প্রতিনিধি ১ জুলাই ২০২৬ , ১১:২৯:৩৯ প্রিন্ট সংস্করণ
২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপকে সামনে রেখে কানাডার ভ্যাঙ্কুভারে তৈরি হয়েছে ব্যতিক্রমী এক আকর্ষণ। শহরটিতে অবস্থিত সায়েন্স ওয়ার্ল্ড মিউজিয়ামের বিশাল গম্বুজকে বিশ্বকাপের অফিশিয়াল ম্যাচ বলের আদলে সাজিয়ে তৈরি করা হয়েছে ১৭ তলা ভবনের সমান উচ্চতার এক বিশাল ফুটবল। অনন্য এই স্থাপনাটি ইতোমধ্যে বিশ্বজুড়ে ফুটবলপ্রেমীদের নজর কেড়েছে।
ভ্যাঙ্কুভারের বিখ্যাত সায়েন্স ওয়ার্ল্ডের জিওডেসিক ডোম-ত্রিভুজাকার কাঠামোয় নির্মিত বিশেষ ধরনের গম্বুজ, সম্পূর্ণভাবে ঢেকে দেওয়া হয়েছে ২০২৬ বিশ্বকাপের অফিসিয়াল ম্যাচ বলের নকশায়। ফলে দূর থেকে পুরো ভবনটিকে এখন বিশাল এক ফুটবলের মতো দেখাচ্ছে।
এই ব্যতিক্রমী উদ্যোগের সূচনা হয়েছিল প্রায় দুই বছর আগে। ২০২৬ বিশ্বকাপের অন্যতম আয়োজক শহর হিসেবে ভ্যাঙ্কুভার কীভাবে নিজেকে ভিন্নভাবে উপস্থাপন করতে পারে, তা নিয়ে এক অনানুষ্ঠানিক আলোচনার সময় সায়েন্স ওয়ার্ল্ডের গোলাকার গম্বুজকে ফুটবলের রূপ দেওয়ার প্রস্তাব আসে।
প্রথমে বিষয়টি নিছক রসিকতা মনে হলেও পরে ক্রীড়া সামগ্রী নির্মাতা অ্যাডিডাস, স্থানীয় ব্যবসায়ী এবং সরকারি সংস্থাগুলোর সহযোগিতায় সেই ধারণাই বাস্তবে রূপ পায়।
বিশ্বকাপের কয়েকটি ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে ভ্যাঙ্কুভারের বিসি প্লেস স্টেডিয়ামে। স্টেডিয়ামের অদূরেই অবস্থিত সায়েন্স ওয়ার্ল্ডকে তাই বিশ্বকাপের প্রতীকী আকর্ষণে পরিণত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
তবে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন ছিল বেশ জটিল। ১৯৮৬ সালের ওয়ার্ল্ডস ফেয়ারের জন্য নির্মিত এই রুপালি গম্বুজটির কোনো আধুনিক ডিজিটাল নকশা ছিল না। প্রকৌশলীদের নির্ভর করতে হয়েছে স্থপতি ব্রুনো ফ্রেস্কির হাতে আঁকা পুরোনো ব্লুপ্রিন্টের ওপর।
পরে লেজার প্রযুক্তিসম্পন্ন ড্রোন দিয়ে গম্বুজটির প্রতিটি অংশের নিখুঁত পরিমাপ নেওয়া হয়। পরীক্ষায় দেখা যায়, প্রতিটি প্যানেলের আকারে সামান্য পার্থক্য রয়েছে। এরপর বিশেষভাবে তৈরি নমনীয় ও তীব্র বাতাস-সহনশীল রঙিন প্যানেল নম্বর অনুযায়ী একে একে বসানো হয় পুরো গম্বুজজুড়ে। এভাবেই স্থাপনাটি বিশ্বের সবচেয়ে বড় ফুটবলসদৃশ স্থাপনাগুলোর একটিতে পরিণত হয়েছে।
বিশ্বকাপের লোগো ও ট্রফির নকশা এমনভাবে স্থাপন করা হয়েছে, যাতে একটি ফ্রেমেই সায়েন্স ওয়ার্ল্ড, বিসি প্লেস স্টেডিয়াম, ভ্যাঙ্কুভারের স্কাইলাইন, জলরাশি এবং পেছনের পাহাড় একসঙ্গে ধরা পড়ে।
ফলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এই অনন্য দৃশ্যের ছবি ও ভিডিও দ্রুত ছড়িয়ে পড়েছে। অনেক পর্যটক ও ফুটবলপ্রেমী এখন শুধু এই বিশাল ফুটবলের সঙ্গে ছবি তুলতেই ভিড় করছেন।
বিশ্বকাপের আবহ শুধু মিউজিয়ামের বাইরেই সীমাবদ্ধ নয়। ভেতরেও রাখা হয়েছে ফুটবলভিত্তিক বিশেষ প্রদর্শনী।
প্রথমবারের মতো সুইজারল্যান্ডের জুরিখের বাইরে সায়েন্স ওয়ার্ল্ডে আয়োজন করা হয়েছে ফিফার ‘সকার অ্যান্ড টেকনোলজি’ প্রদর্শনী। পাশাপাশি দর্শনার্থীদের জন্য প্রদর্শিত হচ্ছে কানাডার ফুটবল ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ স্মারক।
এসবের মধ্যে রয়েছে টোকিও অলিম্পিকে কানাডার স্বর্ণজয়ী অধিনায়ক ক্রিস্টিন সিনক্লেয়ারের পরা ম্যাচের জার্সি এবং ২০২২ কাতার বিশ্বকাপে কানাডার হয়ে আলফোনসো ডেভিসের করা ঐতিহাসিক প্রথম বিশ্বকাপ গোলের ম্যাচ বল।
২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপকে ঘিরে ভ্যাঙ্কুভারের এই সৃজনশীল উদ্যোগ শুধু শহরের সৌন্দর্যই বাড়ায়নি, বরং বিশ্বকাপের উন্মাদনাকে আরও প্রাণবন্ত করে তুলেছে। স্থানীয় কর্তৃপক্ষের আশা, এই বিশাল ফুটবলসদৃশ স্থাপনাটি টুর্নামেন্ট চলাকালীন বিশ্বের অন্যতম আলোচিত দর্শনীয় স্থানে পরিণত হবে।














