বিনোদন

পারিবারিক নাটকের পুনর্জাগরণে নতুন সংযোজন ‘এই শহর এই পরিবার’

  বিনোদন প্রতিবেদক | দৈনিক মতপ্রকাশ ২৩ জুন ২০২৬ , ১২:১০:১৮ প্রিন্ট সংস্করণ

বাংলা নাটকের দর্শকপ্রিয়তায় নতুন এক পরিবর্তনের হাওয়া বইছে। দীর্ঘদিন ধরে নায়ক-নায়িকাকেন্দ্রিক প্রেমের গল্প কিংবা হালকা কমেডিনির্ভর নাটকের আধিপত্য থাকলেও এখন দর্শক ফিরছেন জীবনঘনিষ্ঠ ও পারিবারিক গল্পের কাছে।

সম্পর্কের টানাপোড়েন, পরিবারের আবেগ, ত্যাগ, দায়িত্ববোধ ও ভালোবাসার বাস্তব চিত্রই এখন দর্শকের প্রধান আকর্ষণ।

এই পরিবর্তনের ধারাবাহিকতায় নির্মিত হয়েছে নতুন ধারাবাহিক নাটক ‘এই শহর এই পরিবার’।

গুণী নির্মাতা সম্রাট জাহাঙ্গীর–এর রচনা ও পরিচালনায় নির্মিত এই নাটকটি ইতোমধ্যে দর্শকমহলে ব্যাপক আগ্রহের জন্ম দিয়েছে।   এটিএন বাংলায়  প্রতি রোববার ও সোমবার রাত ৮টায় নাটকটি সম্প্রচারিত হচ্ছে।

নির্মাতা সম্রাট জাহাঙ্গীর

পাশাপাশি ফিল্ম ফ্যাক্টরি ইউটিউব চ্যানেলেও নিয়মিত প্রকাশ করা হচ্ছে ধারাবাহিকটির পর্বগুলো।

বর্তমান সময়ে পারিবারিক নাটকের প্রতি দর্শকদের যে নতুন আগ্রহ তৈরি হয়েছে, ‘এই শহর এই পরিবার’ সেই চাহিদারই একটি শক্তিশালী প্রতিফলন।

শহুরে জীবনের ব্যস্ততা, সম্পর্কের সংকট, ভালোবাসা, দায়িত্ববোধ এবং পারিবারিক বন্ধনের গল্পকে কেন্দ্র করে নির্মিত হয়েছে নাটকটি।

নির্মাতা সম্রাট জাহাঙ্গীর দক্ষতার সঙ্গে তুলে ধরেছেন আধুনিক নগরজীবনের বাস্তব চিত্র, যেখানে পরিবারই একজন মানুষের সবচেয়ে বড় আশ্রয় ও শক্তির উৎস। নাটকটির সবচেয়ে বড় চমক জনপ্রিয় কণ্ঠশিল্পী, সুরকার ও সংগীত পরিচালক প্রত্যয় খান।

এই প্রথম কোনো ধারাবাহিক নাটকের কেন্দ্রীয় চরিত্রে অভিনয় করেছেন তিনি।

‘অপু’ চরিত্রে তার অভিনয় ইতোমধ্যে দর্শকদের কৌতূহলের কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে। শুধু অভিনয়ই নয়, নাটকটির সম্পূর্ণ অডিও প্রোডাকশন ও ব্যাকগ্রাউন্ড স্কোরও করেছেন প্রত্যয় খান নিজেই। ফলে একজন শিল্পী হিসেবে এই ধারাবাহিকের সঙ্গে তার সম্পৃক্ততা বহুমাত্রিক।

প্রত্যয় খান বলেন, “এটাই আমার প্রথম পূর্ণাঙ্গ ধারাবাহিক নাটক। গল্পের অন্যতম প্রধান চরিত্রে অভিনয় করেছি। নাটকটির গল্প অসাধারণ। অভিনয়ের পাশাপাশি পুরো অডিও প্রোডাকশনও করেছি। দর্শক নাটকটি আগ্রহ নিয়ে দেখবেন বলেই আমার বিশ্বাস।”

নাটকের নামগানেও রয়েছে বিশেষ আকর্ষণ। গীতিকার শফিক তুহিন–এর লেখা শিরোনাম সংগীতে সুর ও কণ্ঠ দিয়েছেন প্রত্যয় খান। তার সঙ্গে দ্বৈত কণ্ঠে গানটি গেয়েছেন জনপ্রিয় শিল্পী কোনাল।

নাটকে প্রত্যয়ের বিপরীতে অভিনয় করেছেন তানিয়া বৃষ্টি।

প্রত্যয় খান ও তানিয়া বৃষ্টি

এছাড়া বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে রয়েছেন সাবেরী আলম, শামীমা নাজনীন, মাসুম বাশার, আব্দুল্লাহ রানা, মাহমুদুল ইসলাম মিঠু, আহমেদ শিবলু ও শাওন মজুমদারসহ একঝাঁক অভিজ্ঞ অভিনয়শিল্পী।

অভিনেত্রী সাবেরী আলম মনে করেন, পারিবারিক গল্পের প্রতি দর্শকদের আগ্রহ বৃদ্ধি নাট্যাঙ্গনের জন্য অত্যন্ত ইতিবাচক।

সাবেরি আলম

 

তিনি বলেন, “এখন পারিবারিক গল্পকে প্রাধান্য দেওয়া হচ্ছে। ‘এই শহর এই পরিবার’ নাটকের গল্পে আমাদের সমাজের নানা বাস্তব ঘটনা ও সম্পর্কের বিষয়গুলো নাটকীয়ভাবে তুলে ধরা হয়েছে। এই পরিবর্তন নাট্যশিল্পের জন্য আশাব্যঞ্জক।”

বিশ্লেষকদের মতে, একসময় নাটকে মা-বাবা ও অভিভাবক চরিত্রগুলো ক্রমশ গুরুত্ব হারাতে শুরু করেছিল। ফলে বহু অভিজ্ঞ ও গুণী শিল্পী কাজের সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছিলেন। কিন্তু পারিবারিক নাটকের পুনরুত্থান সেই চিত্র বদলে দিয়েছে।

এখন আবার প্রবীণ ও অভিজ্ঞ শিল্পীরা গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে অভিনয়ের সুযোগ পাচ্ছেন, যা নাটকের মান ও গভীরতা বৃদ্ধি করছে।

‘এটা আমাদেরই গল্প’, ‘দেনা পাওনা’, ‘তোমাদের গল্প’ কিংবা ‘একান্নবর্তী’র মতো দর্শকপ্রিয় ধারাবাহিকগুলোর সাফল্যের ধারাবাহিকতায় ‘এই শহর এই পরিবার’ও পারিবারিক নাটকের নতুন সম্ভাবনার বার্তা দিচ্ছে।

অনেকের মতে, বিটিভির সোনালি যুগের ‘এইসব দিনরাত্রি’, ‘আজ রবিবার’ ও ‘বন্ধন’-এর মতো নাটকের যে আবেগ ও ঐতিহ্য ছিল, সেই স্মৃতিকেই নতুন প্রজন্মের কাছে ফিরিয়ে আনতে পারে এই ধারাবাহিক।

নির্মাতা সম্রাট জাহাঙ্গীরের দূরদর্শী নির্মাণশৈলী, শক্তিশালী গল্প, অভিজ্ঞ অভিনয়শিল্পীদের সমন্বয় এবং প্রত্যয় খানের ব্যতিক্রমী উপস্থিতি মিলিয়ে ‘এই শহর এই পরিবার’ হয়ে উঠতে পারে সমসাময়িক বাংলা নাটকের অন্যতম আলোচিত পারিবারিক ধারাবাহিক। দর্শকদের প্রত্যাশা, এই নাটক শুধু বিনোদনই দেবে না, বরং পারিবারিক মূল্যবোধ ও সম্পর্কের গুরুত্বকেও নতুন করে স্মরণ করিয়ে দেবে।

আরও খবর

Sponsered content