সারাদেশ

মান্দায় জমি বিরোধে হামলা-ভাঙচুরের অভিযোগ, ভাইরাল অডিও নিয়ে বিতর্কে ওসি

  নওগাঁ প্রতিনিধি: ৮ মার্চ ২০২৬ , ৮:০৪:০৩ প্রিন্ট সংস্করণ


নওগাঁর মান্দায় জমি সংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে একটি অসহায় পরিবারের ওপর হামলা, ঘরবাড়ি ভাঙচুর, গাছ কেটে ফেলা এবং পুকুরের মাছ লুটের অভিযোগ উঠেছে। ভুক্তভোগীদের দাবি, জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ কল করেও তারা পুলিশের তাৎক্ষণিক সহায়তা পাননি। অভিযোগ করতে গিয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি)-এর রোষানলেও পড়তে হয়েছে বলে দাবি করেছেন তারা।

এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি অডিও ক্লিপে ভুক্তভোগীকে ‘মিথ্যা চাঁদাবাজি মামলায়’ ফাঁসানোর হুমকি দেওয়া হয়েছে বলে শোনা যাচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে ওই পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে।

গত শনিবার (৭ মার্চ) দুপুরে উপজেলার ৫ নম্বর গণেশপুর ইউনিয়নের শ্রীরামপুর মধ্যপাড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

স্থানীয় ও ভুক্তভোগী সূত্রে জানা যায়, একই গ্রামের রজব আলী গং ও ফরহাদ আলী চকদার গং-এর মধ্যে একটি স্কুলের জমি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। শনিবার দুপুরে প্রতিপক্ষের লোকজন দেশীয় অস্ত্রসহ অতর্কিত হামলা চালায় বলে অভিযোগ রয়েছে। হামলাকারীরা বিরোধপূর্ণ জমির ফলজ ও বনজ গাছ কেটে ফেলার পাশাপাশি পুকুরের মাছ লুট করে এবং বসতবাড়িতে ব্যাপক ভাঙচুর চালায়।

ভুক্তভোগী পরিবারের অভিযোগ, রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে এই হামলা চালানো হয়েছে। হামলার সময় তারা বারবার ৯৯৯-এ ফোন করলেও পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছাতে দীর্ঘ সময় নেয়। তাদের দাবি, পুলিশের এই ‘রহস্যজনক নীরবতার’ সুযোগে হামলাকারীরা কয়েক ঘণ্টা ধরে তাণ্ডব চালায়।

ঘটনার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মান্দা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা কেএম মাসুদ রানার একটি কথিত অডিও ক্লিপ ভাইরাল হয়। ওই অডিওতে ভুক্তভোগী পরিবার আইনি সহায়তা চাইলে ওসি ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া দেখান এবং ‘বেশি বাড়াবাড়ি করলে মিথ্যা চাঁদাবাজি মামলায় ফাঁসিয়ে দেওয়া হবে’—এমন হুমকি দিতে শোনা যায় বলে দাবি করা হচ্ছে।

এ ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ ও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। অনেকেই একজন দায়িত্বশীল পুলিশ কর্মকর্তার এমন আচরণ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন।

তবে হুমকির অভিযোগ অস্বীকার করে মান্দা থানার ওসি কেএম মাসুদ রানা মুঠোফোনে বলেন, “ঘটনার খবর পেয়ে আমরা আইনগত ব্যবস্থা নিচ্ছি। কাউকে হুমকি দেওয়ার বিষয়টি সঠিক নয়।” তবে ভাইরাল হওয়া অডিওর সত্যতা সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি স্পষ্ট কোনো বক্তব্য দেননি।

বর্তমানে ভুক্তভোগী পরিবারটি চরম নিরাপত্তাহীনতায় রয়েছে বলে জানা গেছে। ন্যায়বিচারের দাবিতে তারা জেলা পুলিশ সুপারসহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

আরও খবর

Sponsered content