সারাদেশ

২৫ বছরেও এমপিওভুক্ত হয়নি মান্দার চককামদেব টেকনিক্যাল কলেজ, সংকটে শিক্ষা কার্যক্রম

  মান্দা (নওগাঁ) প্রতিনিধি: ১৫ অক্টোবর ২০২৬ , ১২:৫৭:২৪ প্রিন্ট সংস্করণ

প্রতিষ্ঠার ২৫ বছর পেরিয়ে গেলেও এমপিওভুক্ত হয়নি নওগাঁর মান্দা উপজেলার চককামদেব টেকনিক্যাল অ্যান্ড বি.এম. কলেজ। প্রতিষ্ঠানটির স্বীকৃতি পাওয়ার পরও দীর্ঘদিন ধরে সরকারি বেতন-ভাতার সুবিধা থেকে বঞ্চিত রয়েছেন শিক্ষক-কর্মচারীরা। আর্থিক সংকট ও অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতায় ব্যাহত হচ্ছে শিক্ষা কার্যক্রম। এ অবস্থায় কলেজটি এমপিওভুক্ত করা এবং একটি একাডেমিক ভবন নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

কলেজ সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার ১৪ নম্বর বিষ্ণুপুর ইউনিয়নে ২০০১ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় চককামদেব টেকনিক্যাল অ্যান্ড বি.এম. (বিজনেস ম্যানেজমেন্ট) কলেজ। ২০০৪ সালের ১৯ জুলাই প্রতিষ্ঠানটি আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি লাভ করে। তবে স্বীকৃতির পর দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও এখন পর্যন্ত এমপিওভুক্ত হয়নি কলেজটি। ফলে নিজস্ব অর্থায়নে শিক্ষা কার্যক্রমসহ অন্যান্য ব্যয় পরিচালনা করতে হচ্ছে কর্তৃপক্ষকে।

অর্থসংকটের কারণে প্রতিষ্ঠান পরিচালনায় হিমশিম খেতে হচ্ছে কলেজ কর্তৃপক্ষকে। নিয়মিত বেতন-ভাতার নিশ্চয়তা না থাকলেও শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যতের কথা বিবেচনা করে পাঠদান চালিয়ে যাচ্ছেন শিক্ষক-কর্মচারীরা। দীর্ঘদিন ধরে এ পরিস্থিতি চলায় তাঁদের মধ্যে হতাশা ও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।

কলেজ কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে প্রতিষ্ঠানটিতে প্রায় ৭০ থেকে ৭৫ জন শিক্ষার্থী অধ্যয়ন করছে। এর মধ্যে ২০২৬ সালের পরীক্ষার্থী ৪৬ জন। সীমিত সুযোগ-সুবিধার মধ্যেও শিক্ষার্থীদের ভালো ফলাফলের জন্য চেষ্টা করছেন শিক্ষকরা। তবে পর্যাপ্ত অবকাঠামো ও প্রয়োজনীয় শিক্ষাসামগ্রীর অভাবে পাঠদান পরিচালনায় নানা প্রতিবন্ধকতার মুখে পড়তে হচ্ছে তাঁদের।

বিশেষ করে পূর্ণাঙ্গ একাডেমিক ভবন না থাকায় শিক্ষার্থীদের জন্য উপযুক্ত পাঠদানের পরিবেশ নিশ্চিত করা কঠিন হয়ে পড়েছে বলে জানিয়েছে কলেজ কর্তৃপক্ষ। এ অবস্থায় এমপিওভুক্তির পাশাপাশি একটি একাডেমিক ভবন নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন শিক্ষক-কর্মচারীরা।

কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মো. জামাল হোসেন বলেন, “প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে নানা সংগ্রামের মধ্য দিয়ে কলেজটি টিকিয়ে রেখেছি। ফলাফলের দিক থেকেও আমাদের কলেজ সব সময় ভালো অবস্থানে রয়েছে। অথচ এত বছরেও এমপিওভুক্তি হয়নি। শিক্ষক-কর্মচারীদের ন্যূনতম বেতন-ভাতার নিশ্চয়তা নেই।”

তিনি আরও বলেন, “শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে সব প্রতিকূলতার মধ্যেও পাঠদান চালিয়ে যাচ্ছি। কিন্তু এভাবে আর কত দিন চলবে? শিক্ষক-কর্মচারীদেরও পরিবার রয়েছে। তাঁদের জীবন-জীবিকার বিষয়টি বিবেচনা করা প্রয়োজন। সরকারের কাছে আমাদের দাবি, দ্রুত কলেজটি এমপিওভুক্ত করা হোক। একই সঙ্গে শিক্ষার্থীদের জন্য একটি একাডেমিক ভবন নির্মাণের ব্যবস্থা নেওয়া হোক।”

১৪ নম্বর বিষ্ণুপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এস এম গোলাম আজম বলেন, একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান টিকিয়ে রাখতে শিক্ষকদের অবদান অপরিসীম। দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষক-কর্মচারীরা আর্থিক অনিশ্চয়তার মধ্যে থেকে শিক্ষা কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন, যা দুঃখজনক। শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ ও শিক্ষকদের মানবিক দিক বিবেচনায় নিয়ে কলেজটির এমপিওভুক্তি এবং একাডেমিক ভবন নির্মাণে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন।

তবে প্রতিষ্ঠানটির একাডেমিক পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন উপজেলা একাডেমিক সুপারভাইজার আব্দুল লতিফ। তিনি বলেন, “প্রতিষ্ঠানটির অবস্থা খুবই নাজুক। একাডেমিক অবস্থাও ভালো না।”

একাডেমিক সুপারভাইজারের এ বক্তব্যের সঙ্গে কলেজ কর্তৃপক্ষের ভালো ফলাফলের দাবির ভিন্নতা রয়েছে। ফলে এমপিওভুক্তির পাশাপাশি শিক্ষার মান, পাঠদানের পরিবেশ ও একাডেমিক কার্যক্রমের প্রকৃত অবস্থা মূল্যায়নের বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

স্থানীয়দের মতে, প্রত্যন্ত অঞ্চলে কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষার প্রসারে এ ধরনের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ভূমিকা রয়েছে। বিশেষ করে গ্রামের শিক্ষার্থীদের কারিগরি শিক্ষার সুযোগ নিশ্চিত করতে প্রতিষ্ঠানটির শিক্ষা কার্যক্রম সচল রাখা প্রয়োজন। তবে দীর্ঘদিনের আর্থিক সংকট ও অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতা দূর করা না গেলে ভবিষ্যতে কলেজটির কার্যক্রম আরও চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে পারে।

এ অবস্থায় কলেজটির এমপিওভুক্তি, শিক্ষক-কর্মচারীদের আর্থিক নিরাপত্তা, একাডেমিক কার্যক্রমের মানোন্নয়ন এবং প্রয়োজনীয় অবকাঠামো উন্নয়নে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর উদ্যোগ কামনা করেছেন শিক্ষক-কর্মচারী ও স্থানীয় বাসিন্দারা। তাঁদের প্রত্যাশা, প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হলে শিক্ষক-কর্মচারীদের দীর্ঘদিনের অনিশ্চয়তা কমার পাশাপাশি মান্দার প্রত্যন্ত অঞ্চলে কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষার প্রসার ঘটবে।

আরও খবর

Sponsered content