সারাদেশ

রামুতে অস্ত্র মামলায় বাসচালক গ্রেপ্তার: পুলিশ-পরিবারের বিপরীত দাবিতে প্রশ্নের জন্ম

  কক্সবাজার জেলা প্রতিনিধি ৯ জুন ২০২৬ , ১২:১২:২০ প্রিন্ট সংস্করণ

 

কক্সবাজারের রামু উপজেলার ঈদগড়ে অস্ত্র মামলায় গ্রেপ্তার হওয়া বাসচালক মোহাম্মদ তারেককে ঘিরে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। পুলিশের দাবি, অভিযানে তার হেফাজত থেকে একটি দেশীয় তৈরি অস্ত্র ও গুলি উদ্ধার করা হয়েছে। তবে পরিবারের অভিযোগ, তাকে পরিকল্পিতভাবে মামলায় জড়ানো হয়েছে।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ১৭ মে গভীর রাতে রামুর ঈদগড় ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের কোদালিয়াকাটা এলাকায় একটি বসতঘরে অভিযান চালায় পুলিশ। এএসআই আব্দুল খালেক দায়ের করা মামলায় উল্লেখ করা হয়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পরিচালিত অভিযানে তারেকের হেফাজত থেকে একটি দেশীয় তৈরি একনলা এলজি ও দুটি তাজা কার্তুজ উদ্ধার করা হয়। পরে তার বিরুদ্ধে অস্ত্র আইনে মামলা দায়ের করা হয়। মামলাটির জিআর নম্বর ৩৪৫/২০২৬ (রামু)।

অন্যদিকে, পরিবারের সদস্যরা দাবি করেছেন, তারেক একজন পরিবহন শ্রমিক এবং দীর্ঘদিন ধরে বাস ও পিকআপচালক হিসেবে জীবিকা নির্বাহ করছেন। স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দাও জানিয়েছেন, এর আগে তার বিরুদ্ধে অস্ত্র বা সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের কোনো অভিযোগ শোনা যায়নি।

স্থানীয় বাসিন্দা নাজিমুদ্দিন বলেন, “ঘটনার রাতে তারেক শ্বশুরবাড়িতে ছিলেন বলে আমরা জানতে পেরেছি। পরে তাকে আটক করা হয়। বিষয়টি নিয়ে এলাকায় নানা প্রশ্ন রয়েছে।”

আরেক স্থানীয় বাসিন্দা মৌলানা আমির হোসেন বলেন, “দীর্ঘদিন ধরে শ্রমজীবী মানুষ হিসেবে পরিচিত তারেকের বিরুদ্ধে অস্ত্র উদ্ধারের অভিযোগ অনেকের কাছেই অপ্রত্যাশিত মনে হয়েছে।”

তারেকের স্ত্রী রিনা আক্তার এক সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করেন, পারিবারিক ও ব্যবসায়িক বিরোধের জেরে তার স্বামীকে পরিকল্পিতভাবে অস্ত্র মামলায় জড়ানো হয়েছে। তিনি দাবি করেন, ঘটনার সময় তার স্বামী নিজ বাড়িতে ছিলেন না। পাশাপাশি তিনি ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কয়েকজনের ভূমিকা তদন্তের আওতায় আনার দাবি জানান।

তবে পরিবারের এসব অভিযোগের বিষয়ে স্বাধীনভাবে কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

এ বিষয়ে অভিযানে অংশ নেওয়া এএসআই জহিরুল ইসলাম বলেন, “ওসি মহোদয়ের নির্দেশে মাদকের সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানের সময় অস্ত্র উদ্ধার হওয়ায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।”

রামু থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনিরুল ইসলাম ভূঁইয়া বলেন, “গোপন তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। অভিযানের সময় অস্ত্র উদ্ধার হওয়ায় আইন অনুযায়ী মামলা নেওয়া হয়েছে। পুলিশ তার দায়িত্ব অনুযায়ী কাজ করেছে।”

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা খোরশেদ আলম বলেন, “তদন্ত চলমান রয়েছে। তদন্তের স্বার্থে এ মুহূর্তে বিস্তারিত মন্তব্য করা সম্ভব নয়। সব দিক যাচাই করে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটনের চেষ্টা করা হচ্ছে।”

এদিকে ঘটনাটিকে ঘিরে এলাকায় মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। একদিকে পুলিশের অস্ত্র উদ্ধারের দাবি, অন্যদিকে পরিবারের সাজানো মামলার অভিযোগ। ফলে বিষয়টির নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় সচেতন মহল।

তদন্ত শেষে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটিত হবে বলে সংশ্লিষ্টদের প্রত্যাশা।

আরও খবর

Sponsered content