খেলাধুলা

রিয়ালে ৮ বছরে ২০ বার বর্ণবাদী আক্রমণের শিকার ভিনিসিয়ুস

  প্রতিনিধি ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ , ৩:০৫:৩৮ প্রিন্ট সংস্করণ

লিসবনের স্তাদিও দ্য লুজে মঙ্গলবার রাতে রিয়াল মাদ্রিদ ও বেনফিকার চ্যাম্পিয়নস লিগ প্লে-অফ ম্যাচ ১০ মিনিটের জন্য বন্ধ রাখতে হয়। অভিযোগ ছিল, রিয়াল তারকা ভিনিসিয়ুস জুনিয়র বর্ণবাদী গালিগালাজের শিকার হয়েছেন।

রিয়াল মাদ্রিদে আট বছরের সময়ে ভিনিসিয়ুসের অভিযোগ অনুযায়ী, এটি ছিল তার বিরুদ্ধে বর্ণবাদী অপব্যবহারের ২০তম ঘটনা।

স্প্যানিশ ফুটবল বিশেষজ্ঞ গিলেম বালাগ মাঠে উপস্থিত ছিলেন। তার মতে, ফুটবল সেদিন উপভোগ করার কথা ছিল ভিনিসিয়ুসের অবিশ্বাস্য এক গোল—যা শিরোনাম হওয়ার মতো। কিন্তু আবারও খেলা আটকে গেল বর্ণবাদ, অস্বীকার, অজুহাত এবং দায়িত্বশীলদের অজ্ঞতার কারণে।

অভিযোগ উঠেছে, বেনফিকার আর্জেন্টাইন মিডফিল্ডার জিয়ানলুকা প্রেস্তিয়ান্নি সেই দুর্দান্ত গোলের পর ভিনিসিয়ুসকে বর্ণবাদী মন্তব্য করেন। তবে প্রেস্তিয়ান্নি অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। রিয়ালের একাধিক সতীর্থ ভিনিসিয়ুসের পাশে দাঁড়ান, বিশেষ করে কিলিয়ান এমবাপ্পে জানান, তিনি পাঁচবার বর্ণবাদী শব্দ শুনেছেন।

ম্যাচ শেষে বেনফিকা কোচ হোসে মরিনহো মন্তব্য করে বিতর্ক আরও বাড়ান। তিনি বলেন, ‘এমন প্রতিভাবান খেলোয়াড়রা অসাধারণ গোল করতে পারে, কিন্তু গোল করার পর উদ্‌যাপনটা সম্মানজনক হওয়া উচিত।’

মরিনিহো আরও দাবি করেন, বেনফিকা কখনোই বর্ণবাদী ক্লাব হতে পারে না, কারণ তাদের সর্বকালের সেরা খেলোয়াড় ইউসেবিও ছিলেন কৃষ্ণাঙ্গ।

এই মন্তব্যকে অনেকে বিতর্ককে অন্যদিকে ঘোরানোর চেষ্টা হিসেবে দেখছেন। বিশেষ করে স্পেন ও পর্তুগালের কিছু গণমাধ্যমে এখনো সেই পুরোনো যুক্তি ঘুরে ফিরে আসছে—‘তাকে অপমান করা হয়েছে ঠিক, কিন্তু তার আচরণও ঠিক ছিল না।’

সমালোচকদের মতে, ভিনিসিয়ুস যখন গ্যালারির দিকে প্রতিবাদ জানান, সেটিকে অহংকারী বা অনুচিত আচরণ হিসেবে দেখা হয়। কিন্তু তার এই প্রতিক্রিয়া আসলে দীর্ঘদিনের বৈরী পরিবেশের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের বহিঃপ্রকাশ।

ফরাসি দার্শনিক ফ্রান্তজ ফানন তার ১৯৫২ সালের বই ব্ল্যাক স্কিন, হোয়াইট মাস্ক-এ লিখেছিলেন, ‘একজন কৃষ্ণাঙ্গ মানুষকে মানুষ হিসেবে স্বীকৃতি পেতে দ্বিগুণ লড়াই করতে হয়।’

সমাজবিজ্ঞানী এদুয়ার্দো বোনিলা-সিলভা যাকে বলেছেন ‘রেসিজম ইউদআউট রেসিস্ট’—অর্থাৎ সরাসরি গালিগালাজ না করেও সাংস্কৃতিক কাঠামোর মাধ্যমে ভুক্তভোগীকেই দোষারোপ করা।

এই প্রেক্ষাপটে ভিনিসিয়ুস জুনিয়র এখন কেবল একজন ফুটবলার নন; তিনি বৈষম্যের বিরুদ্ধে বৈশ্বিক প্রতিরোধের প্রতীক। মাঠের ভেতরে-বাইরে লড়াই চালিয়ে গিয়ে তিনি কর্তৃপক্ষকে আরও কঠোর পদক্ষেপ ও প্রটোকল গ্রহণে চাপ সৃষ্টি করে চলেছেন।

আরও খবর

Sponsered content