এম.আমিরুল ইসলাম জীবন, স্টাফ রিপোর্টার ২ সেপ্টেম্বর ২০২৫ , ১:০৩:১৯ প্রিন্ট সংস্করণ
যশোরের ঝিকরগাছা উপজেলার ৬নং ঝিকরগাছা ইউনিয়নে সাবেক সাংবাদিক পরিচয় দিয়ে পশু চিকিৎসক মুক্তার আলীর বিরুদ্ধে সরকারি ফি উপেক্ষা করে অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, সরকার নির্ধারিত ৭৫ টাকার পরিবর্তে তিনি প্রতিবার কৃত্রিম প্রজননে ১২০০ টাকা পর্যন্ত আদায় করছেন, যা সাধারণ মানুষের পকেট থেকে হাজারো টাকা লুটে নিচ্ছে।
মুক্তার আলী পদ্মপুকুর গ্রামের মৃত নজরুল ইসলামের ছেলে। দীর্ঘ ২০ বছর ঢাকায় থেকে তিনি সাংবাদিকতা করেছেন বলে দাবি করলেও গত ৫ বছর ধরে এলাকায় ফিরে পশু চিকিৎসক পরিচয়ে কাজ করছেন। সম্প্রতি তিনি একটি বেসরকারি কোম্পানি (এসসিআই)-এর বীজের ডিলার হিসেবে যুক্ত হন।
মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী সরকারি নির্ধারিত ফি—তরল সিমেন দ্বারা কৃত্রিম প্রজনন ফি: ৫০ টাকা ,সিমেন দ্বারা কৃত্রিম প্রজনন ফি: ৭৫ টাকা , বেসরকারি সংস্থা নির্ধারিত ফি (হিমায়িত): ১৫০ টাকা ,এর সঙ্গে সর্বোচ্চ ৫০ টাকা কর্মীর পারিশ্রমিক ও দূরত্ব অনুযায়ী প্রতি কিলোমিটারে ২০ টাকা (সর্বোচ্চ ১০ কি.মি.) নির্ধারণ রয়েছে।
গত ২৪ এপ্রিল ইউনিয়নের শ্রীরামপুর গ্রামের রয়েল/রাফিজা নামের এক গাভির মালিক অভিযোগ করেন, মুক্তার আলী তাদের বাড়িতে গিয়ে সকালে ও বিকালে দুই ডোজ কৃত্রিম প্রজনন করেন এবং প্রতিবার ১২০০ টাকা করে মোট ২৪০০ টাকা নেন।
অভিযোগের বিষয়ে মুক্তার আলী সাংবাদিকদের বলেন,“এগুলো পশু অফিস দেখবে। আমি এসসিআই কোম্পানীর ডিলার। সরকারি বীজের দাম ৭৫ টাকা, তবে বেসরকারি বীজ ২০০ টাকা থেকে শুরু করে ৯০০ টাকা পর্যন্ত হয়। আমরা ১০ টাকা লাভে কর্মীদের কাছে দিই। একবারই বীজ দেওয়া লাগে, দুইবার দেওয়ার কোনো নিয়ম নেই।”
তার বিরুদ্ধে অভিযোগ অস্বীকার করে তিনি আরও বলেন,“আমার জীবনে এমন কোনো ঘটনা ঘটেনি। যদি প্রমাণ করতে পারেন, আমি তাদের ১০ গুণ টাকা ফেরত দেবো।”
উপজেলা প্রাণি সম্পদ অফিসার ডা. মাসুমা আখতার জানান,“সরকারি নির্ধারিত ফি’র বাইরে অতিরিক্ত টাকা নেওয়ার কোনো সুযোগ নেই। সে যে কোম্পানিরই হোক, তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আমি বিষয়টি খতিয়ে দেখছি।”
এলাকার সচেতন মহল মনে করছে, সরকারিভাবে অনুমোদিত তালিকাভুক্ত কর্মীদের বাইরে যে সকল ব্যক্তি নামে-বেনামে পশু চিকিৎসার নামে ব্যবসা চালাচ্ছেন, তাদের বিরুদ্ধে দ্রুত প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা জরুরি।




















