মাহবুবুজ্জামান সেতু, নওগাঁ প্রতিনিধি: ১৮ মে ২০২৬ , ৮:৩৬:০৪ প্রিন্ট সংস্করণ
“একমাত্র ছেলে। কত স্বপ্ন নিয়ে, অনেক কষ্ট করে ঢাকার একটি প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ে বিএসসি ইঞ্জিনিয়ারিং পড়ালাম। ভেবেছিলাম বুড়ো বয়সে আমাদের দেখবে। আজ সেই ছেলেই আমাদের পথের ভিখারি বানিয়েছে। ঘরে মাত্র ৫ কেজি চাল আছে। গত চার বছর ধরে একবেলা-দুবেলা খেয়ে না খেয়ে দিন পার করছি।”
চোখের জল মুছতে মুছতে কথাগুলো বলছিলেন নওগাঁ সদর উপজেলার পারবাঁকাপুর গ্রামের বৃদ্ধ আব্দুল জলিল শেখের স্ত্রী মঞ্জোয়ারা বেগম। ছেলে ও পারিবারিক সম্পত্তি নিয়ে দীর্ঘদিনের বিরোধে অসহায় হয়ে পড়েছেন এই বৃদ্ধ দম্পতি।
পরিবার সূত্রে জানা গেছে, আব্দুল জলিল শেখ (৮৩) নওগাঁর আত্রাই উপজেলার শাহাগোলা ইউনিয়নের তাড়াটিয়া গ্রামের বাসিন্দা। পরবর্তীতে তিনি নওগাঁ সদর উপজেলার শৈলগাছি ইউনিয়নের পারবাঁকাপুর এলাকায় জমি কিনে নার্সারি ব্যবসা শুরু করেন। দীর্ঘ পরিশ্রমের মাধ্যমে তিনি প্রায় ২০ থেকে ২৫ বিঘা জমি ক্রয় করেন।
অভিযোগ রয়েছে, ছেলে শেখ আ. রহমান সাইক উচ্চশিক্ষা সম্পন্ন করার পর ব্যবসার জন্য বাবার কাছে ১০ লাখ টাকা দাবি করেন। টাকা দিতে না পারলে ব্যাংক ঋণের জন্য জমি বন্ধক রাখার কথা বলে কৌশলে বাবা-মায়ের প্রায় ১৮ বিঘা জমি নিজের নামে লিখে নেন।
পরবর্তীতে বিষয়টি জানাজানি হলে ২০২২ সালে বৃদ্ধ দম্পতি আদালতে দলিল বাতিলের জন্য মামলা দায়ের করেন। আদালতের একতরফা রায়ের পর ক্ষুব্ধ হয়ে ছেলে বিভিন্নভাবে হয়রানি শুরু করেন বলে অভিযোগ করেন তারা।
বৃদ্ধ দম্পতির অভিযোগ, সম্পত্তি নিজের নামে নেওয়ার পর থেকেই তাদের ওপর মানসিক ও শারীরিক নির্যাতন শুরু হয়। তারা দাবি করেন, ছেলে ও পুত্রবধূ তাদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করেছেন, এমনকি প্রাণনাশের হুমকিও দিয়েছেন।
বর্তমানে আব্দুল জলিল গুরুতর অসুস্থ। পরিবারের দাবি, তার দুই হাঁটুর অপারেশনের জন্য প্রায় ১০ লাখ টাকা প্রয়োজন হলেও চিকিৎসার খরচ জোগাড় করা সম্ভব হচ্ছে না।
অন্যদিকে অভিযুক্ত শেখ আ. রহমান সাইক তার বিরুদ্ধে আনা সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন,
“আমি আমার বাবা-মাকে কোনো নির্যাতন করিনি। জমিজমা সংক্রান্ত অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। জমিগুলো নিয়ম মেনেই রেজিস্ট্রি করা হয়েছিল। অন্যের প্ররোচনায় আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ দেওয়া হচ্ছে। আমি এখনও তাদের ভরণপোষণ দিতে প্রস্তুত।”
স্থানীয় ইউপি সদস্য জালাল জানান, বিষয়টি নিয়ে স্থানীয়ভাবে একাধিকবার সালিশের চেষ্টা করা হয়েছে। তবে কোনো সমাধান হয়নি।
তবে ভুক্তভোগী পরিবারের দাবি, স্থানীয় কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তি অভিযুক্ত ছেলের পক্ষ নিয়ে তাদের আরও হয়রানি করছেন।
শেষ বয়সে এসে নিরাপত্তাহীনতা, অসুস্থতা ও পারিবারিক দ্বন্দ্বের মধ্যে দিন কাটানো এই বৃদ্ধ দম্পতি প্রশাসনের কাছে চিকিৎসা সহায়তা, নিরাপত্তা ও ন্যায়বিচারের দাবি জানিয়েছেন।




















