প্রতিনিধি ১২ অক্টোবর ২০২৬ , ১২:২২:২৫ প্রিন্ট সংস্করণ
ভারতের ভোটার তালিকা সংশোধন নিয়ে বিতর্ক ও প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে ছড়িয়ে পড়া বিক্ষোভের জেরে রাজধানী দিল্লিতে ছয়টি মেট্রো স্টেশন বন্ধ করে দিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
আজ সোমবার সুপ্রিম কোর্টের উদ্দেশে বিরোধী দলগুলোর মিছিলের পরিকল্পনাকে কেন্দ্র করে শহরের ২০টির বেশি সড়কে যান চলাচলে বিধিনিষেধ ও পথ পরিবর্তনের ব্যবস্থা করা হয়েছে। বার্তাসংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানা যায়।
ভোটার তালিকা সংশোধনের প্রতিবাদে ভারতের প্রধান বিরোধী দল কংগ্রেসসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দল এবং ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (সিজেপি) নামে পরিচিত একটি তরুণ আন্দোলনের সমর্থকেরা চলতি মাসে প্রায় প্রতিদিনই বিক্ষোভ করছেন। তাদের দাবি, প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে পদত্যাগ করতে হবে। সমালোচকদের অভিযোগ, ভোটার তালিকা সংশোধনের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি) সুবিধা পাচ্ছে।
গত বছর শুরু হওয়া ভোটার তালিকা যাচাই ও সংশোধন কার্যক্রমে প্রায় ১৩ কোটি নাম বাদ দেওয়া হয়েছে। বাদ পড়াদের মধ্যে মৃত ব্যক্তি, অন্যত্র চলে যাওয়া ব্যক্তি এবং যাদের খুঁজে পাওয়া যায়নি এমন ভোটারেরা রয়েছেন বলে দাবি বিজেপির। নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, বাদ পড়া নামের মধ্যে প্রায় ২ কোটি ৮০ লাখ মৃত ব্যক্তি, ৬ কোটি ৩০ লাখ অন্যত্র স্থানান্তরিত ব্যক্তি এবং ৩ কোটি এমন ব্যক্তি রয়েছেন, যাদের সন্ধান পাওয়া যায়নি।
সুপ্রিম কোর্টের উদ্দেশে কংগ্রেসের মিছিল
সোমবার সুপ্রিম কোর্টের উদ্দেশে মিছিল করে প্রধান বিচারপতির কাছে স্মারকলিপি দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে কংগ্রেস। দলটির দাবি, ‘ভোট চুরি’ বন্ধ করতে হবে এবং প্রধান নির্বাচন কমিশনারকে পদত্যাগ করতে হবে।
কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে লিখেছেন, ‘তরুণসমাজ, সব বিরোধী দল, নাগরিক সমাজের সংগঠন এবং গণতন্ত্রে বিশ্বাসী ও ভারতের সংবিধানের পক্ষে থাকা সবাই আমাদের সঙ্গে হাঁটবেন।’
তবে প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত ই-মেইলের মাধ্যমে রাহুল গান্ধী ও কংগ্রেসের প্রতিনিধিদলের সঙ্গে বৈঠকের অনুরোধ নাকচ করেছেন বলে জানিয়েছে কংগ্রেসের একটি সূত্র। সূত্রটির ভাষ্য অনুযায়ী, প্রধান বিচারপতি বলেছেন, বিষয়টি ইতিমধ্যে আদালতে বিচারাধীন। তাই বৈঠকের পরিবর্তে আইনগত প্রক্রিয়ায় আদালতের দ্বারস্থ হওয়া উচিত।
এদিকে সিজেপি জানিয়েছে, শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভের তারিখ নির্ধারণের দাবিতে তাদের নেতারা দিল্লি পুলিশের সঙ্গে দেখা করবেন। ২৪ ঘণ্টার মধ্যে বিক্ষোভের তারিখ না দেওয়া হলে নতুন কর্মসূচি ঘোষণা করার হুমকিও দিয়েছে সংগঠনটি।
দিল্লিতে আটক হাজারো বিক্ষোভকারী
সপ্তাহান্তে দিল্লিতে হাজারো বিক্ষোভকারীকে আটক করেছে পুলিশ। তাদের মধ্যে সিজেপির নেতারাও রয়েছেন। তরুণ আন্দোলনের সমর্থকেরা মিছিল নিয়ে এগোতে চাইলে বিপুলসংখ্যক নিরাপত্তাকর্মী তাদের বাধা দেন। এ সময় দিল্লির কেন্দ্রীয় অংশে কঠোর নিরাপত্তাব্যবস্থা জারি করা হয়।
সোমবারও নিরাপত্তার কারণ দেখিয়ে ছয়টি মেট্রো স্টেশন বন্ধ রাখা হয়েছে। পাশাপাশি শহরের ২০টির বেশি সড়কে যান চলাচল নিয়ন্ত্রণ ও বিকল্প পথের ব্যবস্থা করা হয়েছে।
সরকারি স্কুলের অবকাঠামো থেকে শুরু করে কর্মসংস্থানসহ বিভিন্ন ইস্যুতে গত কয়েক মাস ধরে আন্দোলন করে আসছে তরুণদের এই সংগঠন। গত ১২ বছর ধরে ক্ষমতায় থাকা মোদি ও তার বিজেপির জন্য আন্দোলনটি অন্যতম বড় রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠেছে।
১৩ কোটি নাম বাদ দেওয়া নিয়ে বিতর্ক
গত মাসে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, ভোটার তালিকা সংশোধন, নিবন্ধন পদ্ধতি ও ডিজিটাল ব্যবস্থা নিয়ে নির্বাচন কমিশনের দুই উপপ্রধান অভ্যন্তরীণভাবে বেশ কিছু উদ্বেগ প্রকাশ করেছিলেন। এরপর ভোটার তালিকা সংশোধন নিয়ে বিতর্ক আরও জোরালো হয়।
বিরোধী দলগুলোর অভিযোগ, বাদ পড়া ভোটারদের মধ্যে মুসলিমসহ অন্যান্য সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মানুষ তুলনামূলকভাবে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। তাদের দাবি, এসব সম্প্রদায়ের ভোটাররা হিন্দুত্ববাদী শাসক দল বিজেপিকে সমর্থন করার সম্ভাবনা কম।
তবে নির্বাচন কমিশন এ অভিযোগ অস্বীকার করে জানিয়েছে, কোনো রাজনৈতিক দলকে সুবিধা দেওয়ার উদ্দেশ্যে ভোটার তালিকা সংশোধন করা হয়নি। ভুলবশত যাদের নাম বাদ পড়েছে, তারা পুনরায় ভোটার হিসেবে নিবন্ধিত হতে পারবেন।
বিজেপিও বিরোধীদের অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে। দলটির দাবি, বৈধ নির্বাচনী প্রক্রিয়াকে প্রশ্নবিদ্ধ করে বিরোধীরা দেশের গণতন্ত্রকে দুর্বল করার চেষ্টা করছে।





















