নিজস্ব প্রতিবেদকঃ ১ মার্চ ২০২৬ , ৫:০৯:৫৯ প্রিন্ট সংস্করণ
ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির সদস্য ও ২০ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর আবুল কালাম আজাদের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজদের আশ্রয় দেওয়া, চিহ্নিত সন্ত্রাসীদের পরোক্ষ মদদ এবং আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের পুনর্বাসনের একাধিক অভিযোগ উঠেছে।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ৫ আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের পর প্রভাব খাটিয়ে তিনি মহাখালী বাস টার্মিনাল বাস মালিক সমিতির কার্যকরী সভাপতি পদ লাভ করেন। এরপর থেকেই তার বিরুদ্ধে বেপরোয়া চাঁদাবাজির অভিযোগ ওঠে, যা নিয়ে বাস মালিক ও শ্রমিক—উভয় পক্ষের মধ্যেই অসন্তোষ বিরাজ করছে।
স্থানীয়দের দাবি, আবুল কালাম আজাদের প্রতি ভোটারদের অনাস্থার কারণে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-১৭ আসনের টিএন্ডটি আদর্শ বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের ৭৮ নম্বর কেন্দ্রে বিএনপির প্রার্থী পরাজিত হন।
এ বিষয়ে বনানী থানা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মোহাম্মদ আল মামুন খাঁন অভিযোগ করে বলেন, “নির্বাচনের আগে আবুল কালাম আজাদ তারেক রহমান-এর পক্ষে প্রচারণা না করে নিজে আবার কাউন্সিলর হবেন—এমন প্রচারণা চালান। ভোটারদের বাড়ি বাড়ি গেছেন আওয়ামী লীগের চিহ্নিত সন্ত্রাসী, বস্তির চাঁদাবাজ ও মাদক ব্যবসায়ীদের সঙ্গে নিয়ে। এ কারণেই ৭৮ নম্বর কেন্দ্রে ধানের শীষ পরাজিত হয়েছে।”
একটি বিশ্বস্ত সূত্র জানায়, আবুল কালাম আজাদের ঘনিষ্ঠ কর্মী খুররম আলী আগে আওয়ামী লীগ-এর রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। বর্তমানে তিনি বিএনপির নাম ব্যবহার করে বেলতলা বস্তির বাজার ও ময়লা টেন্ডার দখল করেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। একই সঙ্গে বিএনপির ত্যাগী নেতাকর্মীদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগও উঠেছে তার বিরুদ্ধে।
সূত্র মতে, ৫ আগস্টের পর বেলতলা বস্তির প্রায় শতাধিক ঘর দখল এবং অবৈধ বিদ্যুৎ সংযোগের মাধ্যমে কোটি টাকার বেশি অর্থ আত্মসাৎ করা হয়েছে। যেখানে আগে বিদ্যুৎ খাতে বকেয়া ছিল প্রায় ৬০ লাখ টাকা, বর্তমানে তা বেড়ে দেড় কোটিরও বেশি হয়েছে।
এদিকে স্থানীয়রা অভিযোগ করেন, মহাখালী সাততলা এলাকায় ফজলু মিয়া নামের এক ব্যক্তি আবুল কালাম আজাদের আশ্রয়ে মাদক স্পট নিয়ন্ত্রণ করেন। পাশাপাশি বস্তির একাংশে চাঁদাবাজি ও অবৈধভাবে গ্যাস, পানি ও বিদ্যুৎ ব্যবসাও তার নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বনানী থানা বিএনপির কয়েকজন নেতাকর্মী জানান, আগে শ্রমিক লীগ ও যুবলীগের সঙ্গে যুক্ত একাধিক চিহ্নিত চাঁদাবাজ বর্তমানে আবুল কালাম আজাদের মদদে সক্রিয় রয়েছে, যা দলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করছে।
তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর কোনো দায়িত্বশীল নেতার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
অন্যদিকে, অভিযোগ অস্বীকার করে আবুল কালাম আজাদ বলেন,“এনায়েতুল্লার পালিত খুনি, সন্ত্রাসী ও চাঁদাবাজরা আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা ও বানোয়াট অপপ্রচার চালাচ্ছে। তাদের গডফাদারদের তথ্য ফাঁস হয়ে যাওয়ায় তারা এসব গুজব ছড়াচ্ছে।”





















