প্রতিনিধি ২ সেপ্টেম্বর ২০২৬ , ১১:৪১:৩৯ প্রিন্ট সংস্করণ
জাপানে অনুষ্ঠেয় আসন্ন এশিয়ান গেমসে অংশ নেওয়া ক্রিকেট দলগুলো চাইলে নিজেদের পছন্দমতো হোটেলের ব্যবস্থা করতে পারবে। আয়োজকদের পক্ষ থেকে দেওয়া আবাসন নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হওয়ার পর এ কথা জানিয়েছেন জাপান ক্রিকেট সংস্থার প্রধান নির্বাহী নাওকি অ্যালেক্স মিয়াজি।
মিয়াজি বলেন, ‘এশিয়ান ক্রিকেট কাউন্সিল দীর্ঘদিন ধরে আইচি-নাগোয়া এশিয়ান গেমস আয়োজক কমিটির সঙ্গে আবাসনের বিভিন্ন ব্যবস্থা নিয়ে আলোচনা করছে। ক্রিকেটে অংশ নেওয়া দলগুলোকে হোটেলে থাকার ব্যবস্থা দেওয়া হচ্ছে। অন্য অনেক খেলায় অংশ নেওয়া খেলোয়াড়দের আরও সীমিত সুবিধায় থাকতে হবে, যেমন প্রমোদতরী বা কনটেইনার হোটেল। তবে কোনো দল চাইলে নিজেদের আবাসনের ব্যবস্থা নিজেরাই করতে পারবে।’
প্রতিযোগিতার সময় খেলোয়াড়দের জন্য প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা ও অন্যান্য ব্যবস্থাপনা নিয়েও কথা বলেছেন মিয়াজি।
তিনি বলেন, ‘খেলোয়াড়দের জন্য নির্ধারিত এলাকায় শৌচাগারের ব্যবস্থা থাকবে। মাঠে অস্থায়ী ও স্থায়ী—দুই ধরনের সুবিধাই থাকবে। মাঠের ভেতরের সুবিধাগুলো অস্থায়ী হলেও সীমিত সময় ও অবকাঠামোগত বাধার মধ্যেও সর্বোত্তম সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করতে আয়োজক কমিটি এক বছরেরও বেশি সময় ধরে এশিয়ান ক্রিকেট কাউন্সিলের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করেছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘অস্থায়ী হলেও সাজানো পোশাক পরিবর্তনের কক্ষগুলো খেলোয়াড় ও কর্মকর্তাদের জন্য যতটা সম্ভব আরামদায়ক করা হবে। মাঠের আশপাশে স্থায়ী কিছু সুযোগ-সুবিধাও রয়েছে, যা খেলোয়াড়েরা ব্যবহার করতে পারবেন।’
নিসিন শহরের কোরোগি ক্রীড়া উদ্যান আগামী সেপ্টেম্বর-অক্টোবরে পুরুষ ও নারী—উভয় বিভাগের ক্রিকেট প্রতিযোগিতা আয়োজন করবে। চলতি বছরের শুরুতে এই মাঠেই পুরুষদের পূর্ব এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ বাছাইপর্ব অনুষ্ঠিত হয়েছিল।
মিয়াজি বলেন, ‘মাঠ প্রস্তুতের জন্য তাদের হাতে মাত্র ১৭ মাস সময় ছিল। আইচি প্রদেশে মানসম্মত কোনো ক্রিকেট মাঠ না থাকায় তাদের একেবারে শূন্য থেকে শুরু করতে হয়েছে। সীমিত সময় ও সম্পদের কথা বিবেচনা করে আয়োজক কমিটি এবং এশিয়ান ক্রিকেট কাউন্সিল একসঙ্গে কাজ করে খেলার উপযোগী সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করেছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘এটি হবে পূর্ণাঙ্গ আকারের মাঠ। সেখানে ঘাসের মাঠের পাশাপাশি কৃত্রিম ও প্রাকৃতিক উপাদানের সমন্বয়ে তৈরি উইকেট থাকবে। সেরা মাঠ প্রস্তুতকারকেরা এগুলো তৈরি করেছেন। এ ক্ষেত্রে শ্রীলঙ্কা ক্রিকেটের অবদান বিশেষভাবে উল্লেখ করতে হবে। এত কম সময় ও সীমিত সুযোগের মধ্যে তাদের কাজেরও কিছু সীমাবদ্ধতা রয়েছে। তবে আমি যা দেখেছি, তাতে এশিয়ান গেমসে ক্রিকেট অন্তর্ভুক্ত হওয়ার পর এখন পর্যন্ত সবচেয়ে ভালো খেলার মাঠ ও পরিবেশ এখানেই দেখা যাবে।’
পুরুষদের ক্রিকেট প্রতিযোগিতা ২৪ সেপ্টেম্বর থেকে ৩ অক্টোবর পর্যন্ত চলবে। আর নারীদের প্রতিযোগিতা শুরু হবে ১৭ সেপ্টেম্বর এবং শেষ হবে ২২ সেপ্টেম্বর।
পুরুষদের প্রতিযোগিতায় আফগানিস্তান, বাংলাদেশ, ভারত, পাকিস্তান ও শ্রীলঙ্কা সরাসরি অংশ নেওয়ার সুযোগ পেয়েছে। এশিয়ার পূর্ণ সদস্য দেশ হওয়ায় তারা সরাসরি যোগ্যতা অর্জন করেছে। স্বাগতিক হিসেবে জাপানও সরাসরি অংশ নিচ্ছে। এ ছাড়া নেপাল, মালয়েশিয়া, হংকং ও ওমানও পুরুষদের প্রতিযোগিতায় অংশ নেবে।









