জাতীয়

গাজী নজরুলের সঙ্গে সম্পর্কে জড়ানোর মূল হোতা কে, জানালেন মরিয়মের বাবা

  প্রতিনিধি ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ , ২:১৯:৫৫ প্রিন্ট সংস্করণ

সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুলের সঙ্গে সম্পর্কে জড়ানোর মূল হোতা হিসেবে শ্যালক ওবায়দুর রহমানকে দায়ী করেছেন এমপির দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়মের বাবা মাসুম বিল্লাহ। তিনি বলেছেন, ‘আজকের এই পরিস্থিতির জন্য আমার শ্যালক ওবায়দুর দায়ী। এই রাস্তায় সে নিয়ে আসছে। টাকার লোভে জড়িয়ে আত্মাহত্যায় প্ররোচিত করেছে।’

আজ সোমবার বেলা ১১টার দিকে রাজধানীর শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।

এদিন সকাল থেকে সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল মর্গে মেয়ের লাশের জন্য বসেছিলেন মাসুম বিল্লাহ দম্পতি। মেয়েকে সদ্য হারিয়ে বাবা কখনো কাঁদছেন, কখনো শান্ত ভঙ্গিতে কথা বলছেন সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে।

মরিয়মের বাবা বলেন, ‘আমি চাই সঠিক তদন্ত, ন্যায় বিচারটা যে পাই; প্রকৃত দোষী যেন শাস্তি পায়।’

মেয়ের সঙ্গে শেষ কী কথা হয়েছিল-জানতে চাইলে মাসুম বিল্লাহ বলেন, ‘আমার সঙ্গে কথা কম হতো, তবে এমপির সঙ্গে সবসময় কথা হতো, পাশে থাকতো; কথা বলতে গেলে ও কথা বলতো না।’

এ ঘটনার জন্য নিজের শ্যালক ওবায়দুরকে দায়ী করে মাসুম বিল্লাহ বলেন, ‘মেয়ে সব সময় বলত, ‘আমি বাইরে মুখ দেখাব কিভাবে। সে আমার মামা, আমার এত বড় ক্ষতি করবে আমি বুঝতে পারিনি। আমাকে মাফ করে দেন, আমি বাপের থেকে তাকে বেশি বিশ্বাস করতাম। বিশ্বাস করে আজকে আমি ওই পরিণতি ভোগ করতেছি। মেয়ে এসব বলতো আর আমার পা জড়ায় কানতো।’

তিনি বলেন, ‘ওবায়দুলকে খুব বিশ্বাস করে আজকে ওর এই পরিণতি। ওই ঘটনা না ঘটলে ওরে এমপি হোস্টেলে আইসা থাকা লাগে না, তাহলে এই ঘটনাও ঘটতো না।’

প্রসঙ্গত, দুই স্ত্রীকে নিয়ে ন্যাম ভবনে বসবাস করছিলেন সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলাম। রোববার সন্ধ্যায় ৫ নম্বর বিল্ডিংয়ের ২০৩ নম্বর ফ্লাট থেকে মরিয়ম খাতুনের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। ঘটনার সময় ফ্ল্যাটেই ছিলেন গাজী নজরুল ইসলাম ও তার প্রথম স্ত্রী মাকসুদা বেগম। পরবর্তীতে তাদের পুলিশি হেফাজতে নেওয়া হয়।

ঘটনাস্থল থেকে আলামত সংগ্রহ করেছে পুলিশ ও সিআইডির ক্রাইম সিন ইউনিট। এ সময় মরিয়ম খাতুনের হাতে লেখা বেশ কয়েকটি চিঠিও উদ্ধার করেছে পুলিশ।

রাতেই আত্মহত্যার প্ররোচনার অভিযোগে সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলাম, তার স্ত্রী মাকছুদা ইসলাম ও নিহতের মামা ওবায়দুর রহমানের বিরুদ্ধে মামলা করেন মরিয়মের বাবা এস এম মাসুম বিল্লাহ।

এর আগে গত ২০ জুলাই গাজী নজরুল ইসলাম ও মরিয়ম খাতুনের অন্তরঙ্গ ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। পরে নজরুল ইসলামকে দল থেকে বহিষ্কার করে জামায়াতে ইসলামী।

আরও খবর

Sponsered content