খেলাধুলা

বসনিয়ার কাছে হেরে টানা তৃতীয় বিশ্বকাপ থেকে ছিটকে গেল ইতালি

  প্রতিনিধি ১ এপ্রিল ২০২৬ , ১২:৩৩:৫৭ প্রিন্ট সংস্করণ

প্লে-অফের ফাইনালে টাইব্রেকারে ৪-১ গোলে বসনিয়া ও হার্জেগোভিনার কাছে হেরে বিশ্বকাপ থেকে আবারও বাদ পড়েছে ইতালি। নির্ধারিত সময়ে ম্যাচটি ১-১ গোলে সমতায় শেষ হয়েছিল।

চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ইতালি আগের দুই বিশ্বকাপেও প্লে-অফে হেরে মূল আসরে উঠতে পারেনি। ২০১৪ সালে তাদের সর্বশেষ অংশগ্রহণের সময়ই বসনিয়া প্রথম ও একমাত্রবারের মতো বিশ্বকাপে খেলেছিল। ২০০৬ সালে শিরোপা জয়ের পর থেকে বিশ্বকাপের মূল পর্বে ইতালির জয় মাত্র একটি।

এই জয়ের ফলে বসনিয়া গ্রুপ ‘বি’-তে খেলবে, যেখানে তাদের প্রতিপক্ষ হবে কানাডা, কাতার ও সুইজারল্যান্ড। অন্যদিকে ইতালিকে আবারও হতাশা নিয়ে ফিরে যেতে হলো।

বসনিয়াও অতীতে প্লে-অফে বহুবার ব্যর্থ হয়েছে, ২০১০ বিশ্বকাপ ও সাম্প্রতিক চারটি ইউরোপীয় আসরে তারা সুযোগ হারিয়েছিল। তবে এবার ঘুরে দাঁড়িয়ে তারা ইতিহাস গড়েছে।

ম্যাচের শুরুটা ভালোই করেছিল ইতালি। ১৫তম মিনিটে গোল করে দলকে এগিয়ে দেন মোইজ কিয়ান। তবে বিরতির ঠিক আগে লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়েন আলেসান্দ্রো বাস্তোনি, যা ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেয়।

শেষের দিকে আক্রমণ বাড়িয়ে ৭৯তম মিনিটে সমতা ফেরায় বসনিয়া। বদলি খেলোয়াড় হারিস তাবাকোভিচ গোল করে ম্যাচে ফেরান দলকে।

টাইব্রেকারে ইতালির পিও এসপোসিতো ও ব্রায়ান ক্রিস্তান্তে পেনাল্টি মিস করেন। অন্যদিকে বসনিয়া কোনো ভুল করেনি, ফলে নিশ্চিত হয় তাদের জয়।

১৮ বছর বয়সী তরুণ কেরিম আলাজবেগোভিচ গুরুত্বপূর্ণ পেনাল্টি রূপান্তর করে দলের জয়ে বড় ভূমিকা রাখেন।

একসময় বিশ্বকাপে খেলা ছিল ইতালির জন্য প্রায় নিয়মিত ঘটনা। ১৯৫৮ সালের পর দীর্ঘ সময় তারা কখনো বাদ পড়েনি। কিন্তু এখন তারা টানা তিনবার বিশ্বকাপে উঠতে ব্যর্থ হওয়া একমাত্র চ্যাম্পিয়ন দল।

হতাশা প্রকাশ করে ইতালির উইঙ্গার লিওনার্দো স্পিনাজ্জোলা বলেন, ‘ইতালির শিশুরা আবারও আমাদের ছাড়া বিশ্বকাপ দেখবে। ১০ জন নিয়ে লড়াই করে ম্যাচ টাইব্রেকারে নেওয়ার পরও এভাবে হারাটা সত্যিই কষ্টের।’

জেনিৎসায় অনুষ্ঠিত ম্যাচটি ছিল দারুণ উত্তেজনাপূর্ণ। শুরু থেকেই দুই দল আক্রমণাত্মক খেলায় মেতে ওঠে।

একটি ভুল পাস থেকে বল পেয়ে নিকোলো বারেলা-এর পাসে কিয়ান দূর থেকে দুর্দান্ত শটে গোল করেন।

এরপর বসনিয়া একের পর এক আক্রমণ চালায়। ইতালির গোলরক্ষক জিয়ানলুইজি দোনারুম্মা কয়েকটি চমৎকার সেভ করে দলকে বাঁচিয়ে রাখেন।

৪২তম মিনিটে বাস্তোনির লাল কার্ডই ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেয়। শেষ পর্যন্ত অতিরিক্ত সময়েও সমতা ভাঙেনি, ফলে ম্যাচ গড়ায় টাইব্রেকারে।

টাইব্রেকারে বসনিয়ার নিখুঁত শট আর ইতালির ব্যর্থতাই পার্থক্য গড়ে দেয়। জয়ের পর স্টেডিয়ামে আনন্দে ফেটে পড়ে বসনিয়ার সমর্থকরা, আর ইতালির খেলোয়াড়রা হতাশায় মাটিতে বসে পড়েন—কারও চোখে ছিল অশ্রু।

আরও খবর

Sponsered content