জাতীয়

রাষ্ট্রবিরোধী কর্মকাণ্ডে জড়াব না, মুচলেকায় বলেছিলেন পঞ্চম সাক্ষী

  প্রতিনিধি ২৯ জুন ২০২৬ , ৯:৫২:২০ প্রিন্ট সংস্করণ

র‍্যাবের টিএফআই সেলে গুম করে রাখার ঘটনায় বর্তমান ও সাবেক ১২ জন সেনা কর্মকর্তাসহ মোট ১৭ জন আসামির বিরুদ্ধে করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় পঞ্চম সাক্ষী বেসরকারি চাকরিজীবী মাহমুদুল হাসানকে জেরা করা হয়েছে। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এ সোমবার এই জেরা অনুষ্ঠিত হয়। আসামিপক্ষের আইনজীবীদের জেরার জবাবে সাক্ষী মাহমুদুল হাসান বলেন, কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইমে (সিটিটিসি) তিনি একটি মুচলেকা দিয়েছিলেন। সেই মুচলেকায় তিনি অঙ্গীকার করেছিলেন যে, ভবিষ্যতে আর কোনো রাষ্ট্রবিরোধী কর্মকাণ্ডে তিনি জড়িত থাকবেন না এবং স্বাভাবিক জীবন যাপন করবেন।

জেরার সময় সাক্ষী মাহমুদুল হাসানকে বিভিন্ন বিষয়ে প্রশ্ন করা হয়। জঙ্গিদের সঙ্গে জড়িত থাকার বিষয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রতিবেদন হয়েছিল কি না, তা তিনি বলতে পারবেন না বলে জানান। এছাড়া, নারী সদস্যদের রিক্রুট করতেন বলে সংবাদমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হওয়ার বিষয়েও তিনি কোনো তথ্য দিতে রাজি হননি। তিনি জেএমবির দক্ষিণ শাখার কমান্ডার ছিলেন বলে মূলধারার গণমাধ্যমে যেসব প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছিল, সে বিষয়েও তিনি কোনো মন্তব্য করতে পারেননি।

আসামিপক্ষের আইনজীবী মো. শাহীনুর ইসলামের জেরার মুখে মাহমুদুল হাসান স্বীকার করেন যে, তাঁর বিরুদ্ধে বর্তমানে যে তিনটি মামলা চলমান রয়েছে, সেসব মামলায় তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করা হয়েছে। তবে তিনি ভয়ের কারণে তদন্ত প্রতিবেদন প্রদানকারী কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে কোথাও কোনো প্রকার অভিযোগ দায়ের করেননি বলে আদালতে উল্লেখ করেন।

আওয়ামী লীগ সরকারের শাসনামলে র‍্যাবের টিএফআই সেলে গুম করে রাখার ঘটনায় করা এই মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার ১০ জন আসামি বর্তমানে ঢাকা সেনানিবাসের সাবজেলে রয়েছেন। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. জাহাঙ্গীর আলম, তোফায়েল মোস্তফা সারোয়ার, মো. কামরুল হাসান, মো. মাহাবুব আলম, কে এম আজাদ, কর্নেল আবদুল্লাহ আল মোমেন, আনোয়ার লতিফ খান (অবসর প্রস্তুতিমূলক ছুটিতে), লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. মশিউর রহমান, সাইফুল ইসলাম এবং মো. সারওয়ার বিন কাশেম। সোমবার তাঁদের কঠোর নিরাপত্তায় সাবজেল থেকে ট্রাইব্যুনালে এনে এজলাসে হাজির করা হয়।

এ মামলার বাকি সাতজন আসামি এখনো পলাতক রয়েছেন। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, তাঁর সাবেক উপদেষ্টা তারিক আহমেদ সিদ্দিক, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান, র‍্যাবের সাবেক মহাপরিচালক বেনজীর আহমেদ (যিনি পরে আইজিপি হয়েছিলেন), এম খুরশীদ হোসেন, মো. হারুন অর রশিদ এবং লেফটেন্যান্ট কর্নেল (অব.) মুহাম্মাদ খায়রুল ইসলাম।

আরও খবর

Sponsered content