমন্ত্রীর দেওয়া হিসাব অনুযায়ী, ছয়টি রাষ্ট্র-মালিকানাধীন ব্যাংকের খেলাপি ঋণের মোট পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৪৭ হাজার ৭৭৬ কোটি ৩৬ লাখ টাকা।















