সারাদেশ

যমুনার চরে পর্যটন নগরীর স্বপ্ন, সারিয়াকান্দিতে ‘জল জোৎস্না’ রিসোর্ট নির্মাণ শুরু

  মোঃ রাশেদ মিয়া , বগুড়া। ৯ মার্চ ২০২৬ , ১২:৩৬:৪১ প্রিন্ট সংস্করণ


বগুড়ার সারিয়াকান্দি ও সোনাতলা অঞ্চলের যমুনা নদীর চরাঞ্চলকে কেন্দ্র করে পর্যটন নগরী গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এই লক্ষ্যকে সামনে রেখে গত শনিবার রাতে উপজেলার কালিতলা নৌঘাটে ‘জল জোৎস্না’ নামে একটি আধুনিক রিসোর্ট নির্মাণকাজের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়েছে।

কর্ণেল’স ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে প্রকল্পটির উদ্বোধন করেন সাবেক সেনা কর্মকর্তা ও প্রস্তাবিত জাতীয়তাবাদী জেড ফোর্সের সভাপতি কর্ণেল (অব.) জগলুল আহসান।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে কর্ণেল (অব.) জগলুল আহসান বলেন, প্রকল্পটি প্রচলিত মুনাফাভিত্তিক ব্যবসার ধারা থেকে ভিন্নভাবে পরিচালিত হবে। তাঁর পিএইচডি গবেষণার থিম ‘প্রফিট মডারেশন’ বা সামাজিক ব্যবসার ধারণাকে সামনে রেখে এই উদ্যোগ বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।

তিনি জানান, যমুনা নদীর তীরবর্তী চরাঞ্চলে যেসব দরিদ্র মানুষের নিজস্ব জমি রয়েছে, তারা যেন নিজেদের জমিতে আধুনিক কুঁড়েঘর বা কটেজ তৈরি করে পর্যটন ব্যবসার অংশীদার হতে পারেন—সেই লক্ষ্যেই কাজ করছে কর্ণেল’স ফাউন্ডেশন। আর্থিকভাবে অসচ্ছলদের ক্ষেত্রে ফাউন্ডেশন বা এনজিওর মাধ্যমে ৫০:৫০ লভ্যাংশ ভাগাভাগির ভিত্তিতে অর্থায়নের ব্যবস্থা থাকবে।

জানা গেছে, পুরো প্রকল্পটি পাঁচটি ধাপে বাস্তবায়ন করা হবে। প্রথম ও দ্বিতীয় ধাপে কালিতলা ঘাট এলাকায় আধুনিক রিসোর্ট, রেস্তোরাঁ এবং সুন্দরবন ও বান্দরবানের আদলে আধুনিক সুযোগ-সুবিধাসম্পন্ন কটেজ নির্মাণ করা হবে। তৃতীয় ধাপে তরুণদের জন্য ‘অপারেশন রিভারবিস্ট’ নামে সামরিক ধাঁচের অ্যাডভেঞ্চার কার্যক্রম, হর্স রাইড ও প্যারাগ্লাইডিংয়ের ব্যবস্থা থাকবে। পাশাপাশি বয়স্ক পর্যটকদের জন্য চরে তাবু খাটিয়ে রাত্রিযাপনের সুবিধাও রাখা হবে।

পরবর্তী চতুর্থ ও পঞ্চম ধাপে যমুনা নদীতে হাউসবোট সার্ভিস চালুর পরিকল্পনা রয়েছে। প্রকল্পটি সফল হলে সেখানে একটি মিনি গলফ গ্রাউন্ড এবং বিশেষ রিসোর্ট সিস্টেমও গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে।

স্থানীয়দের মতে, এই প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে যমুনার চরাঞ্চল শুধু একটি পর্যটন কেন্দ্র হিসেবেই পরিচিত হবে না; বরং এটি স্থানীয় অর্থনীতিতে গতি আনবে এবং নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করবে।

আরও খবর

Sponsered content