প্রতিনিধি ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ , ১০:৩৮:০৮ প্রিন্ট সংস্করণ
মালয়েশিয়ার সবচেয়ে দীর্ঘসময় দায়িত্ব পালন করা সাবেক প্রধানমন্ত্রী মাহাথির মোহাম্মদের স্ত্রী সিতি হাসমাহ মোহাম্মদ আলী মারা গেছেন। সোমবার দেশটির সাবেক প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় এ তথ্য জানিয়েছে। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ১০০ বছর।
মালয়েশিয়ার রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা বারনামা জানিয়েছে, জাতীয় হৃদ্রোগ ইনস্টিটিউটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সিতি হাসমাহ মারা যান। তার ছেলে মোখজানি মাহাথিরের বরাত দিয়ে এ তথ্য জানানো হয়েছে। তবে তার মৃত্যুর বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি।
মাহাথির মোহাম্মদকে মালয়েশিয়ার আধুনিকায়নের অন্যতম প্রধান কারিগর হিসেবে বিবেচনা করা হয়। ১০১ বছর বয়সী এই নেতা দুই দফায় দেশটির প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন। সব মিলিয়ে দুই দশকেরও বেশি সময় তিনি মালয়েশিয়ার শাসনভার সামলেছেন।
১৯৮১ থেকে ২০০৩ সাল পর্যন্ত প্রথম দফায় প্রধানমন্ত্রী থাকাকালে মাহাথিরের নেতৃত্বে মালয়েশিয়ায় দ্রুত শিল্পায়ন ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ঘটে। এ সময় দেশটি দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার অন্যতম দ্রুতবর্ধনশীল অর্থনীতিতে পরিণত হয়।
২০১৮ সালে অবসর থেকে ফিরে আবারও প্রধানমন্ত্রী হন মাহাথির। তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী নাজিব রাজাককে ক্ষমতাচ্যুত করার পর ৯২ বছর বয়সে তিনি বিশ্বের সবচেয়ে বয়স্ক প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেন। নাজিব তখন বহুল আলোচিত বহুমাত্রিক আর্থিক কেলেঙ্কারি ওয়ানএমডিবি মামলায় জড়িত ছিলেন।
তবে রাজনৈতিক বিরোধের জেরে মাহাথিরের জোট ভেঙে পড়লে ২০২০ সালে দুই বছরেরও কম সময়ের মধ্যে তার দ্বিতীয় দফার প্রধানমন্ত্রিত্বের অবসান ঘটে।
১৯৪০-এর দশকের শেষ দিকে সিঙ্গাপুরে মেডিকেল কলেজে পড়ার সময় মাহাথিরের সঙ্গে সিতি হাসমাহর পরিচয় হয়। চলতি বছরের আগস্টে তাদের ৭০তম বিবাহবার্ষিকী পালিত হয়। এই দম্পতির সাত সন্তান রয়েছে। তাদের মধ্যে ব্যবসায়ী মোখজানি মাহাথির, সমাজকর্মী মারিনা মাহাথির এবং রাজনীতিক মুখরিজ মাহাথির উল্লেখযোগ্য।
রাজনীতির বাইরে সিতি হাসমাহ নিজেও মালয়েশিয়ায় জনপ্রিয় ছিলেন। সাধারণ জীবনযাপন ও রসবোধের জন্য পরিচিত এই নারী স্বামীর স্পষ্টভাষী ও কঠোর রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বের তুলনায় ছিলেন অনেকটাই শান্ত ও বিনয়ী।
রাজনৈতিক পরিবারের সদস্য হিসেবে তিনি জনস্বাস্থ্য, পরিবার পরিকল্পনা এবং বিভিন্ন সামাজিক উদ্যোগে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন।
মাহাথির একসময় সিতি হাসমাহকে নিজের সাফল্যের ‘মেরুদণ্ড’ হিসেবে উল্লেখ করেছিলেন। সে সময়ের প্রেক্ষাপটে মালয় সম্প্রদায়ের নারীদের মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিগ্রি অর্জন ছিল তুলনামূলকভাবে বিরল। সিতি হাসমাহর সেই দৃঢ়তা ও উচ্চশিক্ষা অর্জনের সংকল্পের প্রশংসা করেছিলেন মাহাথির।
২০১৮ সালে সিএনএনকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছিলেন, সিতি হাসমাহর বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিগ্রি অর্জনের দৃঢ়তা তার ‘চরিত্রের শক্তি’কে প্রতিফলিত করে।





















