নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা ১৪ জুন ২০২৬ , ১১:৩৮:৪৩ প্রিন্ট সংস্করণ
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের মুখে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশত্যাগের পর রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন সরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। এর মধ্যে ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের (ডিএনসিসি) ২০ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর কার্যালয়ও ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির শিকার হয়। ঘটনার দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও কার্যালয়টিতে এখনো রয়ে গেছে সেই ধ্বংসযজ্ঞের চিহ্ন। সংস্কারের অভাবে একদিকে যেমন স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে, অন্যদিকে জননিরাপত্তা নিয়েও উদ্বেগ বাড়ছে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, কার্যালয়ের জানালার কাচসহ বিভিন্ন আসবাবপত্র ক্ষতিগ্রস্ত অবস্থায় রয়েছে। ভাঙা কাচের অনেকাংশ এখনো অপসারণ বা প্রতিস্থাপন করা হয়নি। সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হলো, কার্যালয়ের সামনের এলাকায় স্থাপিত তিনটি গুরুত্বপূর্ণ সিসি ক্যামেরা ভাঙচুর করে নিয়ে যাওয়া হলেও এখন পর্যন্ত সেগুলো পুনঃস্থাপন করা হয়নি।
স্থানীয় বাসিন্দা ও ব্যবসায়ী আলহাজ মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, “আগে কাউন্সিলর কার্যালয়ের সামনে সিসি ক্যামেরা থাকায় এলাকাবাসী নিরাপদ বোধ করতেন। কিন্তু ক্যামেরাগুলো নষ্ট হওয়ার পর থেকে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড বেড়েছে। সন্ধ্যার পর সাধারণ মানুষের চলাচলও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে।”
স্থানীয়দের অভিযোগ, সিসি ক্যামেরা না থাকায় মাদকসেবী, মাদক কারবারি ও ছিনতাইকারীদের তৎপরতা বেড়েছে। বিশেষ করে রাতের বেলায় এলাকায় অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের আশঙ্কা বৃদ্ধি পেয়েছে। একই সঙ্গে আশপাশের বাসাবাড়ি ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে চুরির ঘটনাও বৃদ্ধি পেয়েছে বলে দাবি করেন তারা।
ডিএনসিসির ২০ নম্বর ওয়ার্ডের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (সচিব) বলেন, “৫ আগস্টের হামলায় কার্যালয়ের উল্লেখযোগ্য ক্ষতি হয়েছে। সিসি ক্যামেরা নষ্ট হওয়ায় নিরাপত্তা ব্যবস্থায় কিছুটা সমস্যা তৈরি হয়েছে। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। বাজেট বরাদ্দ পাওয়া সাপেক্ষে দ্রুত জানালার কাচ মেরামত এবং নতুন সিসি ক্যামেরা স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হবে।”
এ বিষয়ে স্থানীয় থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ ফরিদুল ইসলাম বলেন, “এলাকায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে পুলিশি টহল জোরদার করা হয়েছে। তবে অপরাধ দমন ও অপরাধী শনাক্তকরণে সিসি ক্যামেরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। আমরা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে দ্রুত ক্যামেরাগুলো পুনঃস্থাপনের অনুরোধ জানিয়েছি।”
এলাকাবাসীর দাবি, জননিরাপত্তার বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দ্রুত সিসি ক্যামেরা পুনঃস্থাপন এবং ক্ষতিগ্রস্ত অবকাঠামো সংস্কারের উদ্যোগ নিতে হবে। তাদের মতে, প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করা গেলে এলাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিরও উন্নতি হবে।




















