সারাদেশ

পীরগঞ্জে ‘সাধু আন্তনীর পর্ব’ উপলক্ষে প্রার্থনা সভা ও তীর নিক্ষেপ প্রতিযোগিতা

  হুমায়ুন কবির, ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি ১৪ জুন ২০২৬ , ১১:১৮:৪৪ প্রিন্ট সংস্করণ

ঠাকুরগাঁওয়ের পীরগঞ্জে খ্রিস্টান আদিবাসী সম্প্রদায়ের অন্যতম ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক আয়োজন ‘সাধু আন্তনীর পর্ব’ উদযাপন উপলক্ষে প্রার্থনা সভা ও ঐতিহ্যবাহী তীর নিক্ষেপ প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

শনিবার (১৩ জুন) বিকেলে মাঞ্জি পরিষদের আয়োজনে বরবাড়ী-দস্তমপুর মিশন মাঠ প্রাঙ্গণে এ প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়। ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতার পাশাপাশি আদিবাসী সংস্কৃতির গুরুত্বপূর্ণ অনুষঙ্গ হিসেবে আয়োজিত এ অনুষ্ঠান স্থানীয় জনপদে উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি করে।

দূর-দূরান্ত থেকে আগত বিভিন্ন বয়সী প্রতিযোগীদের অংশগ্রহণে মাঠজুড়ে প্রাণচাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। দর্শনার্থীদের উপস্থিতিতে পুরো আয়োজন পরিণত হয় আদিবাসী সংস্কৃতির এক মিলনমেলায়।

অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন মহেশপুর ধর্মপল্লীর পাল-পুরোহিত ফাদার মাইকেল তিগ্যা, উপজেলা খ্রিস্টান অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি রেভারেন্ড বিষ্ণুপদ রায়, বরবাড়ী-দস্তমপুর মিশনের ফাদার আগষ্টিন কুজুর, পাড়িয়া বিএনইএলসি মিশনের পালক রেভারেন্ড টোমাস টুডু, অনুষ্ঠানের সভাপতি সুনীল কিস্কু বাবলু, ফাদার আলবার্ট সরেন ও ফাদার বাবুরাম হাজদা। এ সময় খেলা পরিচালনা কমিটির সদস্য বর্ণবাস কিস্কুসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।

বরবাড়ী-দস্তমপুর মিশনের ফাদার আগষ্টিন কুজুর বলেন, “সাধু আন্তনীর পর্ব শুধু একটি ধর্মীয় অনুষ্ঠান নয়, এটি আদিবাসী জনগোষ্ঠীর ঐতিহ্য, সংস্কৃতি ও পারস্পরিক বন্ধনের প্রতীক। আধুনিকতার প্রভাবে হারিয়ে যেতে বসা সাংস্কৃতিক চর্চাগুলো নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরতেই এ ধরনের আয়োজন করা হয়।”

তিনি আরও জানান, পীরগঞ্জ, বোচাগঞ্জ, রাণীশংকৈল ও ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার খ্রিস্টান আদিবাসী সম্প্রদায়ের সদস্যরা এ তীর নিক্ষেপ প্রতিযোগিতায় অংশ নেন। প্রতিযোগিতাকে কেন্দ্র করে পারস্পরিক সৌহার্দ্য বিনিময় এবং অভিজ্ঞতা ভাগাভাগির সুযোগ সৃষ্টি হয়।

স্থানীয় প্রবীণরা জানান, তীর-ধনুক আদিবাসী জনগোষ্ঠীর জীবনযাপন, শিকার সংস্কৃতি ও আত্মপরিচয়ের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। বর্তমানে এটি জীবিকার উপকরণ হিসেবে ব্যবহৃত না হলেও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের অংশ হিসেবে নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরা হচ্ছে। এ ধরনের আয়োজন আদিবাসী সমাজে ঐক্য, সম্প্রীতি ও সাংস্কৃতিক চেতনা জাগ্রত রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের সমন্বয়ে আয়োজিত এই তীর নিক্ষেপ প্রতিযোগিতা আদিবাসী সম্প্রদায়ের নিজস্ব সংস্কৃতি সংরক্ষণ ও শেকড়ের সঙ্গে সম্পর্ক অটুট রাখার প্রচেষ্টার একটি উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

আরও খবর

Sponsered content