মোহাম্মদ হোসাইন, স্টাফ রিপোর্টার ১৪ জুন ২০২৬ , ১১:০০:৪৭ প্রিন্ট সংস্করণ
চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলায় নিজ ঘরে ঢুকে এক গৃহবধূ ও তার কিশোরী মেয়েকে নৃশংসভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। এ ঘটনায় ধারালো অস্ত্রের আঘাতে গুরুতর আহত হয়েছে পাঁচ বছর বয়সী এক শিশু। বর্তমানে সে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে।
শনিবার (১৩ জুন) দিবাগত রাত সাড়ে ১১টার দিকে উপজেলার পরৈকোড়া ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের চেনামতি বড়ুয়া পাড়া এলাকায় এ জোড়া হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।
নিহতরা হলেন স্থানীয় বাসিন্দা সুজন বড়ুয়ার স্ত্রী এনি বড়ুয়া (৪০) এবং তাদের মেয়ে প্রিয়ন্তী বড়ুয়া (১৬)। গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি রয়েছে তাদের পাঁচ বছর বয়সী ছেলে পিয়াস বড়ুয়া।
নিহত এনি বড়ুয়ার স্বামী সুজন বড়ুয়া চট্টগ্রাম নগরীর খাতুনগঞ্জ এলাকার একটি বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানে নিরাপত্তাকর্মী হিসেবে কর্মরত।
স্থানীয় ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, শনিবার রাতে সুজন বড়ুয়ার বাড়ি থেকে হঠাৎ চিৎকার ও গোঙানির শব্দ শুনতে পান প্রতিবেশীরা। পরে তারা ছুটে গিয়ে ঘরের সামনে রক্তাক্ত অবস্থায় এনি বড়ুয়া ও তার ছোট ছেলেকে পড়ে থাকতে দেখেন। এরপর ঘরের ভেতরে প্রবেশ করে প্রিয়ন্তী বড়ুয়ার রক্তাক্ত মরদেহ দেখতে পান।
প্রতিবেশী সুরভী বড়ুয়া বলেন, “চিৎকার শুনে আমরা দ্রুত ঘটনাস্থলে যাই। সেখানে মা ও ছেলেকে রক্তাক্ত অবস্থায় দেখতে পাই। পরে ঘরের ভেতরে গিয়ে মেয়েটির মরদেহ দেখতে পেয়ে পুলিশকে খবর দিই।”
স্থানীয়রা আহতদের দ্রুত হাসপাতালে নেওয়ার উদ্যোগ নিলে পথেই মারা যান এনি বড়ুয়া।
এদিকে হত্যাকাণ্ডের পেছনে আর্থিক বিরোধের ইঙ্গিত দিয়েছেন নিহতের স্বামী সুজন বড়ুয়া। তিনি দাবি করেন, প্রতিবেশী লিমন বড়ুয়া তেজপ্রিয়র সঙ্গে তার দীর্ঘদিন ধরে টাকা-পয়সা সংক্রান্ত বিরোধ চলছিল। সেই বিরোধের জের ধরে এ হত্যাকাণ্ড ঘটতে পারে। এছাড়া মৃত্যুর আগে তার স্ত্রী এনি বড়ুয়া ঘাতক হিসেবে লিমন বড়ুয়ার নাম উল্লেখ করেছিলেন বলেও দাবি করেন তিনি।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে আনোয়ারা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জুনায়েত চৌধুরী বলেন, “খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে মা ও মেয়ের মরদেহ উদ্ধার করেছে। মরদেহ দুটি ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে।”
তিনি আরও বলেন, “এই জোড়া হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটন এবং জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে পুলিশের একাধিক টিম কাজ করছে। এ ঘটনায় হত্যা মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।”
ঘটনার পর এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। পুলিশ হত্যার প্রকৃত কারণ উদঘাটনে তদন্ত অব্যাহত রেখেছে।




















