প্রতিনিধি ১ এপ্রিল ২০২৬ , ১:৩২:৩১ প্রিন্ট সংস্করণ
আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার (আইএলও) মহাপরিচালক গিলবার্ট হোংবো বাংলাদেশ সরকারের অগ্রাধিকারের সঙ্গে সংহতি রেখে কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে সংস্থার পক্ষ থেকে সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন। খবর বাসসের।
৩৫৬তম আইএলও গভর্নিং বডির সম্মেলনে অংশ নিতে বর্তমানে জেনেভা অবস্থানরতশ্রম ও কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরীর সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে সংস্থাটির মহাপরিচালক এ আশ্বাস দেন।
বৈঠকে প্রধানমন্ত্রীর শ্রম, কর্মসংস্থান ও শিক্ষাবিষয়ক উপদেষ্টা মাহদী আমিন এবং শ্রমসচিব আবদুর রহমান তরফদার অংশগ্রহণ করেন ।
আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার (আইএলও) মহাপরিচালক গিলবার্ট হোংবো বাংলাদেশ সরকারের অগ্রাধিকারের সঙ্গে সংহতি রেখে কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে সংস্থার পক্ষ থেকে সহযোগিতা করার আশ্বাস দিয়েছেন।
বৈঠকের শুরুতেই গিলবার্ট হোংবো একটি সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচনের মাধ্যমে নির্বাচিত হয়ে দায়িত্ব গ্রহণের জন্য বর্তমান সরকারকে অভিনন্দন জানান। বাংলাদেশের জনগণের স্বার্থে এ গণতান্ত্রিক উত্তরণ গুরুত্বপূর্ণ বলেও মন্তব্য করেন তিনি। তিনি জানান, নতুন সরকারের সঙ্গে কাজ করতে আগ্রহী আইএলও।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের পক্ষ থেকে আইএলও মহাপরিচালককে শুভেচ্ছা পৌঁছে দেন শ্রমমন্ত্রী আরিফুল হকের চৌধুরী।
তিনি বলেন, বাংলাদেশের বিপুল সংখ্যক তরুণ ও নারীদের জন্য কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা সরকারের জন্য গুরত্বপূর্ণ অগ্রাধিকারগুলোর একটি। এক্ষেত্রে আইএলও’র সহযোগিতা বিশেষত সংস্থার ঢাকা অফিস আরও বেশি উদ্যোগ গ্রহণ করবে বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
আরিফুল হকের সঙ্গে ঐকমত্য পোষন করেন জিলবার্ট হোংবো এবং এক্ষেত্রে বাংলাদেশ সরকারকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতার আশ্বাস দেন।
অন্যদিকে, বাংলাদেশের বিরুদ্ধে চলমান আর্টিকেল ২৬ মামলা নিষ্পত্তির বিষয়ে মহাপরিচালকের সহযোগিতা প্রত্যাশা করেন শ্রমমন্ত্রী।
এ প্রসঙ্গে বাংলাদেশ স্থায়ী মিশনের কূটনৈতিক তৎপরতার ভূয়সী প্রশংসা করে মহাপরিচালক বলেন, মিশন আইএলওর বিভিন্ন সদস্য রাষ্ট্রের সঙ্গে কূটনৈতিক যোগাযোগ; সংস্থাটির গভর্নিং বডিতে সভাপতিত্ব; এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় সমন্বয়ক এবং বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে নেতৃত্ব দিয়ে আসছে। ফলে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে চলমান মামলায় বিপুল সমর্থন পেয়েছে।
এক্ষেত্রে দেশে শ্রমক্ষেত্রে উন্নয়নের পাশাপাশি বিভিন্ন সদস্য রাষ্ট্রের সঙ্গে কূটনৈতিক যোগাযোগ সুদৃঢ় করাও গুরুত্বপূর্ণ বলে মন্তব্য করেন গিলবার্ট।
শ্রমমন্ত্রী বাংলাদেশের শ্রমজীবী মানুষের জন্য আন্তর্জাতিক শ্রম মান অনুযায়ী অধিকার প্রতিষ্ঠায় আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ড, বহুজাতিক কোম্পানি ও বিপণন প্রতিষ্ঠানগুলোর সহযোগিতা আরও সম্প্রসারিত করার ক্ষেত্রে আইএলও মহাপরিচালকের সহযোগিতা চান।
এক্ষেত্রে বিভিন্ন সামাজিক সুরক্ষা যেমন-স্বল্পমূল্যে চিকিৎসা, দুর্ঘটনা বীমা ইত্যাদি কার্যক্রমে বহুজাতিক কোম্পানিগুলোর অবদান রাখার ক্ষেত্রে গিলবার্ট হোংবো গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারেন বলেও জানান তিনি।
প্রধানমন্ত্রীর শ্রম, কর্মসংস্থান ও শিক্ষা বিষয়ক উপদেষ্টা মাহদী আমিন আলোচনায় অংশ নিয়ে বলেন, সরকার নির্বাচনী ইশতেহারে প্রতিশ্রুত গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ, মানবাধিকার ও শ্রম অধিকার রক্ষায় সচেষ্ট রয়েছে। জনগণের প্রতি দায়িত্ববোধ থেকেই আমরা কর্মসংস্থান সৃষ্টি, দক্ষতা উন্নয়ন ও শ্রম অধিকার সমুন্নতকরণে কাজ করে যাচ্ছি।
শ্রমমন্ত্রী আগামী জুনে মহাপরিচালকের বাংলাদেশ সফরের সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানান। বৈঠকে জেনেভায় নিযুক্ত বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি রাষ্ট্রদূত নাহিদা সোবহান এবং শ্রম মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব আবদুস সামাদ আজাদও উপস্থিত ছিলেন।








