মো. সাদমান সাকিব দিশান, জবি প্রতিনিধি ৪ মার্চ ২০২৬ , ৪:২০:৫৯ প্রিন্ট সংস্করণ
আন্দোলনের মাধ্যমে পাওয়া একমাত্র উপাচার্য হিসেবে পরিচিত জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়-এর উপাচার্য অধ্যাপক ড. রেজাউল করিমের কাছে শিক্ষার্থীদের প্রত্যাশা ছিল অন্য যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি। নিজেদের মধ্য থেকে উপাচার্য নিয়োগের দাবিতে শিক্ষার্থীরা যে আন্দোলন করেছিল, তার পেছনে ছিল বিশ্ববিদ্যালয়ের দীর্ঘদিনের সংকট নিরসনের আশা। তবে দায়িত্ব গ্রহণের পর প্রশাসনিক কার্যক্রমে হতাশা প্রকাশ করছেন শিক্ষার্থীরা।
শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, উপাচার্য শিক্ষার্থীবান্ধব নেতৃত্বের বদলে কেবল একজন নিয়োগকর্তার ভূমিকায় সীমাবদ্ধ থেকেছেন। তাদের প্রধান দাবিগুলোর মধ্যে অন্যতম ছিল শিক্ষার্থীদের জন্য আবাসন ব্যবস্থা নিশ্চিত করা এবং যতদিন আবাসন সংকট নিরসন না হয়, ততদিন আবাসিক ভাতার ব্যবস্থা করা।
আবাসন বৃত্তির দাবিতে ‘লং মার্চ টু যমুনা’ কর্মসূচির মাধ্যমে দেশব্যাপী আলোড়ন সৃষ্টি হয়। ওই আন্দোলনের মুখে সরকার বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) মাধ্যমে আবাসন বৃত্তি প্রদানের প্রতিশ্রুতি দিলেও উপাচার্যের প্রশাসনিক অদক্ষতার কারণে এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি বলে দাবি শিক্ষার্থীদের। ফলে আবাসন বৃত্তি এখনো শিক্ষার্থীদের কাছে অধরাই রয়ে গেছে।
এ নিয়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রশ্ন উঠেছে—তাহলে কি উপাচার্যের প্রধান লক্ষ্য ছিল জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (জকসু) নির্বাচন আয়োজন এবং নিজস্ব অনুসারীদের বিভিন্ন পদে নিয়োগ দেওয়া?
শুধু আবাসন নয়, দ্বিতীয় ক্যাম্পাসের অগ্রগতি নিয়েও রয়েছে চরম হতাশা। শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, গত এক বছরে নতুন কোনো উন্নয়ন কাজ শুরু করতে পারেনি বর্তমান প্রশাসন। এমনকি পূর্ববর্তী প্রশাসনের শুরু করা কাজগুলোও তারা শেষ করতে ব্যর্থ হয়েছে। দফায় দফায় সময় বাড়ানো হলেও দ্বিতীয় ক্যাম্পাসের বালু ভরাটসহ প্রথম ধাপের অধিকাংশ কাজ এখনো অসম্পূর্ণ রয়ে গেছে।
এসব বিষয়কে উপাচার্য অধ্যাপক ড. রেজাউল করিমের প্রশাসনিক অদক্ষতার সরাসরি প্রমাণ হিসেবে দেখছেন শিক্ষার্থীরা।
এ বিষয়ে উপাচার্য অধ্যাপক ড. রেজাউল করিমের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তিনি ব্যস্ততার কথা জানিয়ে তাৎক্ষণিকভাবে কথা বলতে অপারগতা প্রকাশ করেন। তিনি সংক্ষিপ্তভাবে বলেন, “আমি লিখছি, পরে কথা হবে।”




















