নওগাঁ প্রতিনিধি: ৩ জুলাই ২০২৬ , ১২:৩৫:৪১ প্রিন্ট সংস্করণ
নওগাঁর মান্দা উপজেলার পরানপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের এক নারী শিক্ষিকাকে কুপ্রস্তাব, হেনস্তা, ব্ল্যাকমেইল ও প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগে আলোচিত সহকারী শিক্ষক (গণিত) জিয়াউর রহমান (জিয়া)-এর বিরুদ্ধে পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে উপজেলা প্রশাসন। একই সঙ্গে বিধি অনুযায়ী তাকে দুই দফা কারণ দর্শানোর (শোকজ) নোটিশ দেওয়া হয়েছে।
অভিযোগের পর বিদ্যালয় থেকে সাময়িক বরখাস্ত হওয়া ওই শিক্ষক বর্তমানে পলাতক রয়েছেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) উপজেলা প্রশাসন অভিযোগের সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের স্বার্থে এ কমিটি গঠন করে। এর আগে গত ২১ জুন ভুক্তভোগী নারী শিক্ষিকা মান্দা থানায় অভিযুক্ত শিক্ষকের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন। মামলার পর থেকেই অভিযুক্ত শিক্ষক আত্মগোপনে রয়েছেন বলে পুলিশ জানিয়েছে।
মান্দা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আখতার জাহান সাথী বলেন, অভিযোগটি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। সুষ্ঠু তদন্ত নিশ্চিত করতে পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। পাশাপাশি অভিযুক্ত শিক্ষককে দুই দফা কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে বিধি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, প্রায় এক বছর ধরে বিভিন্ন অজুহাতে ওই নারী শিক্ষিকাকে অনৈতিক প্রস্তাব দিয়ে আসছিলেন অভিযুক্ত শিক্ষক। প্রস্তাবে সাড়া না দেওয়ায় তাকে ভয়ভীতি প্রদর্শন, সামাজিক ও পেশাগতভাবে ক্ষতির হুমকি এবং ব্ল্যাকমেইল করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিদ্যালয়ে একটি সালিস বৈঠকও অনুষ্ঠিত হয়েছিল। সে সময় অভিযুক্ত শিক্ষক ক্ষমা চাইলেও পরে আবারও একই ধরনের আচরণ শুরু করেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
ভুক্তভোগী শিক্ষিকার অভিযোগ অনুযায়ী, গত ১০ জুন বিদ্যালয়ের একাডেমিক ভবনের তৃতীয় তলার বারান্দায় নবম শ্রেণির ক্লাসে যাওয়ার সময় শিক্ষার্থীদের সামনেই তার পথরোধ করে হেনস্তা করেন জিয়াউর রহমান। পরে প্রধান শিক্ষক এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। এর এক সপ্তাহ পর বিদ্যালয়ের সামনে প্রকাশ্যে তাকে জুতাপেটার চেষ্টা করা হয়। অন্য শিক্ষকরা এগিয়ে এলে বড় ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা এড়ানো সম্ভব হয়।
পরবর্তীতে ভুক্তভোগী শিক্ষিকা থানায় মামলা দায়ের করেন। তার অভিযোগ, মামলা করার পর থেকে মোবাইল ফোন ও অনলাইনের মাধ্যমে তাকে এবং তার পরিবারের সদস্যদের নিয়মিত ভয়ভীতি, ব্ল্যাকমেইল ও প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হচ্ছে। এ কারণে তিনি নিজের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
ঘটনার প্রতিবাদে পরানপুর উচ্চ বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও স্থানীয় বাসিন্দারা মানববন্ধন ও বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেন। বক্তারা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে দ্রুত ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আব্দুল ওয়াহেদ বলেন, অভিযোগ ওঠার পর বিষয়টি প্রতিষ্ঠান থেকে সমাধানের চেষ্টা করা হয়েছিল। কিন্তু অভিযুক্ত শিক্ষক আচরণ পরিবর্তন না করায় ভুক্তভোগী শিক্ষিকা আইনের আশ্রয় নেন। পরে বিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। তদন্তে অভিযোগ প্রমাণিত হলে তার বিরুদ্ধে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
মান্দা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খোরশেদ আলম বলেন, ভুক্তভোগী শিক্ষিকার দায়ের করা মামলা তদন্তাধীন রয়েছে। অভিযুক্ত শিক্ষক পলাতক থাকায় তাকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে তার বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
এদিকে তদন্ত কমিটি গঠন ও প্রশাসনিক কার্যক্রম শুরু হওয়ায় ভুক্তভোগী শিক্ষিকা এবং স্থানীয়দের মধ্যে কিছুটা স্বস্তি ফিরে এসেছে। তারা দ্রুত তদন্ত সম্পন্ন করে দোষী ব্যক্তির বিরুদ্ধে দৃশ্যমান ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।





















