প্রচ্ছদ

কবে ফিরবে আজাদ?

  প্রতিনিধি ২ মে ২০১২ , ১১:০৩:৩২ প্রিন্ট সংস্করণ

তিন দিন আগে আজাদের বিয়ে হলো -এরই মাঝে দেশে যুদ্ধ শুরু হয়ে গেলো । নববিবাহিতা সায়রা । এখন ও তার হাতের মেহেদী শুকায়নি।

২৫শে মার্চ রাতে ঢাকাতে শুরু হলো হত্যাযজ্ঞ, যা সারা দেশে ছড়িয়ে পড়লো । এরই মাঝে বঙ্গবন্ধুকে এরেস্ট করে নিয়ে যাওয়া হলো করাচিতে । সেই রাতে বঙ্গবন্ধু চাইলেই পালিয়ে যেতে পারতেন। কিন্তু তিনি যে বঙ্গবন্ধু, জাতি কে বিপদে রেখে পালিয়ে যাবেন না তিনি । তিনি জানতেন তাঁকে না পেলে ওরা গোটা ঢাকা শহরের প্রতিটি বাড়িতে খুঁজবে, জ্বালিয়ে দেবে, নিরীহদের হত্যা করবে,
বঙ্গবন্ধু এরেস্ট হওয়ার আগেই স্বাধীনতার ঘোষনা দিয়ে গেলেন ।
পাকিস্থানি মিলিটারি নির্বিচারে শহরে গ্রামে হত্যা করতে থাকে নিরীহ নারী পুরুষ শিশু । জ্বালিয়ে দেয় গ্রামের পর গ্রাম । তরুনী থেকে বৃদ্ধা কেউই বাদ যায় না তাদের পাশবিক অত্যাচারের হাত থেকে।

আজাদ কি করবে? এক দিকে নববিবাহিতা স্ত্রীর প্রতি ভালোবাসা অন্য দিন দেশ মাতৃকার টান। দেশের স্বাধীনতার জন্য ছুটে যেতে হবে। কি করবে আজাদ? এখন ও বুঝতে পারতেছে না কি করা উচিত। ৭ ই মার্চের ভাসনে বঙ্গবন্ধুর কন্ঠের ভাসন কানে বাজতে লাগলো আজাদের। সেখানেই বঙ্গবন্ধু স্বাধীনতার ঘোষনা অনেকটাই দিয়ে দিয়েছিলেন। তাহলে কি যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়ার সময় চলে এসেছে ?
শেষ পর্যন্ত সীদ্ধান্ত নেয় যে- দেশকে স্বাধীন করে তার পর সে ফিরবে। সদ্য বিবাহিতা স্ত্রীর থেকে বিদায় নিয়ে আজাদ যায় মায়ের কাছে অনুমতির জন্য। আজাদের মা কিছুক্ষন চুপ করে ছিলেন। হটাৎ আজাদের চোখের দিকে তাকিয়ে বললেন। দেশ তোর আরেক মা। মুক্ত করে আনবি তুই তোর আরেক মা কে , এই মা অপেক্ষায় থাকবে ততদিন । যতদিন না দেশ মাতাকে মুক্ত করতে পারবি ততদিন ফিরবি না।
আজাদ মায়ের থেকে বিদায় নিয়ে চলে যায় যুদ্ধে। আজাদের যাওয়াটা দেখছে আর কাদঁছে আজাদের মা। কিন্তু সেই কান্না আজাদ কে দেখতে দিলো না। মায়ের চোখে পানি দেখার পরে আজাদ আর শক্ত থাকতে পারবে না।
গ্রামের আর ও কয়েক জন সহ চলে গেলো আজাদ আগরতলায়, সেখানে গেরিলা যুদ্ধের প্রশিক্ষন নিয়ে নিজ গ্রামের কাছাকাছি ফিরে এলো। তাদের যুদ্ধস্থল এই খানে ই ।

সেই দিন রাতে আজাদ সহ আর ও তিন জন ঘুমন্ত অবস্থায় ধরা পড়ে রাজাকারদের হাতে –
তাদের সামনে ই আর ও কয়েক জনকে লাইনে দাঁড় করিয়ে মেরে ফেলা হয় । এর পরে আজাদদের পালা । আজাদের সঙ্গে আর ও অচেনা অজানা অনেকে ই ছিলো ।
কয়েক মিনিটের মধ্যে ঘাতকদের ১৩টি স্বয়ংক্রিয় এলএমজি একসঙ্গে আজাদের ওপর গর্জে ওঠে। মুহূর্তের মধ্যে লাশের স্তূপে পরিণত হয়।
আজাদকে হত্যার পরের রাতে আজাদের বাড়িতে মিলিটারিরা হামলা চালায় রাজাকার-আলবদরের সহায়তায়।মেহেদীর রঙ আর রক্তের রঙ এক হয়ে যায় আজাদের স্ত্রী সায়রার । পাশবিক অত্যাচারের একটি রাত কাটায় –
সকালের ফজরের আগে জুলন্ত অবস্থায় পাওয়ার যায় সায়রার লাশ ।

যুদ্ধ শেষ হলো । একাকি আজাদের মা এখন ও বসে আছে ঘরের উনুনে ।
আজাদ ফিরবে বলে। আজাদ যে মাকে কথা দিয়েছে দেশ মাতাকে মুক্ত করে ফিরবে।
দেশমাতা যে আজ মুক্ত- তাহলে তো আজাদ ফেরার কথা।
মা পথ চেয়ে আছে আর ভাবছে , কবে ফিরবে আজাদ?
তবে কি দেশ মাতা আজ ও মুক্ত হয়নি? নাকি আজাদ ফিরবে না ?

 

লিখেছেন- এটিএম রাকিবুল বাসার

আরও খবর

Sponsered content