মো. গোলাম কিবরিয়া রাজশাহী জেলা প্রতিনিধি ৭ আগস্ট ২০২৫ , ১২:২১:০১ প্রিন্ট সংস্করণ
দীর্ঘদিন আত্মগোপনে থাকার পর রাজশাহীর আলোচিত হুন্ডি ব্যবসায়ী মোখলেসুর রহমান মুকুল (৪৫) অবশেষে ধরা পড়েছেন। বুধবার (৬ আগস্ট) ভোরে কক্সবাজারের সুগন্ধা বিচ পয়েন্ট থেকে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে তাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন রাজশাহী সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইলিয়াস খান।
পুলিশ জানায়, ছাত্র-জনতার ওপর হামলার ঘটনায় মুকুলের বিরুদ্ধে রাজশাহীতে একাধিক মামলা রয়েছে। সুনির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
রাজশাহীর কাঁঠালবাড়িয়া গোবিন্দপুর মহল্লার বাসিন্দা মোখলেসুর রহমান মুকুল স্থানীয়ভাবে ‘হুন্ডি মুকুল’ নামে পরিচিত। এক সময়ের মুদিদোকানি মুকুল বর্তমানে হাজার কোটি টাকার মালিক বনে গেছেন। হুন্ডির মাধ্যমে বিদেশে বিপুল পরিমাণ অর্থ পাচারের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে।
২০১৮ সালের ১৮ ফেব্রুয়ারি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগ থেকে পুলিশের তৎকালীন মহাপরিদর্শকের কাছে পাঠানো এক গোপন প্রতিবেদনে হুন্ডি কারবারিদের একটি তালিকা দেওয়া হয়। সেই তালিকায় রাজশাহীর সিন্ডিকেট প্রধানদের মধ্যে দ্বিতীয় অবস্থানে ছিল মুকুলের নাম।
বিশ্বস্ত সূত্রে জানা যায়, ভারতের গরু পাচার সিন্ডিকেটের হোতা এনামুলের সঙ্গে মুকুলের ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ ছিল। জনশ্রুতি রয়েছে—একবার এনামুল মুকুলের কাছে ১ হাজার কোটি রুপি পাঠালে, তার অর্ধেক আত্মসাৎ করেন মুকুল।
স্থানীয়দের অভিযোগ, মুকুল দীর্ঘদিন ধরে আওয়ামী লীগের ছত্রছায়ায় ব্যবসা-বাণিজ্য করে আসছিলেন। নিজের অবৈধ অর্থকে বৈধ রূপ দিতে তিনি ঠিকাদারি ব্যবসায় যুক্ত হন। রাজশাহী সিটি করপোরেশনে বিগত কয়েক বছরে প্রায় ৩০০ কোটি টাকার প্রকল্পের কাজ করেন তিনি। যদিও এসব প্রকল্প লোকসানের মুখে পড়ে বলে দাবি করেছেন স্থানীয় ঠিকাদাররা।
সবশেষে তিনি গোদাগাড়ী উপজেলার একটি বালুমহালের ইজারা নেন। আত্মগোপনে থাকাকালেও জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে গিয়ে ইজারার চুক্তিপত্রে স্বাক্ষর করেন তিনি। পরে ঘটনাটি জানাজানি হলে রাজশাহীতে বিক্ষোভ দেখা দেয়।
ওসি ইলিয়াস খান জানিয়েছেন, মুকুলকে রাজশাহীর মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। কক্সবাজার আদালতে তোলা হলে আদালত তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।














