নওগাঁ প্রতিনিধি ২ এপ্রিল ২০২৬ , ৬:০১:৩৪ প্রিন্ট সংস্করণ
নওগাঁর মান্দা উপজেলায় জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে একটি দ্বীনি প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক ও হাফেজদের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির মামলা দায়েরের ঘটনায় এলাকায় আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। ভুক্তভোগী পক্ষ মামলাটিকে ‘মিথ্যা ও হয়রানিমূলক’ বলে দাবি করেছে।
ঘটনাটি উপজেলার মৈনম ইউনিয়নের ‘ডাকাতের মোড়’ এলাকায়।
ভুক্তভোগী ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মধ্য মৈনম গ্রামের হাফেজ আল-আমিন হোসেন মোল্লা মৈনম মৌজার ৩৯৭ ও ৩৯৮ খতিয়ানে ২৯ শতক জমি ক্রয় করে সেখানে ‘হযরত আয়েশা সিদ্দীকা (রা.) বালক-বালিকা নূরানী ও মহিলা হাফিজিয়া মাদ্রাসা’ পরিচালনা করছেন। দলিল অনুযায়ী, গত ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে তিনি ১২৫৬ নম্বর দলিলের মাধ্যমে জমিটি ক্রয় করেন।
জমির মালিকানা ও সীমানা নিয়ে প্রতিপক্ষ বেলাল উদ্দিন মণ্ডল গংয়ের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছিল। এরই ধারাবাহিকতায় গত ৩০ মার্চ বেলাল উদ্দিন মণ্ডল বাদী হয়ে মান্দা থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। মামলায় হাফেজ আবু বক্কর সিদ্দিক, তার দুই ছেলে হাফেজ আল-আমিন ও হাফেজ মেহেদী হাসানসহ কয়েকজনকে আসামি করা হয়।
এজাহারে তাদের বিরুদ্ধে ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি, গালিগালাজ, সিমেন্টের খুঁটি ভাঙচুর এবং জিআই তারের বেড়া চুরির অভিযোগ আনা হয়েছে।
তবে সরেজমিনে গিয়ে অভিযোগের সঙ্গে বাস্তবতার অমিল পাওয়া গেছে বলে স্থানীয়দের দাবি। তারা জানান, ভাঙচুর ও চুরির অভিযোগে উল্লেখিত সামগ্রী ঘটনাস্থলেই অক্ষত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখা গেছে।
মামলার আসামিপক্ষের দাবি, জমি দখল নিয়ে বিরোধের জেরে তাদের সামাজিকভাবে হেয় করতে এই মামলা করা হয়েছে। মাদ্রাসার পরিচালক হাফেজ আল-আমিন হোসেন মোল্লা বলেন, “আমরা বৈধভাবে জমি কিনে মাদ্রাসা পরিচালনা করছি। আমাদের প্রাপ্য জমির চেয়েও কম দখলে আছে। আমাদের উচ্ছেদের উদ্দেশ্যে মিথ্যা মামলা দেওয়া হয়েছে।”
এদিকে মামলার অন্যতম আসামি প্রবীণ শিক্ষক হাফেজ আবু বক্কর সিদ্দিক গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় শয্যাশায়ী বলে জানা গেছে।
অন্যদিকে, স্থানীয়দের একটি অংশের অভিযোগ, প্রভাব খাটিয়ে মামলাটি রেকর্ড করা হয়েছে। তবে এ বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
মান্দা থানার পুলিশ জানায়, জমি সংক্রান্ত বিরোধের অভিযোগের ভিত্তিতে মামলাটি গ্রহণ করা হয়েছে। তদন্ত শেষে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এ ঘটনায় স্থানীয়রা নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত সত্য উদঘাটন এবং নিরপরাধ ব্যক্তিদের হয়রানি থেকে রক্ষা করার দাবি জানিয়েছেন।




















