প্রচ্ছদ

রংপুরে রেললাইনের ধারে অস্থায়ী বস্তি এখন মাদকপল্লি, ঝুঁকিতে শিশু-কিশোরদের ভবিষ্যৎ

  মো. সাকিব চৌধুরী ৪ আগস্ট ২০২৫ , ১১:২২:২১ প্রিন্ট সংস্করণ

রংপুর নগরীর লালবাগ এলাকার রেললাইনের ধারে গড়ে উঠেছে একটি অস্থায়ী বস্তি, যা বর্তমানে পরিণত হয়েছে নীরব এক মাদকপল্লিতে। দিনে-দুপুরে প্রকাশ্যে বিক্রি হচ্ছে গাঁজা, হেরোইন, ইয়াবা ও স্থানীয় তৈরি মদ—সবই যেন প্রশাসনের চোখের সামনে।

সোমবার (৪ আগস্ট) সরেজমিনে রেলগেট থেকে রেলস্টেশন পর্যন্ত গিয়ে দেখা যায়, রেলপথ ঘেঁষে প্রায় ৩০০ পরিবারের বসবাস। অধিকাংশই নদীভাঙনের শিকার তিস্তাপাড়ের হতদরিদ্র মানুষ। কাজের অভাব, দারিদ্র্য ও পুনর্বাসনের উদ্যোগ না থাকায় অনেকে বাধ্য হয়ে জড়িয়ে পড়েছেন মাদক ব্যবসায়।

এক মাদক বিক্রেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, “পেটের দায়ে করছি ভাই, কাজ নাই, আয় নাই। সরকার চাইলে আমাদের জন্য কিছু করতে পারে।”

আরেক বাসিন্দা জানান, “নদীভাঙনে ঘর হারিয়ে এখানে ঠাঁই নিয়েছি। কোনো সাহায্য পাই না, তাই এই পথে নামতে হয়েছে।”

স্থানীয়রা জানান, মাদক বিক্রির কারণে আশপাশের শিশু-কিশোরদের ভবিষ্যৎ বিপন্ন হয়ে পড়েছে। স্কুলগামী শিক্ষার্থীদের মধ্যে মনোযোগের অভাব ও মাদক গ্রহণের প্রবণতা দেখা দিচ্ছে। শ্রমজীবী পরিবারগুলোতেও বিরাজ করছে চরম উদ্বেগ। অনেকেই অভিযোগ করছেন, প্রশাসনের একাংশ মাদকচক্রের কাছ থেকে নিয়মিত অর্থ গ্রহণ করায় কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না।

রংপুর সিটি কর্পোরেশনের এক কর্মকর্তা জানান, “রেললাইনের ধারে ভাসমান জনগোষ্ঠী নিয়ে কাজ চলছে। কিছু জটিলতা রয়েছে, তবে অচিরেই ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

মানবাধিকারকর্মীরা বলছেন, এই বস্তির শিশু ও নারীদের উন্নয়ন পরিকল্পনায় অন্তর্ভুক্ত না করা হলে রংপুর শহরের এই অঞ্চলটি অপরাধের ঘাঁটিতে পরিণত হবে। তারা সংশ্লিষ্ট প্রশাসন, স্থানীয় সরকার ও সামাজিক সংগঠনগুলোকে সম্মিলিতভাবে ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন

আরও খবর

Sponsered content