প্রচ্ছদ

শিবিরকে এতো অ্যাটেনশন দিচ্ছেন কেন?

  মোসাদ্দিক উজ্জ্বল ,সাবেক ছাত্র নেতা ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৫ , ১২:৪০:২১ প্রিন্ট সংস্করণ

শিবিরকে এতো অ্যাটেনশন দিচ্ছেন কেন?

আসলে এই সংগঠন কি সত্যিই এতটা প্রাপ্য?

আওয়ামী লীগকে ঠেকাতে যখন দেশের প্রায় সব রাজনৈতিক দল একাট্টা, তখন আওয়ামী লীগ আবার ক্ষমতায় ফিরতে পারে—এই ভয়ে যারা অস্থির হয়ে উঠেছে, তাদের প্রতি যদি সফট কর্ণার দেখান, তবে আপনার রাজনৈতিক বোধকেই প্রশ্নবিদ্ধ করে ফেলবেন।

অনেকে বলছেন: “হেরে গেছে বাংলাদেশ, জিতেছে পাকিস্তান।”

কিন্তু আমি ভেবেছিলাম আজ সকলে সমস্বরে গাইবেন— “কে দিলো পিরিতের বেড়া লিচুরও বাগানে।”

পাঁচ তারিখের পর আওয়ামী লীগ করাটা মানে আপনি সঠিক পথেই আছেন। আদর্শিক রাজনীতি যাঁরা করেন তাঁদের হতাশ হবার কিছু নেই। ডাকসু হোক বা সারা দেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান—শিবির সাময়িকভাবে এগিয়ে গেলেও ফাঁদে পড়ার কিছু নেই।

কারণ, নয়া ভোটাররা শিবিরকে আসলে ভালো করে চেনে না। ফ্যান্টাসি ও মোহ ভেঙে যেতে খুব বেশি সময় লাগবে না। ছাত্র শিবির কেবল তাদের অনুসারীদের ভোটেই জিতেনি; এখানে ফ্লোটিং ভোটারও আছে। সেই সঙ্গে আওয়ামী লীগের প্রতি প্রচণ্ড বিতৃষ্ণা জন্মানো এক বিশাল প্রজন্ম সাময়িকভাবে শিবিরের দিকে ঝুঁকেছে।

জামাতের আমির ক্ষমা প্রার্থনার কথা বলে এক ধরনের বুদ্ধিবৃত্তিক কৌশল নিয়েছেন—কিন্তু সেটার ফাঁদে পা দেবেন না। আপনার আচরণ ও কর্মকাণ্ড দিয়ে যেন জামাত-শিবিরকে পরোক্ষ সমর্থন না মেলে। তারা আপনাকে অস্থির করতে চাইবে, কিন্তু আপনাকে স্থির থাকতে হবে। মনে রাখবেন—কয়েক হাজার ডিপস্টেট একত্র হলেও জামাতকে ক্ষমতায় বসাতে পারবে না।

এখন আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মীদের জন্য সবচেয়ে জরুরি হলো আত্মসমালোচনা, আত্মসংযম ও আত্মশুদ্ধি। মনোযোগ থাকুক সেদিকেই—শিবিরের দিকে নয়। ডাকসু নিয়ে অতিরিক্ত মাথা ঘামাবেন না। শিবিরের সঙ্গে পাল্টাপাল্টি রাজনীতি করার দায়িত্ব ছাত্রলীগের।

আপনাদের কর্তব্য হবে ছাত্রলীগের জন্য সেই পরিবেশ তৈরি করা।

আরও খবর

Sponsered content