শিক্ষা ও শিক্ষাঙ্গন

রানার মৃত্যুর চার বছর পেরিয়ে গেলেও বিচার প্রক্রিয়া আলোর মুখ দেখেনি

  মাহবুবুজ্জামান সেতু, নওগাঁ প্রতিনিধি ৪ সেপ্টেম্বর ২০২৫ , ৫:৪২:২৭ প্রিন্ট সংস্করণ

নওগাঁর মান্দায় ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে ঘিরে সহিংসতায় নিহত যুবক ইমরান হোসেন রানার মৃত্যুর চার বছর পেরিয়ে গেলেও বিচার প্রক্রিয়া আলোর মুখ দেখেনি। মামলার মূল আসামিরা এখনো ধরা-ছোঁয়ার বাইরে থাকায় হতাশ নিহতের পরিবার ও স্থানীয়রা। তবে সম্প্রতি পুলিশের পক্ষ থেকে মামলার পুনঃতদন্ত শুরু হয়েছে।

গত বৃহস্পতিবার (৪ সেপ্টেম্বর) বিকেলে নওগাঁ জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) ফারজানা হোসেন ঘটনাস্থল সতিহাট বাসস্ট্যান্ড পরিদর্শন করেন। এসময় তিনি প্রত্যক্ষদর্শী, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, মামলার বাদী ও নিহতের পরিবারের সঙ্গে কথা বলে নতুন করে সাক্ষ্যগ্রহণ করেন।

ঘটনার সময় উপস্থিত ছিলেন মান্দা থানার ওসি (তদন্ত) আব্দুল গণি, ৫নং গণেশপুর ইউপি চেয়ারম্যান ও উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শফিকুল ইসলাম বাবুল চৌধুরীসহ বিএনপি’র স্থানীয় নেতৃবৃন্দ এবং নিহতের স্বজনরা।

স্থানীয়রা জানান, ২০২১ সালের ১২ নভেম্বর প্রতীক বরাদ্দের প্রথম দিন সতিহাট বাজারে দুই প্রার্থীর সমর্থকদের সংঘর্ষে অন্তত ৮-১০ জন আহত হন। গুরুতর আহত ইমরান হোসেন রানা (৩৮) রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১৮ নভেম্বর মারা যান।

নিহতের মা রেজিয়া বিবি বাদী হয়ে ১৯ নভেম্বর আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থী হানিফ উদ্দিন মণ্ডলকে প্রধান আসামি করে ৩০০ জনের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা করেন। কিন্তু তদন্তে গড়িমসি, চার্জশিটে মাত্র ২৬ জনকে অন্তর্ভুক্ত করা এবং রাজনৈতিক প্রভাবে মূল আসামিদের নাম বাদ দেওয়ার অভিযোগ তুলেছেন নিহতের স্বজনরা।

চার বছরেও আসামিদের অনেকেই প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়ালেও তাদের গ্রেপ্তার করা হয়নি। বিপরীতে প্রতিপক্ষের দায়ের করা বিস্ফোরক মামলায় নিহত রানার সমর্থক ইউপি চেয়ারম্যান শফিকুল ইসলাম বাবুল চৌধুরীসহ তার স্বজন ও নেতাকর্মীরা কারাবরণ করেছেন।

নিহতের পরিবারের অভিযোগ, রাজনৈতিক প্রভাবশালী আসামিরা আইনের ঊর্ধ্বে থাকায় তারা ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ফারজানা হোসেন বলেন, “পুনঃতদন্তের মাধ্যমে ঘটনার প্রকৃত রহস্য উদঘাটনের চেষ্টা চলছে। কোনো অপরাধী যাতে ছাড় না পায় সে বিষয়ে প্রশাসন সতর্ক রয়েছে।”

২৮ নভেম্বর ২০২১ সালের ইউপি নির্বাচনে শফিকুল ইসলাম বাবুল চৌধুরী চেয়ারম্যান নির্বাচিত হলেও রাজনৈতিক প্রতিহিংসার জেরে তাঁকে ও তার পরিবারের সদস্যদের কারাবরণ করতে হয়েছে বলে স্থানীয়দের অভিযোগ।

আরও খবর

Sponsered content