সারাদেশ

মাদ্রাসার নিরাপত্তাকর্মী নিয়োগে ১২ লাখ টাকা!

  প্রতিনিধি ২২ জানুয়ারি ২০২৬ , ৫:০০:২২ প্রিন্ট সংস্করণ

রংপুরের মিঠাপুকুর উপজেলার ইমাদপুর ইউনিয়নের ফরিদপুর আব্দুল্যাহ দাখিল মাদ্রাসার নিরাপত্তাকর্মী নিয়োগে ১২ লাখ টাকার নিয়োগ বাণিজ্যের অভিযোগ উঠেছে ওই প্রতিষ্ঠানের সভাপতি মেহেদী হাসান রুশুর বিরুদ্ধে।

বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) দুপুরে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ফরিদপুর আব্দুল্যাহ দাখিল মাদ্রাসার সুপার মাওলানা শাহ আলম আকন্দ ও মিঠাপুকুর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার এইচএম মাহবুবুল ইসলাম।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গত বছরের ১ ডিসেম্বর উপজেলার ইমাদপুর ইউনিয়নের ফরিদপুর আব্দুল্যাহ দাখিল মাদ্রাসার নিরাপত্তাকর্মী নিয়োগে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের পরেই নিয়ম অনুযায়ী ১০ জন প্রার্থী নিরাপত্তাকর্মী পদে নিয়োগের জন্য আবেদন করেন। এদিকে লোক দেখানো নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি দিয়েই স্থানীয় আব্দুল মালেকের ছেলে লিটনকে ১২ লাখ টাকার বিনিময়ে নিয়োগ দেওয়ার বিষয়ে মাদ্রাসার সুপার ও নিয়োগ কমিটির সদস্যবৃন্দের হুমকি-ধামকি প্রদান করেন সভাপতি মেহেদী হাসান রুশো ও তার লোকজন। একইসঙ্গে নিয়ম বহির্ভূতভাবে মিজানুর রহমান নামে এক প্রার্থীর আবেদন বাতিল করেন সভাপতি রুশো। এ ঘটনায় কমিটির সদস্যবৃন্দ ও শিক্ষকদের একাংশের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ বিরাজ করছে।

অভিযোগ রয়েছে, ১৯৭৩ সালে মাদ্রাসাটি প্রতিষ্ঠার পর থেকেই দাতা সদস্য হিসেবে আলহাজ মসির উদ্দীনের উত্তরাধিকারীরা ৫৩ বছর থেকে কোনো ধরনের নির্বাচন না করেই সিলেকশনের মাধ্যমে সভাপতির দায়িত্ব পালন করে আসছেন।

মাদ্রাসাটির ম্যানেজিং কমিটির অভিভাবক সদস্য ডা. ইসমাঈল হোসেন বলেন, ‘ইতিপূর্বে টাকার বিনিময়ে নিয়োগ দেওয়া হলেও প্রতিষ্ঠানের কোনো উন্নয়ন হয়নি। সভাপতি আমাকে বলেছেন—এলাকার স্বার্থে আমরা লিটনকে নিয়োগ দেবো। লিটনের ২৯ শতক জমি এলাকাবাসী কিনে নিয়ে কবরস্থান বানাবে। সেই জমির বিনিময়ে ১২ লাখ টাকা প্রতিষ্ঠানকে দেওয়া হবে। আমরা চাই না টাকার বিনিময়ে কাউকে নিয়োগ দেওয়া হোক।’

ফরিদপুর আব্দুল্যাহ দাখিল মাদ্রাসার সুপার মাওলানা শাহ আলম আকন্দ বলেন, “নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি দেওয়ার পরে ১০ জন প্রার্থী আবেদন করেছিলেন। তাদের মধ্যে নিয়োগ কমিটি একজনের আবেদন বাতিল করেছে। আবেদন প্রক্রিয়া শেষের পরে সভাপতি আমাকে প্রস্তাব দেয়—‘লিটন সামাজিক কবরস্থানে ২৯ শতক জমি দান করবে। তার বিনিময়ে সমাজের পক্ষ থেকে লিটনের নিয়োগ বাবদ ১২ লাখ টাকা প্রতিষ্ঠানকে দেওয়া হবে। লিটনকেই নিয়োগ দিতে হবে।’ এটি নিয়ম বহির্ভূত প্রস্তাব। আমরা স্বচ্ছভাবে যোগ্য ব্যক্তিকেই নিয়োগ দিবো।”

নিয়োগ বাণিজ্যের বিষয়টি অস্বীকার করে অভিযুক্ত ফরিদপুর আব্দুল্যাহ দাখিল মাদ্রাসার সভাপতি মেহেদী হাসান রুশো বলেন, ‘এখানে শুধুমাত্র যাচাই-বাছাই করা হয়েছে। ১০ জনের মধ্যে ৯ জন প্রার্থী প্রাথমিক যাছাইয়ে উত্তীর্ণ হয়েছে। আমার পক্ষ থেকে লিটনকে ১২ লাখ টাকার বিনিময়ে নিয়োগের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। এই অভিযোগটি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। কেউ এই কথা বলে থাকলে, তাকে আমার সামনে নিয়ে আসেন। যেহেতু আমাদের পূর্ব পুরুষরা প্রতিষ্ঠানটি গড়ে তুলেছ। এজন্য এটার দেখভাল করার দায়িত্ব আমার।’

মিঠাপুকুর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার এইচএম মাহবুবুল ইসলাম বলেন, ‘ওই প্রতিষ্ঠানে নিয়োগ নিয়ে একটি গণ্ডগোল হওয়ার কথা শুনেছিলাম। এ বিষয়ে আমাকে কিছুই জানানো হো হয়নি। অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’

আরও খবর

Sponsered content