প্রতিনিধি ৫ ডিসেম্বর ২০২৫ , ৯:২৫:৫৩ প্রিন্ট সংস্করণ
বাংলাদেশি শিক্ষার্থী সাদ আব্দুল্লাহ আয়ান জাপানের “সাইতামা সিটি হিউম্যান রাইটস এসেই কম্পিটিশন ২০২৫”-এ প্রথম স্থান অর্জন করে এক অনন্য কৃতিত্ব দেখিয়েছেন। নগরজুড়ে প্রাথমিক থেকে মাধ্যমিক স্তরের ১ লাখ ৬০ হাজারেরও বেশি শিক্ষার্থীকে পিছনে ফেলে সে এ সাফল্য অর্জন করে।
সাইতামা সিটি বোর্ড অব এডুকেশন প্রতিবছর এ প্রতিযোগিতার আয়োজন করে, যার মূল লক্ষ্য শিক্ষার্থীদের মধ্যে মানবাধিকার সচেতনতা, বৈচিত্র্যের প্রতি শ্রদ্ধাবোধ এবং সমতার গুরুত্ব তুলে ধরা। এটি বৈষম্য, সাংস্কৃতিক বোঝাপড়া, সামাজিক ন্যায়বিচারসহ বিভিন্ন মানবিক বিষয় নিয়ে শিক্ষার্থীদের প্রবন্ধ লিখতে উৎসাহিত করে। সাইতামার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষামূলক উদ্যোগ হিসেবে এ প্রতিযোগিতা ব্যাপকভাবে সমাদৃত।
আয়ান, ডিসেম্বর ২০১৭ সালে বাংলাদেশে জন্মগ্রহণ করে, বর্তমানে সে জাপানের সাইতামা শহরের ওকুবো হিগাশি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী। জাপানি ভাষা সম্পর্কে পূর্বজ্ঞান ছাড়াই সে পিতা মাতার সঙ্গে ২৮ নভেম্বর ২০২৩ সালে জাপানে আসে। মাত্র দেড় বছরে সে নতুন পরিবেশে নিজেকে মানিয়ে নেয় এবং এমন দক্ষতা অর্জন করে যে একটি পুরস্কারজয়ী প্রবন্ধ রচনা করতে সক্ষম হয়।
তার প্রবন্ধের শিরোনাম ছিল “কুনি ওয়া খাংকেই নাই” ( 国はかんけいない / দেশ কোনো বিষয় নয় )। কোনো ব্যক্তির জাতীয়তা তার মূল্য নির্ধারণ করে না বরং সকল মানুষ মর্যাদা ও সম্মানের দাবিদার- তার প্রবন্ধে সে বিষয় গুলিতুলে ধরে। সাইতামা সিটি বোর্ড অব এডুকেশন তার প্রবন্ধকে স্পষ্টতা, পরিণত ভাবনা ও মানবাধিকারবোধের জন্য উচ্চ প্রশংসা করে।
আজ ৩০ নভেম্বর ২০২৫, সাইতামার ওমিয়া শহরে অবস্থিত সাইতামা সিটি লাইফলং লার্নিং সেন্টার-এ আয়োজিত অনুষ্ঠানে শিক্ষাবোর্ডের প্রধান কর্মকর্তা, শিক্ষক, অভিভাবক ও সমাজের প্রতিনিধিদের উপস্থিতিতে আয়ানের হাতে পুরস্কার তুলে দেওয়া হয়।
এই অর্জন ওকুবো হিগাশি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে গর্বের সঞ্চার হয়েছে, কারণ বিদ্যালয়ের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো কোনো ছাত্র এই মর্যাদাপূর্ণ পুরস্কার অর্জন করলো। জাপানে বসবাসরত বাংলাদেশি সম্প্রদায়ের মধ্যেও এ অর্জন উচ্ছ্বাসের জন্ম দিয়েছে।
তার বাবা মো. সোহেল রানা, বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট (বিনা)-এর বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা এবং বর্তমানে মেক্সট বৃত্তিতে সাইতামা বিশ্ববিদ্যালয়ে পিএইচডি গবেষণায় নিয়োজিত; এবং তার মা উম্মে সালমা শীলা- উভয়েই শিক্ষাগত ও সাংস্কৃতিক বিকাশে সহায়তার জন্য বিদ্যালয় এবং সাইতামা সিটি এডুকেশন বোর্ডের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
আয়ানের এ অর্জন প্রবাসে বেড়ে ওঠা বাংলাদেশি শিশুদের সম্ভাবনার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। একই সঙ্গে এটি বাংলাদেশ ও জাপানের বন্ধুত্বপূর্ণ সাংস্কৃতিক সম্পর্ককে আরও মজবুত করবে এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের আন্তর্জাতিক মঞ্চে উত্তরণের সম্ভাবনা তুলে ধরবে।




















