প্রতিনিধি ২৯ জুন ২০২৫ , ১১:৫৮:১৩ প্রিন্ট সংস্করণ
মো: সাকিব চৌধুরী: রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের (বেরোবি) গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক তাবিউর রহমান প্রধানের বিরুদ্ধে জালিয়াতির মাধ্যমে নিয়োগের অভিযোগ উঠেছে। এর প্রেক্ষিতে তার বিরুদ্ধে হাইকোর্টের আদেশ ও রুল অনুযায়ী তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।
রোববার (২৯ জুন) কমিটি গঠনের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার ড. হারুন অর রশীদ।
তিনি বলেন, গতশনিবার (২৮ জুন) হাইকোর্টের রুল ও দুদকের চিঠির প্রেক্ষিতে বর্তমান উপাচার্য ড. মো. শওকাত আলীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত ১১৩তম সিন্ডিকেট সভায় এ তদন্ত কমিটি গঠিত হয়েছে।
তদন্ত কমিটিতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মার্কেটিং বিভাগের অধ্যাপক ড. এবিএম শাহিদুল ইসলাম আহ্বায়ক ও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ফলিত গণিত বিভাগের অবসরপ্রাপ্ত অধ্যাপক শামসুল আলম সরকারকে সদস্য করা হয়েছে। এছাড়া সদস্যসচিব হিসেবে রয়েছেন বেরোবির রেজিস্ট্রার ড. মো. হারুন অর রশিদ।
বিশ্ববিদ্যালয় থেকে জানা যায়, নিয়োগ বাছাই বোর্ডের সুপারিশপত্র ‘জালিয়াতি’ করে ২০১২ সালে প্রভাষক পদে নিয়োগ নিয়ে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক তাবিউর রহমান প্রধান ১৩ বছর ধরে চাকরি করে যাচ্ছেন। অভিযোগ রয়েছে, বিশ্ববিদ্যালয় আওয়ামী লীগের শিক্ষক ফোরাম হলুদ দলের দাপট দেখিয়ে ‘অবৈধভাবে’ চাকরি করে যাচ্ছেন। সবশেষ আবু সাঈদ নিহত হওয়ার পর বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির মিটিংয়ে হাসিনা সরকারের পতন ঠেকাতে জোরালো ভূমিকা রাখেন তিনি। তাবিউর রহমান প্রধানের বিরুদ্ধে হাইকোর্টের আদেশ ও রুল অনুযায়ী তার প্রভাষক হিসেবে নিয়োগ জালিয়াতি তদন্তে তিন সদস্যের কমিটি গঠন করেছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষার্থীরা তার অবৈধ নিয়োগ বাতিলের দাবিতে সরব রয়েছেন।
সূত্রে জানা যায়, আওয়ামী লীগ সমর্থক হিসেবে বেশ কয়েকবার শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক হয়েছেন তাবিউর রহমান। লালমনিরহাট-১ (হাতীবান্ধা-পাটগ্রাম) ও লালমনিরহাট-২ (কালীগঞ্জ-আদিতমারী) আসনে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী নুরুজ্জামান আহমেদ ও মোতাহার হোসেনের পক্ষে নৌকা মার্কার নির্বাচনী প্রচারণা করেছেন এ শিক্ষক। আওয়ামীপন্থী শিক্ষক হিসেবে তাবিউর একাধিকবার শিক্ষক সমিতির নেতৃত্বে ছিলেন এবং রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে চাকরি টিকিয়ে রেখেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
এর আগে শিক্ষক তবিউর রহমানের বিরুদ্ধে গঠিত ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং কমিটির প্রতিবেদনে বলা হয়, প্রকৃতভাবে সুপারিশপ্রাপ্ত প্রার্থী মো. মাহামুদুল হককে বঞ্চিত করে তাবিউরকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। নিয়োগ বোর্ডের সুপারিশে কাটাছেঁড়া করে ‘যে কাউকে’ বলে তাবিউরের নাম কলমে বসানো হয়।
১৩ বছর ধরে অবৈধভাবে চাকরি করে যাওয়া তাবিউরকে কেন এখনো বরখাস্ত করা হয়নি- এ প্রশ্ন তুলেছেন মাহামুদুল হক। তিনি বলেন, এটা শুধু একজনের নয়, বিগত সব উপাচার্যের দায়।
অভিযোগের বিষয়ে গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষক তাবিউর রহমানের সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলেও সাড়া পাওয়া যায়নি।
গঠিত তদন্ত কমিটির সদস্যসচিব রেজিস্ট্রার ড. মো. হারুন অর রশিদ বলেন, এ বিষয়ে আগে থেকেই তদন্ত কমিটি ছিল। তবে কিছু সিন্ডিকেট সদস্যরা চেঞ্জ হওয়ার কারণে কমিটি পুনরায় গঠন করা হয়েছে। শিক্ষক তাবিউর রহমানের নিয়োগ জালিয়াতির বিষয়ে ইউজিসি থেকে বিশ্ববিদ্যালয়কে অবগত করার প্রেক্ষিতে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্ত সাপেক্ষে দ্রুতই সত্য ঘটনা বেরিয়ে আসবে।




















