প্রতিনিধি ২৮ অক্টোবর ২০২৬ , ৫:৩৮:৩০ প্রিন্ট সংস্করণ
মিরপুর টেস্টের প্রথম দিন শেষে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ৩ উইকেটে ২১৩ রান সংগ্রহ করেছে বাংলাদেশ। মিরপুরে দিনের খেলা শেষ হওয়ার সময় ৯৯ রানে অপরাজিত ছিলেন সাদমান ইসলাম। আলোর স্বল্পতার কারণে নির্ধারিত সময়ের আগেই খেলা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় মাত্র এক রানের জন্য শতক থেকে বঞ্চিত হন তিনি। ২১৯ বলের ধৈর্যশীল ইনিংসে তিনি মেরেছেন ১০টি চার।
দিনের শেষ দিকে আলোর স্বল্পতার কারণে প্রথমবার বিকেল ৩টা ১৬ মিনিটে খেলা বন্ধ করেন আম্পায়াররা। প্রায় ৫০ মিনিট বিরতির পর খেলোয়াড়েরা আবার মাঠে ফেরেন। তবে বিকেল ৪টা ২২ মিনিটে পুনরায় খেলা বন্ধ হয়ে যায়। ফলে সেঞ্চুরির দ্বারপ্রান্তে থাকা সাদমানের আর শতক পূর্ণ করা হয়নি।
দিনের শেষ মুহূর্তে সাদমানের সঙ্গে অপরাজিত ছিলেন লিটন দাস। চোট কাটিয়ে খেলার জন্য উপযুক্ত বিবেচিত হওয়ার পর মাঠে নামা লিটন ২৮ বলে ১০ রান করেন। এর আগে ওয়েস্ট ইন্ডিজের অধিনায়ক রোস্টন চেজ দ্রুতগতির বোলার দিয়ে আক্রমণ করার চেষ্টা করলেও আলোর অবস্থা বিবেচনায় আম্পায়াররা তাতে অনুমতি দেননি।
দিনের শুরুতে সতর্ক ব্যাটিং করেন সাদমান। তবে অন্য প্রান্তে সুবিধা করতে পারেননি তানজিদ হাসান। ২৩ বল খেলে মাত্র ৭ রান করে জেডেন সিলসের বলে দ্বিতীয় স্লিপে জাস্টিন গ্রিভসের হাতে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন তিনি।
নতুন বলে ওয়েস্ট ইন্ডিজের দ্রুতগতির বোলাররা বাড়তি বাউন্স ও সুইং আদায় করে নেওয়ায় শুরুতে রান তোলা কঠিন হয়ে পড়ে বাংলাদেশের জন্য। তবে সাদমান এক প্রান্ত আগলে রেখে ব্যাটিং চালিয়ে যান।
দ্বিতীয় উইকেটে মুমিনুল হকের সঙ্গে ৫৯ রানের জুটি গড়েন শান্তমান। শর্ট বলের বিপক্ষে আত্মবিশ্বাসী থাকলেও অফ স্টাম্পের আশপাশে সতর্ক থেকে ব্যাট চালান তিনি। মধ্যাহ্নবিরতির ঠিক আগে জোমেল ওয়ারিকানের বলে মিড-অফে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন মুমিনুল। ২৮ রান করা এই ব্যাটার উইকেট ছেড়ে এগিয়ে এসে শট খেলতে গিয়ে বলের নিয়ন্ত্রণ হারান।
মধ্যাহ্নবিরতিতে বাংলাদেশের সংগ্রহ দাঁড়ায় ২ উইকেটে ৯৬ রান।
মধ্যাহ্নবিরতির পরপরই অর্ধশতক পূর্ণ করেন সাদমান। তবে কিছুক্ষণ পরই উইকেট হারায় বাংলাদেশ। ওয়ারিকানের ভাসিয়ে দেওয়া বল সুইপ করতে গিয়ে মিস করেন অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত। বল তার পায়ে লাগলে আবেদনে সাড়া দিয়ে তাকে আউট দেন আম্পায়ার। পরে সফল পর্যালোচনার মাধ্যমে সিদ্ধান্তটি নিশ্চিত হয়।
৪২ বলে ১৯ রান করে ফেরেন শান্ত। তখন বাংলাদেশের সংগ্রহ ৩ উইকেটে ১১২ রান।
এরপর তাওহীদ হৃদয় ও সাদমান মিলে দলকে বিপর্যয় থেকে সামলে নেন। শামার জোসেফের বলে দুটি চার মারেন হৃদয়, যার মধ্যে একটি ছিল দারুণ শক্তিশালী পুল শট। অন্যদিকে গ্রিভসের বলে কভার অঞ্চলে বেশ কয়েকটি দৃষ্টিনন্দন শট খেলেন সাদমান।
দুজনের দৃঢ় ব্যাটিংয়ে চায়ের বিরতিতে বাংলাদেশের সংগ্রহ দাঁড়ায় ৩ উইকেটে ১৭৭ রান।
চায়ের বিরতির পরও নিজের উইকেট আগলে রাখেন সাদমান। রোস্টন চেজের ঢিলেঢালা বলে মিডউইকেট দিয়ে পুল শট খেলে চার মারেন তিনি। অভিষিক্ত জশুয়া বিশপের বলেও কভার ড্রাইভে চার আদায় করেন।
অন্যদিকে ক্রমেই পায়ের পেশিতে টান অনুভব করতে থাকেন হৃদয়। একপর্যায়ে এক রান নেওয়াও তার জন্য কঠিন হয়ে পড়ে। শেষ পর্যন্ত ৬৬তম ওভারে মাঠে লুটিয়ে পড়েন তিনি। পরে তাকে স্ট্রেচারে করে মাঠের বাইরে নিয়ে যাওয়া হয়।
৮৪ বলে ৪২ রান করেন হৃদয়। চতুর্থ উইকেটে সাদমানের সঙ্গে তার ৮৮ রানের জুটি ছিল দিনের সবচেয়ে বড় জুটি। হৃদয় সুস্থ হয়ে উঠলে আবার ব্যাটিংয়ে ফিরতে পারবেন।
হৃদয়ের মাঠ ছাড়ার পর লিটন দাস ব্যাটিংয়ে নামেন। চোট থেকে সেরে উঠে খেলার অনুমতি পাওয়া লিটন ব্যাকওয়ার্ড পয়েন্ট দিয়ে চার মেরে নিজের ইনিংস শুরু করেন। এরপরই আলোর স্বল্পতার কারণে প্রথমবার খেলা বন্ধ হয়ে যায়।
ওয়েস্ট ইন্ডিজের হয়ে দিনের সেরা বোলার ছিলেন জোমেল ওয়ারিকান। তিনি ৩৩ রান দিয়ে ২ উইকেট নেন। অন্য উইকেটটি পান জেডেন সিলস।
অভিষেক ম্যাচ খেলতে নামা জশুয়া বিশপ কোনো উইকেট না পেলেও তার ঘূর্ণিতে বাংলাদেশের ব্যাটারদের বেশ কয়েকবার সমস্যায় পড়তে হয়েছে। তবে সাদমানের ধৈর্যশীল ব্যাটিং ও হৃদয়ের সঙ্গে তার গুরুত্বপূর্ণ জুটির কারণে দিন শেষে ম্যাচে ভালো অবস্থানে রয়েছে বাংলাদেশ।
প্রথম দিন শেষে বাংলাদেশের সংগ্রহ ৭৪ ওভারে ৩ উইকেটে ২১৩ রান। সাদমান ইসলাম ৯৯ রানে অপরাজিত। আর মাত্র এক রান করতে পারলেই টেস্ট ক্রিকেটে নিজের তৃতীয় শতক পূর্ণ করবেন তিনি।















