মোঃ রাশেদ মিয়া ৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৫ , ১১:১০:৪৩ প্রিন্ট সংস্করণ
একদিকে যমুনার নাব্যতা সংকট, অন্যদিকে গত কয়েক দিনের অতিরিক্ত ঠান্ডার ফলে প্রায় মাছশূন্য হয়ে পরেছে পূর্ব বগুড়াখ্যাত সারিয়াকান্দির মাছের আড়ৎগুলো। সরেজমিনে গেলে, স্থানীয় জেলেরা এমনটাই দাবি করেছেন।
মাছ আহোরণ করতে না পারায় অন্য পেশা বেছে নিচ্ছেন বেশিরভাগ জেলে। বৈদ্যুতিক শক এবং চায়না দুয়ারি জাল ব্যবহারে সারিয়াকান্দির প্রাচীন মৎস্যকূল ধ্বংসের পথে বলে মন্তব্য করেছেন এলাকাবাসী।
বগুড়ার সারিয়াকান্দি উপজেলা যমুনা এবং বাঙালি নদীবিধৌত হওয়ার ফলে এ উপজেলার অর্থনৈতিক মানদণ্ড কৃষি এবং মৎস্যের উপর অধিক নির্ভরশীল। তবে যমুনা নদীর নাব্যতা সংকটের জন্য গত কয়েকমাস ধরে যমুনায় কাঙ্খিত পানি না থাকায় নদীতে মাছ পাচ্ছেন না জেলেরা। অপরদিকে কয়েকদিনের মাঝারি শীতে মাঝিরা যমুনায় নামতে পারছেন না। যমুনার মাছ কেন্দ্র করে এ উপজেলায় নদী তীর ঘেষে গড়ে উঠেছে ২ টি মাছের আড়ৎ। এর মধ্যে একটি পৌর এলাকার কালিতলা নৌঘাটে এবং অপরটি কর্ণিবাড়ী ইউনিয়নের দেবডাঙ্গা মাছের আড়ৎ।
গত কয়েকদিন ধরেই এই আড়ৎগুলো মাছশূন্য হয়ে পরেছে। কালিতলা নৌঘাটের মাছের আড়ৎ এ আগে যেখানে প্রতিদিন ৭ লাখ টাকার বেশি মাছ বিক্রি হতো এখন সেখানে মাত্র ৪০ হাজার টাকার মাছ বিক্রি হচ্ছে। অপরদিকে দেবডাঙ্গা মাছের আড়ৎ এ ৪ টি ঘরে আগে সকাল এবং দুপুরে ৯ থেকে ১০ লাখ টাকার মাছ বিক্রি হতো, এখন সেখানে দুইবেলা মিলে মাত্র ৬০ হাজার টাকার মাছ বিক্রি হচ্ছে। এদিকে নদীতে মাছ কম পাওয়ার জন্য মাছের দামও বৃদ্ধি পেয়েছে। এখানে ৩ কেজি ওজনের বোয়ালমাছ ১২ শ টাকা কেজি, আড়াই কেজি ওজনের ভেউস ১৪ শ টাকা কেজি এবং ২০ কেজি ওজনের আইড়মাছ ১৮ শ টাকা কেজিতে বিক্রি হয়েছে। তবে বুধবার সকালে ১৩ কেজি ওজনের একটি কাতলা মাছ ১১ শ টাকা কেজিতে বিক্রি হয়েছে।
নদীতে পানি না থাকায় সরেলী, বৌ মাছ, বাইন মাছ, চিংড়ি, মলাসহ বেশকিছু প্রজাতির দেশীমাছ একেবারেই পাওয়া যাচ্ছে না। মাছ না পাওয়ায় অনেকদূর থেকে আসা ক্রেতারা খালিহাতে ফেরত যাচ্ছেন। কয়েকজন ক্রেতাদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, বিদ্যুৎ শক, চায়না দুয়ারি জাল এবং কারেন্ট জাল দিয়ে অবাধে মাছ শিকারের কারণেও উপজেলার নদীগুলো মাছশূন্য হয়ে পরেছে।
যমুনার মাঝি নিতাই বলেন, যমুনায় পানি না থাকায় একেবারেই মাছ ধরা পরছে না। তাই প্রচন্ড শীত উপেক্ষা করে আমরা জলে নামছি না। কাঙ্খিত মাছ পেলে আমরা শীত উপেক্ষা করেই জলে নামতাম। মাছ না পাওয়ায় আমাদের কেউ এখন অন্য পেশা বেছে নিচ্ছেন।
দেবডাঙ্গা মাছের আড়ৎ এ মাছ কিনতে আসা একজন ক্রেতা জানান, অনেকদূর থেকে তিনি যমুনা নদীর মাছ কিনতে এসেছিলেন। মাছ না পেয়ে খালিহাতে ফেরত যাচ্ছেন। তিনি বলেন, একদিকে যমুনার নাব্যতা সংকট, অপরদিকে বিদ্যুৎ শক এবং চায়না দুয়ারি জাল দিয়ে মাছ শিকারের জন্য নদীর মাছ কমে যাচ্ছে। এর বিরুদ্ধে এখনি পদক্ষেপ না নিলে দেশে একসময় দেশীয় মাছের বিলুপ্তি ঘটবে।
এ আড়ৎ এর আড়ৎদার জাহাঙ্গীর আলম বলেন, মাছ না থাকায় আমাদের ব্যবসা চালানোই মুশকিল হয়ে পরেছে। আগে যেখানে প্রতিদিন ৩ লাখ টাকার মাছ বিক্রি করতাম, এখন সেখানে ২০ হাজার টাকার মাছ বিক্রি করাও কঠিন। বুধবার দুপুরে মাত্র ২১শ টাকার মাছ বিক্রি করেছি। ব্যবসা না হওয়ায় পরিবার পরিজন নিয়ে খুবই কষ্টে আছি।
সারিয়াকান্দি উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা বলেন, আমি এ উপজেলায় সবেমাত্র যোগদান করেছি। বিদ্যুৎ শক এবং চায়না দুয়ারি জাল বন্ধে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হবে।




















