প্রতিনিধি ২২ এপ্রিল ২০২৫ , ৪:৫৯:৪৮ প্রিন্ট সংস্করণ
ইশরাক বিল্লাল, স্টাফ রিপোর্টার : খাদেম স্টিলের মালিক শেখ জামাল,, সীমা স্টিলের মালিক মামুন উদ্দিন,, জংডা স্টিলের জমির মালিক আজিজুর রহমান , এবি ব্যাংকের সাবেক ডিএমডি আব্দুর রহমান সহ একটি অসাধু চক্রের হাত ধরে নিঃশেষ হতে চলেছে দেশের অন্যতম সেরা ব্যবসা প্রতিষ্ঠান এরশাদ গ্রুপ।
অনুসন্ধানে বেরিয়ে আসে ২০১৬ সালে আনুমানিক ২০ কোটি টাকা বিনিয়োগের মাধ্যমে মেসার্স খাদেম ষ্টীল ইন্ডাস্ট্রিজের স্বত্বাধিকারী মোঃ জামাল শেখ এর নিজস্ব জায়গায় অবস্থিত মালিকানাধীন ৭’’ রোলিং মিলস ও ৯’’ রোলিং মিল ও ৬টন ধারণ ক্ষমতার ফার্নেস সহ একটি ষ্টীল মিলস সম্পূর্ণ জায়গা ও এর সকল স্থাপনা সহ ৩ বছরের জন্য ভাড়াটিয়া হিসেবে এরশাদ গ্রুপ ভাড়া নিয়ে ব্যবসায়িক কার্যক্রম শুরুর কয়েক মাসের মধ্যে সন্ত্রাসী বাহিনীর চাঁদা ও অন্যান্য কারণবশত এরশাদ গ্রুপের এরশাদ স্টিল মিলটি উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের পথে এগিয়ে যেতে বাধাগ্রস্থ হয় । চাঁদা আদায়ের ঘটনাকে কেন্দ্র করে ডিবি অফিসে সমঝোতার চেষ্টা করে তৎকালীন এডিসি লাকি। সমঝোতা বৈঠকের এক সপ্তাহ পূর্বে শেখ জামাল সবকিছু ঠিক করার কথা বলে তার বন্ধু ও এরশাদ স্টিলের প্রোডাকশন ম্যানেজার আশরাফুজ্জামান শাহিনের মাধ্যমে মিলে বসার জন্য প্রস্তাব দিলে এরশাদ আলী সরল বিশ্বাসে নাসির ট্রেড সেন্টার হতে তাদের দেয়া ঠিকানার উদ্দেশ্যে রওনা দেন । পথিমধ্যে ডেমরার পাইটি মোড় নামক স্থানে ৩/৪টি মোটরসাইকেল তাদের গাড়ির গতিরোধ করে এবং ৩জন জোর পূর্বক গাড়িতে উঠে বিকেল তিনটায় এরশাদ আলী ও তার সহযাত্রীদের অপহরণ করে নিয়ে শ্যামপুর থানাধীন শেখ জামালের ভাই শেখ কামালের এর অফিসে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে রাখে। উক্ত ভাড়াটিয়ার মিলটি পূর্বের তিন বছর চুক্তি থাকার পরেও নোটিশ ব্যতীত অস্ত্রের মুখে ভাড়াটিয়ার চুক্তি বহির্ভূত ভাবে মিলের কাগজপত্র স্বাক্ষর করে নেয়। খাদেম স্টিলের মালিক এরশাদ স্টিলের কর্মচারীগনকে অস্ত্রের মুখে মিল থেকে বের করে দেয়। মিলে রক্ষিত অফিসিয়াল কাগজপত্র, রক্ষিত রড তৈরির কাঁচামাল এবং রড সহ আনুষঙ্গিক সামগ্রী লুটপাট করে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ডিবি অফিসে বসা হলে খাদিম স্টিলের মালিক শেখ জামাল সম্মতি প্রকাশ করেন যে, মিলে রক্ষিত এরশাদ স্টিলের সকল মালামাল এক মাসের মধ্যে ফেরত দিতে তার কোন বাধা নেই। এ ঘটনার পর এরশাদ স্টিল তাদের রক্ষিত সকল মাল আনার জন্য ট্রাক পাঠালে সকল ট্রাক আটকে দেয়া হয় যা আজ অবধি ফেরত পাওয়া যায়নি। উক্ত মিলের ভাড়ার জামানতের টাকা ২ কোটি ২০ লক্ষ টাকার মধ্যে এক কোটি ৭০ লক্ষ টাকা প্রদান করে বাকি ৫০ লক্ষ টাকা উক্ত মিলের অকেজো মেশিনারি কার্যকর করা এবং মিলটি উৎপাদন মুখী করার নিমিত্তে সকল কার্যক্রম হাতে নেয়ার ফলে ৫০ লক্ষ টাকা নগদায়ন করা হয়নি। শেখ জামাল এরশাদ স্টিলকে এক কোটি ৫০ লক্ষ টাকা ফেরত না দিয়ে সালাম স্টিল নামের প্রতিষ্ঠানের যোগসহযোগে দেড় কোটি টাকা ফেরত করেছে মর্মে জোরপূর্বক চুক্তিনাময় উল্লেখ করে। অনুসন্ধানে বেরিয়ে আসে সালাম স্টিলের মালিক সালাম সাহেব শেখ কামালের বন্ধু এবং আরেক আসামি শেখ কামাল শেখ জামালের সহোদার।
তারা ক্ষমতার প্রভাব খাটিয়ে সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালের ভয় দেখিয়ে ডিবি লাকির মাধ্যমে সকল অপকর্ম সংগঠিত করে। ফলে এরশাদ ষ্টীল খাদিম স্টিলের নামে আদালতে মামলা দায়ের করে। এরই প্রেক্ষিতে প্রতিহিংসাবশত খাদেম স্টিল এরশাদ স্টিলের নামে পাল্টা মামলা দায়ের করে। এরশাদ স্টিলের দেয়া কোন মামলা যাতে চলমান না থাকে সে প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখে খাদেম স্টিল। তারা বিভিন্ন ভয়-ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে কারখানায় রক্ষিত এরশাদ স্টিলের ২০ কোটি টাকার মালামাল আত্মসাৎ করার জন্য সকল কর্মচারী ও অফিসারদের উপর মামলা তুলে নেয়ার চাপ প্রয়োগ করে। অন্যদিকে এরশাদ গ্রুপের চেয়ারম্যান কে অন্যান্য মামলায় জেল হাজতে পাঠিয়ে তাদের করা মামলাটি চলমান রেখে অর্থ আদান প্রদান ও রাজনৈতিক ক্ষমতার প্রভাবে ন্যায় বিচার থেকে এরশাদ গ্রুপকে বঞ্চিত করা হয়। চুক্তি মোতাবেক মিলের জামানতের ৫০ লাখের চেকটি মিলের কাজের সমন্বয়ের কথা থাকলেও চুক্তি ভেঙ্গে এরশাদ গ্রুপের নামে নারায়ণগঞ্জ থানায় মামলা করে। অনুসন্ধানে বেরিয়ে আসে খাদেম স্টিল চুক্তিপত্র করার সময় ইসলামি ব্যাংক পল্টন শাখায় মিলটি দ্বায়বদ্ধ থাকার খবর গোপন রাখে। এসব ঘটনার প্রেক্ষিতে মারাত্মক আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছে এরশাদ গ্রুপ ।
এদিকে এই চক্রের আরেক সদস্য আরব বাংলাদেশ (এবি) ব্যাংকের সাবেক ডিএমডি আব্দুর রহমানের রোষানলে দিশেহারা হয়ে পরেছে এরশাদ গ্রুপ। ফলশ্রুতিতে এই গ্রুপটি এখন ঋণ খেলাপি হয়ে দেউলিয়া হওয়ার উপক্রম হয়েছে। মামলা-পাল্টা মামলায় জর্জরিত হয়ে পরেছে ওই ব্যাংকের কিছু ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও এরশাদ গ্রুপ। এবি ব্যাংক ডিএমডির (দায়িত্ব পালনকালে) অনৈতিক চাহিদা না মেটানোই এই রোষানলের কারণ বলে জানানো হয়েছে একটি মামলার তদন্ত প্রতিবেদনে।
২০২১ সালের ৪ মার্চ ঢাকার চীফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে একটি অভিযোগ দায়ের করেন এরশাদ গ্রুপের চেয়ারম্যান এরশাদ আলী। সেখানে তিনি উল্লেখ করেন- এবি ব্যাংকের কতিপয় কর্মকর্তার ইচ্ছাকৃত অবহেলা , অসহযোগিতা এবং উদ্দেশ্যমূলক কর্মকাণ্ডের ফলে এরশাদ গ্রুপ সম্মানহানীর শিকার হয়েছে। এছাড়া তার নামে দুদকের মামলা এবং সেই মামলার সূত্র ধরে বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদও প্রকাশিত হয় এবং তাকে জেলে যেতে হয়। তিনি ওই সকল সংবাদের প্রতিবাদ জানান। একইসঙ্গে প্রকাশিত সংবাদে তার ও তার প্রতিষ্ঠানের সুনাম ক্ষুন্ন হয়েছে মর্মে আদালতে অভিযোগ দায়ের করেন।
এই অভিযোগ আমলে নিয়ে তদন্তের জন্য রমনা মডেল থানার ওসিকে নির্দেশ দেন বিজ্ঞ আদালত। পরবর্তিতে তদন্ত শেষে আদালতে ওই বছরের ৯ এপ্রিল প্রতিবেদন জমা দেন রমনা মডেল থানার পুলিশ পরিদর্শক মো. নূর মোহাম্মদ। সেই প্রতিবেদনে ব্যাংকের একজন উর্ধ্বতন কর্মকর্তার রোষানলে পরে দেশের একটি সম্ভাবনাময় শিল্প গ্রুপ কিভাবে পথে বসতে চলেছে তার বিশদ বিবরণ উঠে এসেছে।
মামলার প্রতিবেদন সূত্রে জানা যায়, লেনদেনের সূত্র ধরে মামলার স্বাক্ষী মো. আমিনুল ইসলামের মাধ্যমে ২০১৪ সালে সিটি ব্যাংকের তৎকালীন ডিএমডি আব্দুর রহমানের (৫০) সঙ্গে এরশাদ গ্রুপের চেয়ারম্যান এরশাদ আলীর সু-সম্পর্ক গড়ে ওঠে। এ অবস্থায় আব্দুর রহমান এরশাদ আলীর কাছে মোটা অংকের টাকা ধার চান। বিনিময়ে এরশাদ আলীকে ব্যাংকিং সুবিধা দেওয়ার আশ্বাস দেন আব্দুর রহমান। এরশাদ আলী প্রথম পর্যায়ে রাজি না হলেও আব্দুর রহমানের অনুনয়-বিনয়ের কারণে তিনটি চেকের মাধ্যমে ত্রিশ লাখ টাকা ধার দেন। পরে আব্দুর রহমান আরো টাকা চাইলে এরশাদ আলীর সন্দেহ হয়। এসময় তিনি পূর্বে ধার দেয়া টাকা ফেরত চান। তখন আব্দুর রহমান তার গুলশানের ১২৭ নম্বর রোডের একটি ফ্ল্যাট এরশাদ আলীর কাছে বিক্রির প্রস্তাব দেন। পরে ২০১৭ সালের ১৯ ফেব্রুয়ারি সাড়ে তিন কোটি টাকার বিনিময়ে সাব কবলা দলিল মুলে আব্দুর রহমানের কাছ থেকে ফ্ল্যাটটি কিনে নেন এরশাদ আলী। ওই বছরই ফ্ল্যাটটি বুঝে নিতে চাইলে আব্দুর রহমান কিছুদিন সময় চান এবং প্রতি মাসে ফ্ল্যাটের ভাড়া দেবেন বলে মৌখিকভাবে অঙ্গীকার করেন। এরশাদ আলী ফ্ল্যাটটি বুঝে না পাওয়ায় ওই বছরই আব্দুর রহমানের বিরুদ্ধে প্রথমে সিআর মামলা করেন এবং পরে দেওয়ানী মামলা দায়ের করেন। মামলাটি চলাকালীন ২০১৮ সালে আব্দুর রহমান সিটি ব্যাংক থেকে এবি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয় গুলশানে ডিএমডি পদে যোগদান করেন। এবি ব্যাংকেও এরশাদ আলীর লেনদেন ছিল। এবি ব্যাংকে যোগদানের কিছুদিন পরেই আব্দুর রহমান এরশাদ আলীকে ডেকে তার গুলশানের বিক্রি করা ফ্ল্যাটটি ফেরত চান এবং টাকা পরে পরিশোধ করবেন বলে জানান। এরশাদ আলী ওই প্রস্তাবে রাজি না হয়ে তার ফ্ল্যাটটি বুঝিয়ে দেয়ার অনুরোধ করেন। এতে আব্দুর রহমান ক্ষিপ্ত হয়ে বলেন যে তিনি বর্তমানে এবি ব্যাংকের ডিএমডি এবং এরশাদ আলী এবি ব্যাংকের সঙ্গে কীভাবে লেনদেন করেন তা দেখে নেওয়ার হুমকি দেন। ফ্ল্যাট বিক্রির দলিল ও অন্যান্য কাগজপত্র এরশাদ আলীর পক্ষে থাকার পরেও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ভাগ্নে পরিচয় দিয়ে আব্দুর রহমান নানারকম রাজনৈতিক চাপ প্রয়োগ ও হুমকির মাধ্যমে প্রায় ৯বছর (আজ অবধি) যাবত ফ্ল্যাটটি দখল করে রেখেছে।
ওই তদন্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, ২০১৭ সালে এরশাদ আলী তার ক্রয়কৃত নারায়নগঞ্জের ‘জংদা রি রোলিংস মিলস লি.’ নামক রডের মিলটি এবি ব্যাংক, ইসলামী ব্যাংক শাখা কাকরাইল এর মর্টগেজ অব চার্জ ক্রিয়েটেট এর বিপরীতে ২০ কোটি টাকা লোনের আবেদন করেন। ব্যাংকটির তৎকালীন শাখা ম্যানেজার আব্দুস সাত্তার এরশাদ আলীর কাছ থেকে দাবিকৃত ২০ কোটি টাকা লোনের বিপরীতে লোন প্রদানের শর্তে ২০টি চেক (১৫টি ফাঁকা ও ৫ টি টাকার অংক বসানো) জামানত হিসেবে গ্রহণ করেন। তারপর লোন দিতে কালক্ষেপন করতে থাকেন। এরমধ্যে এরশাদ আলীর ব্যবসায়ীক মন্দার কারণে এবি ব্যাংক কাকরাইল শাখার পূর্বের টাকার লোন অনিয়মিত হয়ে পরে। এর প্রেক্ষিতে জংদা রি রোলিংস মিলস লি. অকেজো হয়ে পরে। এতে এরশাদ আলী ঋণ খেলাপির অন্তর্ভুক্ত হন। যে কারণে পরবর্তিতে এরশাদ আলী ও তার প্রতিষ্ঠান একাধিক মামলা মোকাদ্দমায় জড়িয়ে পড়ে। এক পর্যায়ে বাদী ও এবি ব্যাংকের তৎকালীন ১৬ জন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে দুদকে মামলা হয় এবং বিভিন্ন ইলেকট্রনিক্স ও প্রিন্ট মিডিয়াতে এ সংক্রান্ত সংবাদ প্রচারিত ও প্রকাশিত হয়।
প্রতিবেদনটিতে আরো উল্লেখ করা হয়েছে, বাংলাদেশ ব্যাংক বিআরপিডি সার্কুলার, তারিখ ১৬ই মে ২০১৯ মূলে ঋণ খেলাপিদের লোন পূনঃতফসিল করার জন্য দুই শতাংশ ডাউন পেমেন্টের মাধ্যমে রিসিডিউল করার সুযোগ প্রদান করেন। এরশাদ আলী ১৩৪ কোটি ৪০ লাখ ৭৭ হাজার ৯৭ টাকা লোনের দুই শতাংশ হারে দুই কোটি ৬৮ লাখ ৮১ হাজার ৫৪২ টাকা জমা দেয়ার জন্য বিআরপিডি সার্কুলার মুলে এবি ব্যাংক ইসলামী ব্যাংক কাকরাইল শাখার সেসময়ের ব্যবস্থাপক ফরিদ আহম্মেদ ফকিরের নিকট রিসিডিউলের আবেদন করেন। পরে ফরিদ আহম্মেদ ফকিরের পরামর্শে এরশাদ আলী ইসলামী ব্যাংক কাকরাইল শাখায় ২০১৯ সালের ১৯ সেপ্টেম্বর ২০ লাখ টাকা রিসিডিউলের জন্য জমা দেন। পূনরায় ৮০ লাখ টাকার পে-অর্ডার এবং অবশিষ্ট এক কোটি ৬৮ লাখ ৮১ হাজার ৫৪২ টাকার চেক প্রদান করতে গেলে শাখা ব্যবস্থাপক ফরিদ আহম্মেদ ফকির তা গ্রহণ না করে এরশাদ আলীকে ব্যাংকের ডিএমডি আব্দুর রহমানের সঙ্গে পূর্বের ফ্ল্যাট সংক্রান্ত বিরোধ মীমাংসা করতে বলেন।
পরে রিসিডিউলের জন্য প্রদানকৃত ২০ লাখ টাকা ভিন্নখাতে খরচ দেখিয়ে শাখা ব্যবস্থাপক ফরিদ আহম্মেদ ফকির এরশাদ আলীকে চিঠি প্রদান করেন এবং এরশাদ আলীর বিরুদ্ধে জামানত চেক দ্বারা আদালতে ৫টি মামলা দায়ের করেন। পরে এরশাদ আলীও তার প্রদানকৃত চেক ভিন্নভাবে ব্যবহার করায় ফরিদ আহম্মেদ ফকির ও আব্দুর রহমানকে প্রথমে লিগ্যাল নোটিশ এবং পরে সিআর মামলা দায়ের করেন। বর্তমানে বাদী এবং বিবাদীদের মধ্যে বিজ্ঞ আদালতে এবং বিভিন্ন সংস্থায় একাধিক মামলা ও পাল্টা মামলা হয়, যা এখনো চলমান আছে।
প্রতিবেদনের শেষে উল্লেখ করা হয়েছে, ফ্ল্যাট সংক্রান্ত বিষয়ে বিরোধ আব্দুর রহমান কর্তৃক এরশাদ আলীর সঙ্গে সমাধান না করা, শাখা ব্যবস্থাপক ফরিদ আহম্মেদ ফকির কর্তৃক প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী ২০ লাখ টাকা গ্রহণ করেও লোন রিসিডিউল না করায় বাদীর পূর্বের লোন অনিয়মিত হয়ে পরে। পরবর্তীতে বাদী এরশাদ আলীর বিরুদ্ধে দুদকে মামলা হয় এবং বিভিন্ন মিডিয়াতে দুদকের মামলা সংক্রান্ত বিষয় প্রকাশিত হয়। বাদীও প্রকাশিত সংবাদের প্রতিবাদ জানায়। বিবাদী আব্দুর রহমান এবং ফরিদ আহম্মেদ ফকিরের এমন কর্মকাণ্ডে ফলে বাদী এরশাদ আলী ও তার প্রতিষ্ঠানটি সম্মানহানীর পাশাপাশি আর্থিক ক্ষতির শিকার হয় বলে প্রতিয়মান হয়।
এসব অভিযোগের ভিত্তিতে এবি ব্যাংক কর্তৃপক্ষ ডিএমডি আব্দুর রহমানকে চাকরিচ্যুত করে। একই অভিযোগ এবি ব্যাংকের কাকরাইল শাখার ব্যবস্থাপক ফরিদ আহম্মেদ ফকিরকে শাখা থেকে ক্লোজ করে প্রধান কার্যালয়ে নিয়ে আসে।
এছাড়াও পুলিশের দেয়া প্রতিবেদনে আব্দুর রহমানের বিরুদ্ধে কিছু সুনির্দিষ্ট অভিযোগ রয়েছে। সেসব বিষয়ে জানার জন্য তার সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করেন এই প্রতিবেদক। কিন্তু তিনি এসব বিষয়ে কথা বলতে অপারগতা প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, ‘এগুলো মামলাধীন বিষয় তো, এগুলো তো ফোনে কথা বলবো না।’ পুলিশের দাখিল করা প্রতিবেদনের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘এটা কোনো প্রতিবেদন না’। এসময় ব্যস্ততার কথা বলে পরে ফোন করতে চান তিনি। পরবর্তিতে তার সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
এদিকে রাজশাহীতে বোয়ালিয়া থানাধীন ভদ্রা মোড় এবং নওদাপাড়া,আমচত্তর এলাকায় সরেজমিনে এরশাদ গ্রুপ সম্পর্কে তথ্য নিতে গেলে জানা যায়, রাজশাহী সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র এ এইচ এম খায়রুজ্জামান লিটনের প্রত্যক্ষ মদদে এরশাদ গ্রুপের বেশ কিছু জমি জোর করে দখল করে তারই ক্যাডার বাহিনী । এবিষয়ে মামলাও করা হয় ।
এরশাদ গ্রুপের সাবেক জিএম্ , ম্যানেজার , প্রো ডাকশন এন্ড মার্কেটিং ম্যানেজার ও কোম্পানির সিইও এর বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র ও জালিয়াতির মাধ্যমে কোম্পানির কোটি টাকা আত্মসাত করার তথ্য পাওয়া যায় । জ্ঞাতসারে ৫০ কোটি টাকা সহ শত কোটি টাকার গড়মিল পাওয়া গেছে।
খোঁজ নিয়ে জানা যায় , অভিযুক্ত প্রত্যেকেই জালিয়াতির মাধ্যমে এরশাদ গ্রুপের টাকা হাতিয়ে নিয়ে নিজ নিজ ব্যবসা গড়েছেন এবং বিপুল সম্পত্তির মালিক হয়েছেন।রাজশাহীতে এরশাদ আলীর জনপ্রিয়তায় ভীত হয়ে সাবেক মেয়র এ এইচ এম খায়রুজ্জামান লিটন তার ক্যাডার বাহিনী র মাধ্যমে এরশাদ গ্রুপের ব্যবসায় নিয়মিত ব্যাঘাত ঘটাতেন ।
জানা যায় , এরশাদ গ্রুপ পদ্মা সেতুতে পাথর সরবরাহ করে প্রথম স্থান অর্জন করেছিল। গ্রুপের চেয়ারম্যান এরশাদ আলী শারীরিকভাবে অসুস্থতার কারণে ব্যবসা থেকে দূরে ছিলেন। এ সুযোগে কোম্পানির কিছু অসাধু ব্যবসায়ী ও অসাধু কর্মকর্তা-কর্মচারীদের যোগসাজশে কোম্পানির প্রায় ৫০ কোটি টাকা আত্মসাৎ করেন গ্রুপের সাবেক জিএম মাহমুদ হাসান , ম্যানেজার মামুনুর রহমান (মামুন) , প্রোডাকশন ম্যানেজার আশরাফুজ্জামান শাহীন ও সিইও আবুল বাশার ।
এই জালিয়াত চক্রটি বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানে এরশাদ আলীর স্বাক্ষরিত চেক গ্যারান্টি হিসেবে প্রদান করে পণ্য সরবরাহ না করায় প্রতিষ্ঠানগুলো তার নামে চেকের মামলা দায়ের করে । এতে করে, কোম্পানি যেমন বাজার হারায় , তেমনি মূলধন হারিয়ে দেউলিয়াত্ব বরণ করতে চলেছে।
এসব ব্যাপারে অনুসন্ধানের এক পর্যায়ে নাসির ট্রেড সেন্টারে অবস্থিত এরশাদ গ্রুপের অফিসে যান প্রতিবেদক ।
অনুসন্ধানে জানা যায় , বিগত সরকারের মদদপুস্টদের দেয়া মামলায় দীর্ঘদিন কারাভোগের পর ২০২৪ ইং সনের ২৪ই জুলাই মুক্তিলাভ করেছেন এরশাদ আলী । তার অনুপুস্থিতিতে একদল আওয়ামী স্বৈরাচারী গোষ্ঠী আড়াই বছরের বেশি সময় ধরে ব্যবসা প্রতিষ্ঠানটি কবজা করে রেখেছিল ।
কলাবাগান থানাধীন নাসির ট্রেড সেন্টারে অবস্থিত কোম্পানির প্রধান কার্যালয় প্রায় সাড়ে ৫হাজার স্কয়ার ফিটের । এটি সাবেক ছাত্রলীগ নেতা এসএম জাকির হোসেন , ডিবি হারুন , ডিবি বাতেন, এডিসি লাকি ও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ছেলে যুথির নেতৃত্বে দখল হয় এবং অফিসে থাকা মুল্যবান ফাইলপত্র , শতাধিক কম্পিউটার ও পুরো অফিস সেটআপ লুটপাট হয়।
প্রতিষ্ঠান চেয়ারম্যান এরশাদ আলী জেলে থাকার সুবাধে প্রতিষ্ঠানের প্রধান কার্যালয়টি এবি ব্যাংকের কিছু অসাধু কর্মকর্তার ইন্ধন ও সন্ত্রাসী বাহিনীর সহায়তায় প্রায় আড়াই বছরের বেশি সময় এবি ব্যাংকের রিকভারি টিম দখল করে রাখে এবং এরশাদ আলী জেলমুক্ত হলে এটি দখলমুক্ত করেন। রিকভারি অফিসার মাহাবুব আলম দখলমুক্ত করবার সময়ে এরশাদ আলীকে সন্ত্রাসী দিয়ে ভয়ভীতি দেখিয়ে বিপুল পরিমান অর্থ চাঁদা দাবি করে এবং চাঁদা দিতে বাধ্য করে। এ ঘটনায় আদালতে মামলা দায়ের করেন এরশাদ আলী ।
এরশাদ গ্রুপের সহ প্রতিষ্ঠান শাহ্ মখদুম ট্রান্সপোর্ট এজেন্সির নামে কোম্পানির নিজস্ব ১৫০ টি ট্রাক থাকায় চাইনিজ ব্যবসায়ীদের সাথে গ্রুপটির ব্যবসায়িক চুক্তি হয় এবং সারাদেশে রড-সিমেন্ট বহন ও পদ্মা সেতুতে পাথর সাপ্লাইয়ের কাজ পেয়েছিল। উক্ত ট্রাকগুলো তেজগাঁও স্ট্যান্ডে রাখা হতো । একারণে সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর পুত্র নিয়মিত চাঁদা দাবি করতো বলে জানান এরশাদ আলী । তিনি জানান, মাঝেমধ্যেই অফিসে সন্ত্রাসী পাঠিয়ে লাখ লাখ টাকা চাঁদা নিতো । এরশাদ আলীর অনুপুস্থিতিতে চাঁদা নিতে আসা দুজন ব্যক্তিকে অস্ত্রসহ পুলিশে দেয় স্থানীয় বাসিন্দারা। এঘটনায় কলাবাগান থানায় অস্ত্র ও চাঁদাবাজির দুইটি মামলা চলমান আছে।
তার বক্তব্যে তিনি বলেন , আমি চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে আমার উপর ডিবি হারুনের নির্যাতনের খড়গ নেমে আসে।
মামলা দিয়ে আমাকে জেলে পাঠানোর পর আমার সমস্ত ট্রাক তারা দখলে নিয়ে নিজেদের লোক দিয়ে ভাড়া খাটায়।
নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁওতে আমার মালিকানাধীন এরশাদ স্টিল এন্ড রিরোলিং মিলস লিমিটেড ও জংডা অটোমেটিক রি রোলিং মিলস লিমিটেড মিল দুইটি সাবেক আওয়ামী সন্ত্রাসী শামীম ওসমানের নির্দেশে তার পালিত সন্ত্রাসী বাহিনি দখলে নিয়ে আমার উপর অত্যাচার করে।
আমি জেলে থাকা অবস্থায় আমার মালিকানাধীন ধানমন্ডি ৭(এ) তে ৯১এম ফ্ল্যাটটি যাহা ৪হাজার স্কয়ার ফিটের সেটি সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর নির্দেশে তার ছেলে ও গোল্ডেন খোকন নামধারী এক সন্ত্রাসীর লোকেরা দখল করে ভাড়া দেয় এবং ভাড়ার টাকা নিজেরা উত্তোলন করে। তেজগাঁওতে রেজিস্ট্রি অফিসের সামনে আমার প্রতিষ্ঠানের ৪০হাজার স্কয়ার ফিটের গোডাঊনে রক্ষিত মালামাল , রড-সিমেন্ট ,টায়ার-টাইলস সহ কাঁচামাল যার আনুমানিক মূল্য শত কোটি টাকা তাহা বেদখল হয় । আমি জানতে পারি উক্ত ব্যক্তিরাই তাহা দখল করে। সকল ঘটনার প্রেক্ষিতে সংশ্লিষ্ট থানা সমূহে আমি জামিনে মুক্ত হবার পর মামলা দায়ের করি যাহার কপি আমার কাছে সংরক্ষিত আছে।
এরশাদ গ্রুপের প্রতিটি অঙ্গ প্রতিষ্ঠানের ক্ষতি সাধনে যুক্ত হয়েছে সন্ত্রাসীরা। এমনকি নারায়ণগঞ্জের রুপগঞ্জে প্রস্তাবিত এরশাদ গ্রুপ ও চাইনিজদের যৌথ উদ্যোগে ইজি ইয়ামবো টায়ার ফ্যাক্টরি নির্মাণের কার্যক্রম সাবেক আওয়ামী এমপি গোলাম দস্তগীর গাজীর হস্তক্ষেপে তার সন্ত্রাসী বাহিনীর তান্ডবে বন্ধ হয়ে যায় এবং ফ্যাক্টরির জায়গাটি মাটি কেটে জলাশয়ে পরিনত করা হয় । এব্যাপারে স্থানীয় পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রে সাধারণ ডায়েরি করা হলেও পুলিশের পক্ষ থেকে কোন উদ্যোগ নেয়া হয়নি। বরং সন্ত্রাসী বাহিনী এরশাদ গ্রুপের চেয়ারম্যানকে অপহরণ করে এবং সাধারণ ডায়েরিটি প্রত্যাহার করতে চাপ ও হুমকি প্রদান অব্যাহত রেখেছে । আমি আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল একজন ব্যক্তি । আইনের দ্বারস্থ হয়ে আসামিদের বিরুদ্ধে মামলা করলে তাহারা ক্ষিপ্ত হয়ে উঠেছে । পরবর্তীতে আমি ও আমার প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে মিথ্যা ও বিভ্রান্তিকর নানা ধরনের তথ্য প্রচার করে যাচ্ছে তারা। আমি কখনোই কোনো ব্যাংকের টাকা লোপাট করিনি। বরং ব্যাংক থেকে যেসব লোন নিয়েছি তার বিপরীতে ব্যাংকের কাছে আমার স্থাবর-অস্থাবর সকল সম্পদ দায়বদ্ধ আছে। একইভাবে আমার সব ব্যাংকের হিসাব পুনঃতফসিল করতে সর্বোচ্চ চেষ্টা করছি।
দীর্ঘদিন ধরে সুনামের সঙ্গে ব্যবসা পরিচালনা করায় দেশের প্রতিষ্ঠিত বিভিন্ন ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান আমাদের অ্যাওয়ার্ড প্রদান করেছে। এর মধ্যে মীর সিমেন্ট গ্রুপের কাছ থেকে ৩ বার অ্যাওয়ার্ড লাভ করি। এছাড়া বসুন্ধরা গ্রুপ, সেনাকল্যাণ সংস্থা, সেভেন রিং সিমেন্ট , বিএসআরএম ইত্যাদি কোম্পানির ডিলার হিসেবে তাদের উৎপাদিত সিমেন্ট/রড বাজারজাত করায় সেসব কোম্পানি থেকেও একাধিক পদক প্রদান করা হয়।
আমার প্রতিষ্ঠান পদ্মা সেতুসহ বাংলাদেশের অন্যান্য মেগা প্রজেক্টে বিদেশ থেকে পাথর আমদানি করে সরবরাহ করেছে। পদ্মা মেজর ব্রিজ প্রজেক্ট থেকে বেস্ট পাথর সাপ্লাইয়ারার হিসেবে চ্যাম্পিয়ন সার্টিফিকেট পেয়েছিলাম । বর্তমানে বিভিন্ন সেক্টরে আমার শত শত কোটি টাকা বিল পাওনা রয়েছে। মিথ্যা অপপ্রচারের কারণে এ বিল উত্তোলনে অনিশ্চয়তাসহ প্রায় ৫০০ থেকে ৬০০ কোটি টাকার ব্যবসা হারাতে বসেছি । ব্যাংক থেকে যে সব লোন গ্রহণ করেছি তা দেশেই আমার ব্যবসায় বিনিয়োগ করেছি। দেশের বাইরে কোন সম্পদ তৈরি করিনি এবং দেশেও ব্যাংকের হিসেবের বাইরে আর কোন সম্পত্তি নেই। এছাড়া সকল ব্যাংকের সঙ্গেও ব্যবসায়িক সুসম্পর্ক রয়েছে।
পতিত আওয়ামী লীগ সরকারের দোসরদের পেশিশক্তি ও ষড়যন্ত্রে দেশের একজন প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ী হয়েও আমাকে কোণঠাসা হয়ে থাকতে হয়েছে। আমি স্বৈরাচারের যেসব দোসরদের মাধ্যমে সামাজিক ও ব্যবসায়িকভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছি তাদের নাম উল্লেখ করে সম্প্রতি সমস্ত ঘটনার প্রমাণ সহ আদালতে মামলা দায়ের করলে আদালত তা আমলে নিয়ে থানায় মামলা এন্ট্রি করতে আদেশ দেন । ফলশ্রুতিতে পালিয়ে থাকা আওয়ামী দোসরেরা আমার উপর ক্ষিপ্ত হয়ে তাদের নিয়ন্ত্রিত কিছু পত্রপত্রিকায় আমার বিরুদ্ধে বিভ্রান্তিকর সংবাদ প্রকাশে লিপ্ত হয়েছে। আমি এর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই। যেসব গণমাধ্যম যাছাই ব্যাতিত পতিতদের অর্থের বিনিময়ে আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করছে আমি তাদের বিরুদ্ধে আইনি নোটিশ সহ আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করিবো । আমি এমন একজন ব্যক্তি যাকে যে কোন সময় ফোনে কল দিলে পাওয়া যায় । অথচ কতিপয় হলুদ সাংবাদিক উল্লেখ করেছে আমাকে একাধিকবার কল দিয়েও পায়নি , এটি সম্পূর্ণ বানোয়াট । কেউ এটি প্রমাণ দিতে পারলে আমি তাকে পুরস্কৃত করবো।
প্রকাশিত সংবাদে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ভদ্রা এলাকার এক ব্যক্তির বক্তব্য উল্লেখ করা হয়েছে। আমি উক্ত সাংবাদিককে চ্যালেঞ্জ করছি , আপনি যার নাম প্রকাশ করতে চাননি তিনি অবশ্যই আমার করা মামলার আসামি। আসামিদের থেকে আর্থিক সুবিধা নিয়ে ভুক্তভোগীর বিপক্ষে সংবাদ প্রচার কোন গণমাধ্যমের কাজ হতে পারে না।
সকল সাংবাদিক ও পত্রিকা সম্পাদক ভাইদের প্রতি আবেদন রইলো , আপনারা মিথ্যা বিভ্রান্তিকর সংবাদ প্রচার থেকে বিরত থাকবেন এবং আমার মতন একজন দেশপ্রেমী ব্যবসায়ীর পাশে থাকবেন। কারণ আমার মাধ্যমে হাজারো লোকের কর্ম সংস্থান হয়েছে। হাজারো পরিবার তাদের সন্তানদের আমার প্রতিষ্ঠানের থেকে প্রাপ্ত বেতন দিয়ে পড়ালেখা করায়। এমতাবস্থায় রাজশাহী জুড়ে আমার যে জনপ্রিয়তা ও মানুষের মাঝে গ্রহনযোগ্যতা তাতে অনেকেরই চক্ষুশূল হয়েছি আমি। সমস্ত ঘটনা সাংবাদিক ভাইয়েরা অনুসন্ধানী চোখকে কাজে লাগিয়ে পর্যবেক্ষণ করবেন বলেই আমার প্রত্যাশা । নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণে এরশাদ গ্রুপ সকলের পাশে থাকার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি ।
এরশাদ আলী বলেন, আপনারা একজন নির্যাতিত এরশাদ আলীর বিপক্ষ শক্তিকে প্রশ্রয় দেয়া মানে জুলুমকারীদের পাশে থাকা। তাই অনুরোধ ব্যক্ত করছি হলুদ সাংবাদিকতাকে দূরে ঠেলে সত্যকে ধারণ করুন । এরশাদ গ্রুপ আর্থিক ক্ষতি কাটিয়ে উঠে ঘুরে দাঁড়াতে চায়। এ অবস্থায় বর্তমান প্রশাসন ও প্রধান উপদেষ্টার হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন এরশাদ আলী।





















