মোঃ সাকিব চৌধুরী, স্টাফ রিপোর্টার ৩ ডিসেম্বর ২০২৫ , ৮:৩১:৪৬ প্রিন্ট সংস্করণ
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী নায়েবে আমির অধ্যাপক মুজিবুর রহমান বলেছেন, “জুলাই আন্দোলনের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের মানুষ দ্বিতীয় স্বাধীনতা পেলেও যুদ্ধ এখনো শেষ হয়নি — আরেকটা যুদ্ধ বাকি, ইসলাম কায়েম করার যুদ্ধ।”
তিনি বলেন, “বদর, উহুদ ও খন্দকের প্রেরণায় সাহাবায়ে কেরাম যেভাবে কোরআনের আইন প্রতিষ্ঠা করেছেন, আমরাও তেমন সাহস ও ত্যাগের মধ্য দিয়ে আল্লাহর আইনের জন্য সংগ্রাম করব, ইনশাআল্লাহ।”
বুধবার (৩ ডিসেম্বর) বিকেলে রংপুর কালেক্টরেট ঈদগাহ ময়দানে অনুষ্ঠিত আট দলের বিভাগীয় সমাবেশে সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। এই সমাবেশটি জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে গণভোটসহ আট দলের পাঁচ দফা দাবির অংশ হিসেবে অনুষ্ঠিত হয়।
১. জাতীয় নির্বাচনের আগে গণভোট আয়োজন,
২. জাতীয় সংসদের উভয় কক্ষে সংখ্যানুপাতিক প্রতিনিধিত্ব (PR) পদ্ধতি চালু করা,
৩. সবার জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করে ‘লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড’ তৈরি,
৪. জুলুম, নির্যাতন, গণহত্যা ও দুর্নীতির বিচারের দৃশ্যমান অগ্রগতি,
৫. জাতীয় পার্টি ও ১৪ দলের কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষণা।
অধ্যাপক মুজিবুর রহমান বলেন, “মানুষের কল্যাণের জন্য রাজনীতি করতে হবে। ব্যক্তিক স্বার্থ, দুর্নীতি, চাঁদাবাজি ও ক্ষমতার অপব্যবহার থেকে বিরত থাকতে হবে। ৫৪ বছর ধরে নানা সরকার এসেছে, কিন্তু তারা জনগণের প্রকৃত কল্যাণের জন্য কাজ করেনি— নিজের বা দলের স্বার্থেই রাজনীতি করেছে।”
তিনি বলেন, “আমরা চাই, আমাদের রাজনীতি হবে দুনিয়ার কল্যাণের সঙ্গে আখিরাতেরও কল্যাণ অর্জনের হাতিয়ার। আল্লাহর আইন বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজন হলে আমরা জীবন দিতেও প্রস্তুত।”
একটি কোরআনের আয়াত উদ্ধৃত করে তিনি ইসলামি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার জন্য চারটি মূল দায়িত্বের কথা উল্লেখ করেন— নামাজ কায়েম, যাকাত ব্যবস্থা বাস্তবায়ন, ভালো কাজ প্রতিষ্ঠা এবং অন্যায় কাজ বন্ধ করা। “এই চারটি কর্মপদ্ধতি অনুসরণ করেই কোরআনের আইন প্রতিষ্ঠা করতে হবে,” বলেন তিনি।
অধ্যাপক মুজিবুর রহমান বলেন, “২০১৪ সালে বিনাভোটে নির্বাচন হয়েছে, ২০১৮ সালে দিনের ভোট রাতে হয়েছে, আর ২০২৪ সালে ভোটকেন্দ্রে মানুষই যায়নি। সাংবাদিকরা লিখেছেন— ভোটের কেন্দ্রে কুকুর শুয়ে আছে, মানুষ নেই। এ ধরনের নির্বাচন আমরা দেশে আর চলতে দেব না। ভোটের চরিত্র পরিবর্তনের জন্য গণভোট জরুরি।”
তিনি আরও বলেন, “গণভোট মানে জনগণের মতামত সরাসরি প্রকাশ। যারা গণভোটের বিরোধিতা করছে, তারা জনগণের ভয় পাচ্ছে। আমরা গণভোটে ‘হ্যাঁ’য়ের পক্ষে জয় নিশ্চিত করব, ইনশাআল্লাহ।”
জামায়াতের এই শীর্ষ নেতা বলেন, “বাংলাদেশে যারা চোর-ডাকাত, ছিনতাইকারী ও শরিয়তের আইনে অবিশ্বাসী—তাদের আগামীতে এ মাটিতে কোনো জায়গা হবে না। আওয়ামী লীগ যদি নিষিদ্ধ হয়, তাহলে যারা তাদের সহযোগী—তারাও সমভাবে দায়ী।”
তিনি আশা প্রকাশ করেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা সঠিক সিদ্ধান্ত নিয়ে জনগণের আস্থা পুনরুদ্ধারে কার্যকর ভূমিকা রাখবেন।
এ সময় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমির মুফতি সৈয়দ রেজাউল করীম।
এছাড়া বক্তব্য রাখেন জামায়াতে ইসলামী নায়েবে আমির এটিএম আজহারুল ইসলাম, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের সিনিয়র নায়েবে আমির মাওলানা ইউসুফ আশরাফ, নায়েবে আমির মাওলানা আহমদ আলী কাসেমী, সাংগঠনিক সম্পাদক শেখ সালাহউদ্দিন, নেজামে ইসলামের সিনিয়র নায়েবে আমির মাওলানা আব্দুল মাজেদ আতহারী, খেলাফত আন্দোলনের নায়েবে আমির মাওলানা মুজিবুর রহমান হামিদী, জাগপার মুখপাত্র ইঞ্জিনিয়ার রাশেদ প্রধান, বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টির চেয়ারম্যান আনোয়ারুল ইসলাম প্রমুখ।
বক্তারা ইসলামী মূল্যবোধভিত্তিক ন্যায়পরায়ণ সমাজ গঠনের শপথ নিয়ে সমাবেশ শেষে শান্তিপূর্ণভাবে ময়দান ত্যাগ করেন।




















