প্রচ্ছদ

হাকিমপুরে বাম্পার পানের ফলন, দাম কমে চাষির মুখে হতাশার ছায়া

  মোঃ শাহ্ আলম মন্ডল, দিনাজপুর: ৮ নভেম্বর ২০২৫ , ৪:০৪:৩০ প্রিন্ট সংস্করণ

দিনাজপুরের হাকিমপুর উপজেলার মাধবপাড়া গ্রামের পানের বরজ এখন সবুজে মোড়া। বাম্পার ফলন হলেও বাজারে আশানুরূপ দাম না পাওয়ায় চাষিদের মুখে হাসির বদলে এসেছে হতাশার ছায়া।

পান, যা বাংলা সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের সঙ্গে অঙ্গাঙ্গিভাবে জড়িত, আতিথেয়তা, ধর্মীয় অনুষ্ঠান ও সামাজিক আড্ডায় অপরিহার্য। তাই ভালো ফলন চাষিদের আশায় বুক বেঁধেছিল, তবে বাজারে দাম কমে যাওয়ায় সেই আশা ম্লান হয়ে গেছে।

মাধবপাড়া গ্রামের চাষি মাইদুল শেখ বলেন, “এবার পান বিক্রি করে কোনো লাভ হচ্ছে না, বরং লোকসান দিচ্ছি। সার, কীটনাশক, সেচ ও শ্রমিকের মজুরি সবকিছুর খরচ বেড়েছে। আগে ৫০ টাকায় বিক্রি হতো, এখন ২৫ টাকায় বিক্রি করতে হচ্ছে।”

চাষি তারিকুল ইসলাম যোগ করেন, “১০০ পিস পান এখন ২৫–৩০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। খরচ মেটাতেই হিমশিম খাচ্ছি।”
তরুণ চাষি ইমরান হোসেন বলেন, “আমাদের পৈত্রিক পেশা পানচাষ। ফলন ভালো হলেও বিক্রি না হলে পরিশ্রম বৃথা যায়। পাইকাররা ইচ্ছেমতো দাম ঠিক করে, তাই আমরা কম দামে বিক্রি করতে বাধ্য হই।”

সোহরাব আলী বলেন, “২০ বছর ধরে পানচাষ করছি। এমন ফলন আগে দেখিনি, কিন্তু দাম এত কম কখনো ছিল না। রাখার জায়গা না থাকায় বিক্রি করতে হচ্ছে।”
নারী চাষি রওশন আরা বেগম যোগ করেন, “বরজে সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত কাজ করি। এখন লাভ তো দূরের কথা, ঘর চালানোই কষ্ট।”

চাষিদের পাশাপাশি পানবাগানের শ্রমিকরাও সমস্যায় পড়েছেন। আগের মতো কাজ কমে যাওয়ায় আয় অর্ধেকে নেমেছে।

হাকিমপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আরজেনা বেগম বলেন, “পানচাষ পরিশ্রমসাপেক্ষ ফসল। কৃষি অফিস থেকে আমরা নিয়মিত পরামর্শ দিচ্ছি। এবার ফলন ভালো হলেও বাজারের চাহিদা ও যোগানের ওপর দাম নির্ভর করে। চাষক যেন ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, সে বিষয়ে আমরা সচেষ্ট।”

কৃষি অফিসের তথ্য অনুযায়ী, চলতি মৌসুমে হাকিমপুরে প্রায় ৪০ হেক্টর জমিতে পানচাষ হয়েছে এবং উৎপাদন হয়েছে ৫৪০ মেট্রিক টন। অধিকাংশ পরিবার বংশপরম্পরায় পানচাষে যুক্ত এবং অনেকের জীবিকার প্রধান উৎস।

ভালো ফলনের মাঝেও চাষিরা যখন লাভ দেখতে পাচ্ছে না, তখন স্পষ্ট হয় পরিশ্রমের সঠিক মূল্য নিশ্চিত করা এখন সময়ের দাবি। পানের মতো ঐতিহ্যবাহী ফসলের টিকে থাকার জন্য প্রয়োজন সরকারি সহায়তা, ন্যায্য দাম ও সুষ্ঠু বাজারব্যবস্থা।

আরও খবর

Sponsered content