প্রতিনিধি ১ জুলাই ২০২৬ , ১২:৩৮:৩২ প্রিন্ট সংস্করণ
ভেনেজুয়েলায় স্মরণকালের ভয়াবহ জোড়া ভূমিকম্পে নিহতের সংখ্যা বেড়ে অন্তত ১ হাজার ৯৪৩ জনে পৌঁছেছে। এছাড়া আহত হয়েছেন ১০ হাজারেরও বেশি মানুষ। এখনও কয়েক হাজার মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন। ধ্বংসস্তূপে আটকে পড়াদের উদ্ধারে দেশি-বিদেশি উদ্ধারকারী দল কাজ চালিয়ে গেলেও সীমিত সক্ষমতা ও ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞের কারণে অনেক দুর্গত এলাকায় এখনো পৌঁছানো সম্ভব হয়নি।
মঙ্গলবার দেশটির জাতীয় পরিষদের সভাপতি হোর্হে রদ্রিগেজ সর্বশেষ হতাহতের এই তথ্য জানান। তিনি বলেন, গত সপ্তাহে আঘাত হানা ৭ দশমিক ২ ও ৭ দশমিক ৫ মাত্রার শক্তিশালী দুই ভূমিকম্পে প্রায় ৫৯ হাজার ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে অথবা সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে গেছে। রাজধানী কারাকাস সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোর একটি।
মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন জানিয়েছে, ভবন ধসে পড়ার প্রায় ২৪ ঘণ্টা পর থেকেই ধ্বংসস্তূপ থেকে দুর্গন্ধ বের হতে শুরু করে। সময়ের সঙ্গে সেই দুর্গন্ধ আরও তীব্র হয়েছে। তারপরও স্বজনদের জীবিত বা অন্তত তাঁদের মরদেহ খুঁজে পাওয়ার আশায় অনেক মানুষ ধ্বংসস্তূপের পাশ ছাড়ছেন না।
তেমনই একজন মিরেল্লা হেরেরা। ধসে পড়া একটি ভবনের পাশে ছেলের খোঁজে অপেক্ষা করছেন তিনি।
সিএনএনকে তিনি বলেন, ‘এই অপেক্ষা পাগল হয়ে যাওয়ার মতো। নিজেকে স্বাভাবিক রাখতে পানি খাচ্ছি, হাঁটছি। ভাবছি, তারা যদি এখনও বেঁচে থাকে, তাহলে হয়তো বেরিয়ে আসার জন্য মরিয়া হয়ে চেষ্টা করছে।’
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসার প্রকাশিত স্যাটেলাইট তথ্যের প্রাথমিক বিশ্লেষণেও ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞের চিত্র উঠে এসেছে।
বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ভূমিকম্পে প্রায় ৫৮ হাজার ৮৭০টি ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বা সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ওরেগন স্টেট ইউনিভার্সিটির গবেষক কোরি শের এবং জ্যামন ভ্যান ডেন হোক ২৫ জুন ইউরোপীয় মহাকাশ সংস্থার সেনটিনেল-১ স্যাটেলাইটের রাডার তথ্য বিশ্লেষণ করে এই মূল্যায়ন দিয়েছেন। তবে তাঁরা এটিকে দ্রুত প্রস্তুত করা একটি প্রাথমিক মূল্যায়ন বলে উল্লেখ করেছেন।
ভূমিকম্পের পর থেকে ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে জীবিতদের উদ্ধারে দিনরাত কাজ করছেন উদ্ধারকর্মীরা। তবে বিপুলসংখ্যক ধসে পড়া ভবন, ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক এবং যোগাযোগব্যবস্থা ভেঙে পড়ায় অনেক এলাকায় এখনো উদ্ধার অভিযান পুরোপুরি পরিচালনা করা সম্ভব হয়নি।
কর্তৃপক্ষের আশঙ্কা, নিখোঁজদের সন্ধান অব্যাহত থাকায় নিহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে। একই সঙ্গে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের জন্য জরুরি চিকিৎসা, খাদ্য, বিশুদ্ধ পানি এবং আশ্রয়ের চাহিদাও দিন দিন বাড়ছে।




















