শিক্ষা ও শিক্ষাঙ্গন

কুবিতে রাজনীতি নিষিদ্ধ হলেও প্রশাসনিক ভবনে ছাত্রদলের কর্মশালা

  কুবি প্রতিনিধি: ২ সেপ্টেম্বর ২০২৬ , ৪:৪৯:০৪ প্রিন্ট সংস্করণ

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে (কুবি) সব ধরনের রাজনৈতিক সংগঠনের কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকার মধ্যেই প্রশাসনিক ভবনে শাখা ছাত্রদলের কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে। মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৩টায় প্রশাসনিক ভবনের ৪১১ নম্বর কক্ষে এ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়।

নেতাকর্মীদের নেতৃত্বের বিকাশ, রাজনৈতিক ও সাংগঠনিক দক্ষতা বৃদ্ধি, সাংগঠনিক শৃঙ্খলা জোরদার এবং মাদক ও র‌্যাগিংমুক্ত ক্যাম্পাস গড়ে তোলার বিষয়ে সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে কর্মশালাটি আয়োজন করা হয় বলে জানিয়েছে শাখা ছাত্রদল।

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, ২০০৭ সালে অনুষ্ঠিত বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম সিন্ডিকেট সভায় ক্যাম্পাসে সব ধরনের রাজনৈতিক সংগঠনের কার্যক্রম নিষিদ্ধ করা হয়। পরে ২০২৪ সালের ৮ আগস্ট অনুষ্ঠিত ১০০তম (জরুরি) সিন্ডিকেট সভায়ও এ সিদ্ধান্ত বহাল রাখা হয়। সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে কোনো রাজনৈতিক দলের অঙ্গ, সহযোগী বা ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠন প্রকাশ্যে বা গোপনে রাজনৈতিক কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারবে না।

এ ছাড়া কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় আইনের ৪৩(ঘ) ধারায় শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের কোনো রাজনৈতিক দলের সদস্য হওয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। এ বিধান লঙ্ঘন করলে শৃঙ্খলাভঙ্গের দায়ে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়ার বিধান রয়েছে।

কর্মশালায় শাখা ছাত্রদলের সদস্যসচিব আবুল বাশারের সঞ্চালনায় এবং আহ্বায়ক মুস্তাফিজুর রহমান শুভর সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র নির্দেশনা ও পরামর্শক দপ্তরের পরিচালক ও সহযোগী অধ্যাপক ড. জুলহাস উদ্দীন। এ সময় লোকপ্রশাসন বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ও কুবি ইউট্যাবের সাধারণ সম্পাদক মাহিন উদ্দিন, ইংরেজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ও কাজী নজরুল ইসলাম হলের প্রভোস্ট মো. হারুনসহ শাখা ছাত্রদলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

কর্মশালায় রাজনৈতিক ও সাংগঠনিক দক্ষতা বৃদ্ধির পাশাপাশি নেতৃত্বের গুণাবলি, সাংগঠনিক শৃঙ্খলা, দায়িত্ববোধ ও মানবিক মূল্যবোধ নিয়ে আলোচনা করা হয়। একই সঙ্গে মাদক ও র‌্যাগিংবিরোধী সচেতনতা এবং শিক্ষার্থীদের একাডেমিক কার্যক্রমকে অগ্রাধিকার দেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।

শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক মুস্তাফিজুর রহমান শুভ বলেন, “প্রশাসনের কাছ থেকে মৌখিকভাবে অনুমতি নিয়েছিলাম। আমরা কর্মসূচি করব, সেটিও সবাই জানে। মাদক ও র‌্যাগিংমুক্ত ক্যাম্পাস গড়ার লক্ষ্যেই আমাদের এই কর্মসূচি।”

বিশ্ববিদ্যালয়ে রাজনৈতিক কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকার বিষয়ে তিনি বলেন, “ক্যাম্পাসে রাজনীতি আইনে কী আছে, না আছে, সেটা আমরা লক্ষ্য করি না। সচেতন শিক্ষার্থীরা সবাই রাজনীতি করতে পারবে। আমরা কাউকে জোর করে রাজনীতি করাতে চাই না।”

তিনি আরও বলেন, বর্তমান উপাচার্যের সঙ্গে মৌখিকভাবে কথা হয়েছে। সবার জন্য রাজনীতি উন্মুক্ত করার দাবিতে দ্রুত স্মারকলিপি দেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।

রাজনীতি নিষিদ্ধ ক্যাম্পাসে কর্মশালায় অংশগ্রহণের বিষয়ে লোকপ্রশাসন বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ও ইউট্যাবের সাধারণ সম্পাদক মাহিন উদ্দিন বলেন, “এটা একটি একাডেমিক প্রোগ্রাম ছিল। মাদক ও র‌্যাগিংবিরোধী আলোচনা হয়েছে। তাই সেখানে গিয়েছি। আমি সেখানে কোনো রাজনৈতিক প্রোগ্রাম দেখিনি।”

বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়ন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. মো. জুলহাস উদ্দিন বলেন, “বিশ্ববিদ্যালয়ে রাজনৈতিক কার্যক্রম চলছে। এগুলো খাতা-কলমে নিষিদ্ধ, কিন্তু বাস্তবে চলছে। আগে ছাত্রলীগ করত, এখন ছাত্রদল-শিবির করে। এই কর্মসূচিতে মাদক ও র‌্যাগিংবিরোধী আলোচনা হয়েছে। কোনো সংগঠন এমন উদ্যোগ নিলে আমরা তাদের পাশে থাকব।”

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. আব্দুল হাকিম বলেন, “আমি এই প্রোগ্রামের বিষয়ে কিছু জানি না। তবে শুনেছি প্রশাসনিক ভবনে কোনো ভাইয়ের নামে স্লোগান দেওয়া হচ্ছে। প্রশাসনিক ভবনের কক্ষ বরাদ্দের অনুমতি রেজিস্ট্রার দিতে পারেন। এ বিষয়ে তিনিই ভালো বলতে পারবেন।”

বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আমজাদ হোসেন সরকারের বক্তব্য জানতে চাইলে তিনি বিষয়টি এড়িয়ে যান।

আরও খবর

Sponsered content