জবি প্রতিনিধি: ৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ , ৫:৩৯:৪৯ প্রিন্ট সংস্করণ
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় একটি ছাত্রসংগঠনের কার্যালয় থেকে বিপুল পরিমাণ দেশীয় অস্ত্র ও স্ট্যাম্প উদ্ধারের ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও পুরান ঢাকার সাধারণ মানুষের মধ্যে চরম উদ্বেগ ও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী গতকাল রাতের অভিযানে এসব আলামত উদ্ধার করে।
স্থানীয় সূত্র জানায়, উদ্ধারকৃত সামগ্রীর মধ্যে বাঁশের লাঠি, ধারালো অস্ত্রসহ বিভিন্ন সরঞ্জাম রয়েছে, যা সম্ভাব্য সহিংস কর্মকাণ্ডের ইঙ্গিত দিচ্ছে। বিশেষ করে আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে এমন অস্ত্র মজুদের ঘটনা নতুন করে শঙ্কা তৈরি করেছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের একাধিক শিক্ষার্থী অভিযোগ করেন, বিগত বছরগুলোতে নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ক্যাম্পাস ও আশপাশের এলাকায় ভয়ভীতি প্রদর্শন, প্রভাব বিস্তার এবং ভোটাধিকার হরণের চেষ্টা দেখা গেছে। তাদের আশঙ্কা, একই কৌশলে আবারও একটি গোষ্ঠী ভোটকেন্দ্র দখল ও সন্ত্রাসী তৎপরতার প্রস্তুতি নিচ্ছে কি না—তা খতিয়ে দেখা জরুরি।
পুরান ঢাকার এক বাসিন্দা বলেন, “বিশ্ববিদ্যালয় এলাকা এমনিতেই ঘনবসতিপূর্ণ। এখানে অস্ত্র উদ্ধারের খবর সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক বাড়িয়েছে। দ্রুত তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নিলে পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে পারে।”
এ বিষয়ে জবি ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদল-এর নেতা সুমন সরদার অভিযোগ করে বলেন, বিগত বছরগুলোর মতো নির্বাচনকে সামনে রেখে একটি গোষ্ঠী ভয়ভীতি, ব্যালট জালিয়াতি ও অস্ত্র মজুদের মাধ্যমে পরিস্থিতি অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করছে। তিনি দাবি করেন, সাধারণ মানুষ এখন সচেতন এবং যেকোনো বিশৃঙ্খলার বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলবে।
অন্যদিকে, অভিযুক্ত সংগঠনের পক্ষ থেকে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর এক কর্মকর্তা জানান, উদ্ধারকৃত আলামত পরীক্ষা করা হচ্ছে এবং বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত চলছে। প্রয়োজন হলে মামলা ও গ্রেপ্তারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
বিশ্লেষক ও সচেতন মহলের মতে, ক্যাম্পাস রাজনীতিতে সহিংসতার পুনরাবৃত্তি রোধে প্রশাসনের কঠোর অবস্থান অপরিহার্য। কোনো সংগঠন বা গোষ্ঠী যেন আইন নিজের হাতে তুলে নিতে না পারে, সে বিষয়ে সর্বোচ্চ সতর্কতা প্রয়োজন বলে তারা মনে করেন।
এদিকে শিক্ষার্থী ও স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত নিরপেক্ষ তদন্ত, ক্যাম্পাস ও আশপাশে নিরাপত্তা জোরদার এবং দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন, যাতে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় শান্তি ও স্বাভাবিক পরিবেশ বজায় থাকে।





















