প্রতিনিধি ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ , ৭:২২:৫৬ প্রিন্ট সংস্করণ
বাংলাদেশের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ জয়ের পর বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে নিয়ে প্রশংসা করে ফেসবুক স্ট্যাটাস দিয়েছেন বাংলাদেশি লেখিকা তসলিমা নাসরিন।
রোববার (১৫ ফেব্রুয়ারি) তিনি তার ফেসবুক পেজে এই স্ট্যাটাস দেন।
এতে তিনি লিখেন, ‘বিএনপি এমন একটি নিরাপদ বাংলাদেশ গড়তে চায় যেখানে মুসলমান, হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান, বিশ্বাসী, অবিশ্বাসী, কিংবা সংশয়বাদী, পাহাড়ে কিংবা সমতলে বসবাসকারী সকলে নিরাপদ থাকবে।’ এই কথাগুলো বলেছেন তারেক রহমান, যিনি খুব শীঘ্র বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হতে যাচ্ছেন।
এমন দরকারি কথা আজ পর্যন্ত বাংলাদেশের কোনো মন্ত্রী, প্রধানমন্ত্রী, রাষ্ট্রপতি বলেননি। সতেরো বছর একটি সভ্য দেশে বাস করে তিনি যথেষ্ট শিক্ষিত এবং সভ্য হয়েছেন নিশ্চয়ই, তা না হলে এমন কথা তিনি বলতে পারতেন না।
তিনি আরও লিখেন, আজ পর্যন্ত অবিশ্বাসী এবং সংশয়বাদীদের নিরাপত্তা বাংলাদেশের সরকার থেকে কেউই দিতে চাননি, দেওয়ার চেষ্টাও করতে চাননি। বরং অবিশ্বাসী এবং সংশয়বাদীদের বাকস্বাধীনতা কেড়ে নেওয়া হয়েছে, তাঁদের কারাগারে নিক্ষেপ করা হয়েছে, এমনকী তাদের দেশ থেকে বিতাড়িত করা হয়েছে।
তাদের মাথার দাম যারা ঘোষণা করেছে অথবা তাদের যারা হত্যা করেছে—সেই অপরাধীদের এবং খুনীদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নিতে চায়নি কোনো সরকারই। অবিশ্বাসী এবং সংশয়বাদীদের নাগরিক অধিকার বহু কাল থেকেই সব সরকারই লঙ্ঘন করেছে।
তসলিমা আরও যোগ করে বলেন, ইসলাম ছাড়া অন্য কোনো ধর্মে অবিশ্বাসী এবং সংশয়বাদীদের কোনো সমস্যা হয় না, কেবল ইসলামে অবিশ্বাসী এবং সংশয়বাদীদেরই নিকৃষ্ট ধর্মান্ধ জঙ্গিরা হত্যা করার জন্য ছুরি ধার করে রেখেছে। এই জিহাদি-জঙ্গিদের অস্ত্র থেকে যদি আমাদের নিরাপত্তা দেওয়া হয়, তাহলে আমরা স্বদেশে বাস করতে পারি এবং স্বদেশের মানুষকে সভ্য শিক্ষিত এবং বিজ্ঞানমনস্ক করার উদ্যোগ নিতে পারি।
মনে রাখতে হবে, যে বিশ্বাসটা সবচেয়ে দ্রুত বাড়ছে পৃথিবীতে, তা কোনও ধর্ম নয়, তা নাস্তিকতা। জরিপে দেখা গেছে, নাস্তিকরা আস্তিকদের চেয়ে বেশি বুদ্ধিদীপ্ত, বেশি মেধাবী। নিরাপত্তার অভাবের কারণে এই বুদ্ধিদীপ্ত মেধাবী জনগোষ্ঠী দেশের বাইরে বাস করতে বাধ্য হচ্ছে।
বাকস্বাধীনতার পক্ষে জরুরি কথাগুলো বলার জন্য তারেক রহমানকে ধন্যবাদ। তবে তাঁর কাজেই প্রমাণিত হবে, তিনি আমাদের আদৌ নিরাপত্তা দেবেন কি না।











